সংবাদ শিরোনাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইয়ের হাতে বোন খুন!টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলায় কলেজ ছাত্র নিহতফেনীর সোনাগাজী পৌর মেয়রের জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি‘ভারতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই মুসলমানদেরকে শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছে’দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশেরসাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশুকুয়াকাটায় সৈকতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যুঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডশাহজাদপুরে বসতবাড়িতে চোরাই তেলের অবৈধ গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৩ জন দগ্ধটাঙ্গাইলে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

  • আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

আমাদের বক্তব্য ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়: মামুনুল হক

◷ ৩:৪৭ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০ জাতীয়
মামুনুল হক

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতাকারী হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মামুনুল হক বলেছেন, তাদের বক্তব্য ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়।

রোববার (২৯ নভেম্বর) দুপুরে হক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বিভিন্ন সংবাদ ও যোগাযোগ মাধ্যমে মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হকের নামে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, ইসলামি মাহফিল করতে বাধা প্রদান এবং সরকারদলীয় কিছু সংগঠন তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। এমতাবস্থায় মাওলানা মামুনুল হক তার রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান জাতির সামনে নিজের তুলে ধরতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অফিসে এই সংবাদ সম্মেলেনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নেতা ও স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন মরহুম মুসলিম নেতা হিসেবে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা করি এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। কখনও কোনোভাবে এমন একজন প্রয়াত মরহুম জাতীয় নেতার বিরুদ্ধাচারণ করি না এবং করাকে সমীচীনও মনে করি না। আবারও স্পষ্ট করে বলছি, আমাদের বক্তব্য ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়।

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ এবং বাংলাদেশের একজন বর্ষিয়াণ জাতীয় নেতা মরহুম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক। তিনি চারদলীয় জোটের শীর্ষ চার নেতার অন্যতম একজন ছিলেন এবং তার দেওয়া আদর্শিক ৫ দফা দাবির সঙ্গে একমত হয়ে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। তিনি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক যুগপৎ একটি ঐতিহাসিক ধারার প্রতিনিধিত্ব করে গেছেন, যা উপমহাদেশে দেওবন্দি ধারা হিসেবে সুপরিচিত।

আমি সেই ধারারই একজন রাজনৈতিক কর্মী। বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামের বিজয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ জাতি ও মানবতার কল্যাণ সাধনই আমার রাজনৈতিক লক্ষ্য। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে পূর্বসূরিদের অনুসৃত পথে স্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা চালানোই আমার ব্রত। কোনো ষড়যন্ত্র অথবা গোপন আঁতাতের মাধ্যমে দেশ-রাষ্ট্র কিংবা সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি আমাদের নেই।’

মাওলানা মামুন আরও বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জোটবদ্ধ রাজনীতিতে ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে আমাদের সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত নই। আমাদের এমন স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান থাকা সত্ত্বেও একটি মহল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে সরকারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর পায়তারা চালাচ্ছে। এ জন্য জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের অমূলক ও কল্পিত অভিযোগ আমার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, আমি এই ষড়যন্ত্রের তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।’

ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ প্রসঙ্গে মাওলানা মামুনুল বলেন, ‘কিছুদিন ধরে ঢাকার ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের ইস্যু নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে শান্তিপ্রিয় ইসলামপ্রেমী তওহিদি জনতা। ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ কিংবা যেকোনো প্রাণীর ভাস্কর্য নির্মাণ অনৈসলামিক সংস্কৃতি হওয়ায় আলেমসমাজ এর প্রতিবাদ করছে। সেই সূত্রে আমিও ভাস্কর্য নির্মাণের বিরুদ্ধাচারণ করে বক্তব্য তুলে ধরেছি।

কিন্তু সুকৌশলে একটি মহল ভাস্কর্য নির্মাণের এই বিরোধিতাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরোধিতা বলে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করছে, এ বিষয়ে আমার বক্তব্য দ্ব্যর্থহীন, – বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান নেতা ও স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একজন মরহুম মুসলিম নেতা হিসেবে পরিপূর্ণ শ্রদ্ধা করি এবং তার রুহের মাগফেরাত কামনা করি। আমাদের বক্তব্য ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কোনোভাবেই বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়।’