🕓 সংবাদ শিরোনাম

সরকারি গুদামে খাদ্যশস্য মজুদ আছে ১৬.৬৯ লাখ মেট্রিক টনসেচের অভাবে ত্রিশালে আমন চারা রোপণে দুশ্চিন্তায় কৃষকরাবিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে ২৭৬ টি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হদিস নেই!শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদীর ভাঙ্গন, বিলীন হচ্ছে ফসলি জমিব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত মাকে বাঁচাতে ছেলে ইনজেকশন খুঁজে হয়রান!ফরিদপুরে গায়ে পচনধরা রোগীকে বাঁশ ঝাড়ে ফেলে দিলো স্বজনরা, উদ্ধারে পুলিশলকডাউনে বিয়ের আয়োজন করায় বর ও কনের পরিবারকে জরিমানাশাহজাদপুরে বইয়ের ভেতরে ৯০০ পিস ইয়াবা ও টাকাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতারত্রিশালে ভ্রাম্যমান আদালতের মোবাইল কোর্ট পরিচালনাঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের সংস্কার কাজে মাটির ব্যবহার!

  • আজ বৃহস্পতিবার, ১৪ শ্রাবণ, ১৪২৮ ৷ ২৯ জুলাই, ২০২১ ৷

৭ মাসে ২৭টি ফোন উদ্ধার করে মালিককে ফিরিয়ে দিল কর্ণফুলী থানা পুলিশ

মোবাইল
❏ রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০ ফিচার

জে.জাহেদ, নিজস্ব প্রতিবেদক- মোবাইল ফোন চুরি হলে বা হারিয়ে গেলে অনেকেই তা ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেন। শুধুমাত্র নিয়ম রক্ষার জন্যই থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। কিন্তু হারানো বা খোয়া যাওয়া মোবাইল ফোন মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সিএমপি কর্ণফুলী থানা পুলিশেরও সাফল্য কম নয়। এখন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন হারালেও পুলিশের উপর ভরসা করা যায়।

গত ৭ মাসে শুধুমাত্র কর্ণফুলী থেকে হারানো ২৭টি দামি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে স্ব স্ব মালিকের হাতে তুলে দিয়েছেন থানা পুলিশ। সম্প্রতি প্রতিবেদকের সাথে সাক্ষাতেই এমনটাই দাবি করেছেন সিএমপি কর্ণফুলী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শিমুল চন্দ্র দাস।

তিনি এটাও জানান, অনেকক্ষেত্রে হারানো ফোনের মালিক জিডি দায়েরের পর প্রথম কিছুদিন যোগাযোগ করেন। মাস পার হয়ে গেলে আর খবর নেন না। এতে আমরাও অন্য মামলা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই নিয়মিত খোঁজ না নেওয়ার কারণে অনেক ফোন উদ্ধার সম্ভব হয় না।

তিনি আরো জানান, গত কয়েকমাসে ফোন হারানোর ঘটনা জানিয়ে থানায় অর্ধশতাধিকের বেশি জিডি দায়ের করা হয়েছে। সেই জিডির আলোকে তদন্তে নেমে প্রযুক্তির সাহায্যে চুরি হয়ে যাওয়া ২৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার সম্ভব করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। পরে এসব ফোন আসল মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বাকি ফোনগুলিরও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ফোন পেয়ে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত হন ফোনের মালিকরা। পুলিশ যে তৎপর হলে অনেক মানুষই এভাবে উপকৃত হবেন, সেকথাও বলেন অনেকেই।

জানা যায়, বড়উঠান ইউনিয়নের দৌলতপুর এলাকার প্রবাসী মোঃ জানে আলম (৪০)। বহু শখ করে বিদেশ থেকে আসার সময় ‘Honor-9x’ মোবাইল সেটটি নিয়ে আসেন। কিন্তু গত ১৭ অক্টোবর দৌলতপুর হতে ফকিরনীহাট যাওয়ার পথে ফোনটি হারিয়ে যায়। পরে থানায় জিডি করেন। জিডি করার ১০ দিনের মধ্যে ফোন উদ্ধার করে প্রবাসীর কাছে ফেরত দেন পুলিশ।

