🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের ভূমি অফিস: ঘুষ ছাড়া নড়েনা ফাইল!

ভূমি অফিস
❏ শনিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২০ ফিচার

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি- ভুমি অফিসে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতে সরকারের প্রচেষ্ঠার শেষ নেই। তথ্যসেবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেবা এখন পাওয়া যায় অনলাইনে। কিন্তু সরকারের সব প্রচেষ্ঠায় পানি ঢেলে দেয় দুর্নীতির বটবৃক্ষ আকড়ে থাকা কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ভূমি অফিসের সেই চিত্র আরো ভয়াবহ। ঘুষ ছাড়া যেখানেই ফাইল-ই নড়েনা। বাড়তি টাকা আদায় ও দালালদের দৌরাত্ম্যে দিশেহারা সেবা নিতে আসা এখানকার সাধারণ মানুষ।

সরকার নির্ধারিত ফি ১ হাজার ১৭০ টাকা দিয়েও জমির নামজারি করতে পারছেন না গ্রাহকরা। সেবা গ্রহীতাদের চাপে ফেলে নামজারি করতে নেয়া হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা।

আবার কখনো কখনো গ্রামের অসহায়, সহজ-সরল মানুষগুলোকে বোকা বানিয়ে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকারও অধিক হাতিয়ে নেয়া হয় বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। তবে এতো কিছুর পরেও নির্দিষ্ট সময়ে জমির নামজারি (খারিজ) পাননা গ্রাহকরা।

উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ডেস্কে থাকা খারিজের আবেদনের কপি থেকে জনৈক গ্রাহককে কল দিলে কথা হয় গ্রাহক বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেনের সাথে। তিনি জানান, খারিজের জন্য তিনি ১৬ হাজার টাকা দিয়েছিলেন।

এসময় কৌশলে কথা বলে তাকে অফিসে ডেকে আনা হয়। এমন অনিয়মে পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে চাপের মুখে বীর ওই মুক্তিযোদ্ধার কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া অতিরিক্ত টাকাগুলো তাৎক্ষণিক ফেরত দিতে বাধ্য হন রামচন্দ্রপুর ভূমি অফিসের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মনির হোসেন ও অফিস সহায়ক আলমগীর হোসেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন জানান, ‘আমারে কইতাছে এখানে খরচ আছে, ঐখানে খরচ আছে, ইউএনও অফিসে খরচ আছে, সবার খরচ আছে’ তারপর আমি টাকা দিছি’। আমরাতো অত কিছু বুঝি না বাবা, বুড়া হইছি, দৌড়াদোড়ি যেমনে কম হয় সেই চিন্তাই করি’। তার মতো এমন ভুক্তিভোগি হয়েছেন অনেকেই।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আলাপকালে উপ-সহকারী কর্মকর্তা মনির হোসেন অকপটে জানান ঘুষের টাকার ভাগ-বাটোয়ারার তথ্য। তার বক্তব্যে উঠে আসে দপ্তরের কর্মকর্তাদের টেবিলে টেবিলে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয়টি।

সাড়ে তিন হাজার টাকার নিচে গ্রাহকরা নামজারি করতে পারে না জানিয়ে মনির জানায়, ইউএনও স্যারে নিবো ১০০০, কানোনগো ৪০০, সার্ভেয়ার ২০০, কেরানী ৩০০, জারিকারকের ২০০, পিয়নের ১০০ এই ২৩০০ এবং সরকারী ১০৭০ এর যায়গায় ৩০ টাকা বেশি ১২০০। সবমিলে দেখেন ৩৫০০ টাকা।

যদিও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া বলছেন, তার নাম ব্যবহার করে একটি চক্র এসব অপকর্ম করছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কখনো আর্থিক বিষয়ে যদি আমরা অভিযোগ পেয়ে থাকি, তখন তাৎক্ষণিক আমরা যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে স্পেশিফিকেশন করে ডেকে এনে কাজটি কেন হয়নি? এবং কত টাকা নেওয়া হয়েছে? সামনাসামনি আমরা শুনানি নিয়ে এ বিষয়টা সাথে সাথে নিষ্পত্তি করে থাকি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, হাজীগঞ্জের ৯টি ভূমি অফিসে মাসিক প্রায় ৪০০ নামজারি হয়। যেখানে প্রায় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দালালরা।