• আজ রবিবার, ১৩ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ২৮ নভেম্বর, ২০২১ ৷

চাঁদপুরে লঞ্চে অনৈতিক কার্যক্রম রোধে নিয়মিত টহলে থাকবে নৌ-পুলিশ

Chadpur
❏ শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ চট্টগ্রাম

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি: চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী লঞ্চগুলোতে অনৈতিক কার্যকলাপ রোধে নৌ-পুলিশের নিয়মিত টহল থাকবে বলে জানিয়েছেন সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল স্নিগ্ধা সরকার।

এছাড়াও লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী হয়রানি ছাড়াও কোন প্রকারের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

চাঁদপুরে লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে গত বৃহস্পতিবার রাতে এক ঝটিকা অভিযানে এসব কথা জানান তিনি। অভিযানে ২১ জনকে আটক করা হলেও পরবর্তীতে মুচলেকা রেখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সার্কেল স্নিগ্ধা সরকার বলেন, ‘টার্মিনালে যাত্রীদের ব্যাগ ধরে টানাটানি করা যাবে না। যাত্রী কোন যানবাহনে যাবেন সে সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নিবেন। এ ধরনের হয়রানীসহ যে কোন হয়রানী রোধে পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে। যাত্রী হয়রানি বন্ধে চাঁদপুর লঞ্চঘাটকে ওয়ান ওয়ে করা হবে। কোন চালক লঞ্চঘাটে চিৎকার চেচামেচি করতে পারবে না। চালকরা তাদের নির্দিষ্ট স্থানে থাকবে। আর যাত্রীরা তাদের গন্তব্যে অনুযায়ী চালকদের বেছে নিবে। যার যার অবস্থান থেকে সকলকে কাজ করতে হবে’।

তিনি আরো বলেন, ‘ইজারা তোলার নিদিষ্ট স্থান থাকতে হবে। এখানে অনেক দুষ্কৃতকারী রয়েছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।রেজিস্ট্রেশনবীহিন অটো-রিকশা, সিএনজি ঘাটে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

‘সিএনজির চালকদের ও টার্মিনালের কুলিদের নিদিষ্ট পোশাক থাকতে হবে। পোশাকবীহিন লেবাররা ঘ্যাংওয়েতে প্রবেশ করতে পারবে না।অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে’।

এসময় তিনি সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আরও বলেন, অনেকদিন ধরে লঞ্চে এবং ঘাটে যাত্রীদের হয়রানীর বিষয়ে নানান অভিযোগ আসছিলো। সিএনজি ড্রাইভার যারা আছে, তারা অযাচিতভাবে যাত্রীদের জিনিসপত্র টানাটানি করে এবং রিসিট ছাড়া অনেকেই চাঁদা আদায় করে’।

‘সেজন্যে প্রায় ২০-২৫ দিন আগে সবষ্ট্রেক হোল্ডার নিয়ে আমরা একটি সভা করেছিলাম সিএনজি ড্রাইভার থেকে শুরু করে ইজারাদার ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের নিয়ে।সভায় আমরা তাদেরকে কিছু ইন্সষ্ট্রাকশন দিয়ে ছিলাম যে পোশাক পড়ার জন্য’।

‘আর যারা কুলি বা ইজারাদার তারা নির্দিষ্ট স্থান থেকে ইজারা সংগ্রহ করবে। কিন্তু তারা সেটা মানেনি এবং আমরা বলেছিলামও আমরা আপনাদেরকে ৭ দিন সময় দিচ্ছি তারপর থেকে আমরা অভিযান করবো’।

‘আমরা ৭ দিনের চেয়েও বেশি প্রায় ১৫ দিন সময় দিয়েছি অথচ তারা তাদের সেই আচরণই বজায় রেখেছে। তারা নিয়মিত একই কাজ করছে এবং যাত্রীদের জিনিসপত্র নিয়ে টানাটানি করছে যার কারণে আজকের এই অভিযান। লঞ্চঘাটকে দালালমুক্ত এবং হয়রানিমুক্ত করার আগ পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে’।

অভিযানে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাসিম উদ্দিন, পুলিশ পরিদর্শক (তদস্ত) হারুনুর রশিদ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সাইফুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি)’র এসআই অনুপসহ চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ,জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যগণ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।