শুধু প্রবাসী জানে আলম নয়, এভাবে কর্ণফুলী উপজেলার ইছানগর গ্রামের মোঃ নয়ন হাওলাদার (৩০) এর Huawei y9, কোট্টাপাড়ার ঝন্টু চাকমা (৩৪) এর Vivo w15, ফাজিলকারহাটের মোঃ মাসুম (২৪) এর Oppo F15, মইজ্জ্যারটেকের মোঃ আজিম উদ্দিন (৪০) এর Samsung A50, ইছানগরের শাহীন পারভেজ (২৫) এর Samsung galaxy j7 prime, চরলক্ষ্যার মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন রাসেল (২৯) এর Mi n5 pro, শিকলবাহার মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (১৯) এর Vivo phone, ব্যাংক কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল হাসান প্রকাশ রিয়াদ এর Samsung galaxy m10, নৌবাহিনী কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থী ইফতেখার ইউনুছ (১৭) এর Oppo A5s, শিকলবাহার মোঃ আরিফুল ইসলাম (২১) এর Huawei nova 3i, শিকলবাহা জামালপাড়ার মোঃ শফিক (৫০) এর Samsung galaxy A50, ইছানগরের মোঃ ওমর ফারুক (৩২) এর Huawei P30 pro, চরলক্ষ্যা মুকুল বাড়ীর মোঃ ইব্রাহিম (৫০) এর redmi note8, জুলধার এ টি এম সালেহ নুর (৩৫) এর Huawei nova 3i, চরলক্ষ্যার ডাঃ মৃনাল কান্তি দাশ (৬০) এর Grand premio pro Samsung, ইছানগর এলাকার মোঃ ফখরুল ইসলাম (২২) Redmi note8, নাঈম উদ্দিন সুমন (৩৪) এর Samsung Galaxy A9 মোবাইলসহ একে একে বিভিন্ন ভাবে হারানো ২৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে দিয়েছেন।

সর্বশেষ গত দু’দিন আগেও চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর গ্রামের অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোঃ ফরহাদ আহম্মেদ (২২) এর ‘Oppo f11’ মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের ২৫দিন আগে ফোনটি বাজারে হারিয়ে ছিলেন। পরে মোবাইলটির আইএমই নাম্বার দিয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে খোয়াজনগর এলাকা থেকে চিহ্নিত করে উদ্ধার করেন।

এদিকে, চুরি হওয়ার প্রায় ২৫দিন পর মোবাইল হাতে পেয়ে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দুলাল মাহমুদ ও এসআই শিমুল চন্দ্র দাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে পুলিশি সেবা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মোবাইল মালিক ফরহাদ আহম্মেদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্ণফুলী থানা পুলিশের আরেক উপ-পরিদর্শক বলেন, ‘একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা, আর একটি হত্যা মামলার তদন্ত করা একই সমান মনেহয়। কারণ একদিকে শারীরিক পরিশ্রম, অপরদিকে নিজের আর্থিক ক্ষতি করে দীর্ঘ সময় লেগে থাকতে হয়। মোবাইল ফোন উদ্ধার করতে গিয়ে থানা-পুলিশের অন্য মামলার তদন্ত কাজ অনেক সময় ব্যাহতও হয়। এরপরেও সাধারণ মানুষের সেবায় পুলিশ হাসিমুখে কাজটি করে থাকেন।’

চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবি অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হারানো সংক্রান্ত যে কোনও মামলা বা জিডি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনে আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য। মোবাইল ফোন ছিনতাই হতে পারে অথবা হারিয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অনেকেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে জিডি করে থাকেন। যাতে হারানো বস্তু পেয়ে অন্য কেউ অপরাধ সংগঠিত করলেও নিজে সুরক্ষা পায়।’

কর্ণফুলী জোনের সহকারি পুলিশ কমিশনার (এসি) মোঃ ইয়াসির আরাফাত জানান, ‘আগের চাইতে বর্তমানে পুলিশ বাহিনী প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্রুত সময়ে অনেক বিষয়ে সফলতা পেয়েছে। যার একটি উল্লেখযোগ্য দিক-হারানো ফোন ফেরত পাওয়া। শুধু ফোন নয়, যে কোন ধরণের অপরাধ দমনে ও জনগণকে আইনি সেবা প্রদানে সব সময় সোচ্চার রয়েছে পুলিশ।’

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন