বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিতর্কে কঠোর অবস্থানে সরকার

সরকার
❏ রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে বলে মনে করছে সরকার ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তাই এ নিয়ে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মাণ নিয়ে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামসহ দুই একটি ইসলামি দল বিরোধিতা শুরু করে। ভাস্কর্য নির্মাণ বন্ধের দাবি নিয়ে এখনও সোচ্চার তারা।

শুরুর দিকে বিষয়টি নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা চুপ থাকলেও হেফাজতের আমির বাবুনগরীর বক্তব্যের পর এখন তারা চড়া সুরে কথা বলছেন।

শুক্রবার (২৭ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আয়োজিত এক মাহফিলে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, “আমি কোনো পার্টির নাম বলছি না, কোনো নেতার নাম বলছি না…। কেউ যদি আমার আব্বার ভাস্কর্য স্থাপন করে, সর্বপ্রথম আমিই তা টেনে-হিঁচড়ে ফেলে দেব। ”

এ বক্তব্যের পর শনিবার (২৭ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, “বাংলাদেশের স্থপতির ভাস্কর্য টেনে হিঁচড়ে নামাবে বলে কোনো কোনো ধর্মীয় নেতা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন, তাদের এমন রুচি এবং ভাষা ব্যবহার দেখে তাদের ধর্মচর্চা ও ইসলামি রুচিবোধ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ”

ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ার করে বলেন, “সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না। জনগণের শান্তি বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা করলে জনগণই রুখে দাঁড়াবে। অন্য কোনো পথ না পেয়ে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ধর্মীয় সহনশীলতা বিনষ্টের যে কোনো অপচেষ্টা সরকার কঠোর হস্তে দমন করবে। ”

সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য ও বিরোধিতা মানে শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যলেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া। এ ধরনের কোনো অপতৎপতরা সরকার সহ্য করবে না। এর বিরুদ্ধে যে কোনো তৎপরতা সরকার কঠোরভাবে দমন করবে। ”

এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদ ছড়ানোর অপচেষ্টা’।

তিনি বলেন, ‘সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক মুসলিম দেশেই ভাস্কর্য রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে ভাস্কর্য হতে পারবে না কেন? এই ধরণের উগ্রবাদী, জঙ্গিবাদী কথাবার্তা বলে তারা ইসলামের মতো শান্তির ধর্মকে মানুষের কাছে বিতর্কিত করে তুলছে ও মূর্খের মতো উন্মাদনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। সরকার বা জনগণ কেউই এটি বরদাস্ত করবে না।’

তবে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এই বিষয় নিয়ে মন্তব্য করলেও দলটি বা এর কোনো অঙ্গ সংগঠনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ভাস্কর্য তৈরির বিরোধিতা নিয়ে চলতে থাকা দ্বন্দ্বের ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।

রাজধানীর দোলাইপাড় চত্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে অক্টোবর মাসের শুরু থেকেই ইসলামী দলগুলো প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছে। তবে বিষয়টি আলোচনায় আসে ১৩ নভেম্বর ঢাকায় একটি সম্মেলনে খেলাফত মজলিশের শীর্ষ নেতার বক্তব্যের পর।

ওই সময় তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিলেন, ভাস্কর্য নির্মাণ পরিকল্পনা থেকে সরে না দাঁড়ালে আরেকটি শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘটানো হবে এবং ওই ভাস্কর্য ছুঁড়ে ফেলা হবে। তার ওই বক্তব্য আওয়ামী লীগে অস্বস্তি তৈরি করে।

এরপর আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে শুরু করে আল্লামা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে। ঢাকায় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয়ভাবেও সমাবেশ করে ভাস্কর্যের বিরোধীতাকারীদের উচিৎ জবাব দেবার হুমকি দেয়।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন