বাংলাদেশ-ভারত থেকে করোনা ছড়ানোর খবরকে ‘ফেক নিউজ’ বললেন চীনা রাষ্ট্রদূত

◷ ৯:৪৩ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, নভেম্বর ২৯, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
chaina

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির জন্য কয়েকজন চীনা বিজ্ঞানীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ, ভারতসহ আরও কয়েকটি দেশকে দায়ী করার যে খবর ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড পত্রিকা দি সান প্রকাশ করেছিল তাকে ভুয়া বলেছে চীন।

ঢাকায় চীনের উপ-রাষ্ট্রদূত ইয়ান হুয়ালং রবিবার তার ফেসবুক পেজে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এমন একটি লিংক শেয়ার করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ফেক নিউজ!’

নামকরা প্রকাশনা সংস্থা এলসিভিয়ারের মালিকানাধীন প্রি-প্রিন্ট সার্ভার সোশ্যাল সায়েন্স রিসার্চ নেটওয়ার্ক (এসএসআরএন)-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা নিবন্ধে চাইনিজ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে উহানে প্রথম যে সংক্রামক করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়, তার মিউটেশন বেশি ছিল।

ওই নমুনার চেয়েও কম মিউটেশনের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে আটটি দেশে: বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, গ্রিস, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইতালি, চেক রিপাবলিক, রাশিয়া এবং সার্বিয়া।

সর্বকোষীয় ভাইরাস পুনরুৎপাদনের জন্য প্রাকৃতিকভাবে নিজেদের পরিবর্তন করে। এর অর্থ তাদের ডিএনএ’তে প্রতিবার ছোট ছোট যে পরিবর্তন হয়, তার মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিলিপি তৈরি করে।

চীনা বিজ্ঞানীরা বলেন, সবচেয়ে কম পরিবর্তন বা মিউটেশনের নমুনা শনাক্ত করে ভাইরাসের ‘আসল ভার্সন’পাওয়া যাবে। তাদের দাবি, ভারত এবং বাংলাদেশে যে স্ট্রেইন পাওয়া গেছে, তাতে অনেক কম মিউটেশন। মানে সেখান থেকে আগে ছড়িয়ে থাকতে পারে। দুটি দেশ যেহেতু ভৌগোলিকভাবে পাশাপাশি তাই এই মহাদেশে সম্ভাবনা বেশি দেখছেন তারা।

তবে এই গবেষণা নিয়ে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা এ গবেষণা নিয়ে দ্বিমত জানিয়েছেন। ভারতীয় ভাইরোলজিস্ট মুকেশ ঠাকুর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে বলেছেন, এই গবেষণায় তথ্য-উপাত্ত ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জেনেটিকস ও বায়োস্ট্যাটিসটিকসের অধ্যাপক মার্ক সুচার্ড বলেন, এই গবেষণার জন্য ভাইরাল স্ট্রেইনের নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি ‘অযৌক্তিক’। এ ধরনের নমুনা বিশ্লেষণ করে এই ভাইরাসের উৎস খুঁজে পাওয়াটা স্বাভাবিক নয়।