🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

রেল বন্ধ করে নিজের লোকদের বাসের ব্যবসা দিয়েছিল বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
❏ রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০ জাতীয়

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বিএনপি ক্ষমতায় এসে রেলকে প্রায় গলাটিপে হত্যা করতে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রেললাইন সংকোচন শুরুর পাশপাশি রেলে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এসে এখন আবার তাকে জীবিত করেছি। রেলই এখন মানুষের সব থেকে ভরসা। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি রেল সেই সুযোগটা মানুষকে করে দিচ্ছে যে, আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি।

রবিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গণভবন প্রান্তে এই সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত থেকে রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৩ সালে বলা হলো রেল মোটেই ভায়াবেল না, রেল লাভজনক না। কাজেই এটা বন্ধ করে দিতে হবে। ঠিকই বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসে আস্তে আস্তে রেললাইন সংকোচন শুরু করে দিল। অনেক রেল যোগাযোগ বন্ধ, অনেক স্টেশন বন্ধ, প্রায় ১০ হাজারের ওপর রেলওয়ের দক্ষকর্মীকে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে দিলো। কারণটা ছিল জেনারেল এরশাদের আমলেও, খালেদা জিয়ার আমলেও বা জিয়ার আমলেও তাদের কিছু লোক তাদের সন্তুষ্ট করার জন্য বাসের ব্যবসা দেওয়া হলো। এটাই চলতে হবে রেল আর চলবে না এটাই হচ্ছে বাস্তবতা।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে আমরা ক্ষমতায় আসার পর উদ্যোগ নিলাম। আমরা রেল বন্ধ তো করবই না আরও কিভাবে বাড়ানো যায়, সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।

সারাদেশে রেলযোগাযোগকে শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের আরও প্ল্যান আছে যে, একেবারে ঢাকা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী হয়ে পায়রা বন্দর পর্যন্ত আমরা রেললাইন নিয়ে যাব। তারও সমীক্ষা আমরা শুরু করব এবং সেই উদ্যোগ আমরা নিয়েছি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতা বলেছিলেন বাংলাদেশ হবে প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ বাংলাদেশ হবে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন। আর সেই সেতুবন্ধন করতে গেলে আমাদেরকে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সাথে সংযোগ করতে হবে।

“ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে এই দুটোর সাথে যদি আমরা সম্পৃক্ত হতে পারি তাহলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে। মানুষের যোগাযোগ বাড়বে। কাজেই আমাদের জন্য একটা বিরাট সুযোগ সৃষ্টি হবে।”

জাতির পিতাকে হত্যার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো রেলের উপরও আঘাত এসেছিল জানিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ওই সময় যারা অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেছিল তারা দেশ ও দেশের মানুষের কথা চিন্তা না করে ক্ষমতাকে ভোগ করে নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলায় ব্যস্ত ছিল।

যমুনায় রেলসেতু নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আজকে আমি সত্যিই খুব আনন্দিত, কারণ এক সময় এখানে সেতু করার ব্যাপারে আমাকে অনেক তর্ক করতে হয়েছে, অনেক দেনদরবার করতে হয়েছে। আজকে একটা আলাদা সেতু হয়ে যাচ্ছে, আমি মনে করি এত আমাদের আর্থ-সামাজিক উন্নতি তো হবেই এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিকভাবেও আমরা আরও সমৃদ্ধ হতে পারব, যা আমাদের দেশকে ভবিষ্যতে আরও উন্নত করবে।”

জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ের কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি বিশ্বাস করি সেটা করব। কারণ জাপানের মতো বন্ধু যাদের সাথে আছে তাদের আর চিন্তার কিছু নাই, সেটা আমি বলতে পারি।”