• আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

সত্তরে মোংলা বন্দর

◷ ৩:৫৩ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০ খুলনা
মোংলা বন্দর

মনিরুল ইসলাম দুলু, মোংলা- মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সত্তরতম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী পালন করা হয়েছে। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারনে দিবসটি ছোট্ট পরিসরে পালন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকালে র‌্যালী ও আলোচনা সভা করা হয়। এ বছর বড়খানা বা কোন আনুষ্ঠানিকতা না রেখেই পালিত হলো বন্দর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এ্যাডমিরাল এম শাহজাহান সংবাদ সম্মেলনে জানান, বন্দরটি প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম রেকর্ড পরিমান জাহাজ আগমন করেছে। ব্যবহারকারিদের দেওয়া হচ্ছে নানা সুবিধা। এখন বন্দরে ৪০টি জাহাজ অবন্থান করতে পারে ,অতি সত্তর এই পরিমান বেড়ে দাড়াবে ৫০ এ।

তিনি আরও জানান, মোংলা বন্দর খুলনা শহর থেকে ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর। প্রথমে এই বন্দর গড়ে ওঠে চালনা থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর বন্দরটি বিদেশি একটি জাহাজ নোঙরের মাধ্যমে প্রথম এর নামকরণ করা হয় চালনা বন্দর। কিন্তু সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙরের ক্ষেত্রে মোংলা অধিকতর সুবিধাজনক বিধায় ১৯৫৪ সালে বন্দরটি মোংলায় স্থানান্তরিত করা হয়।

মোংলা বন্দর দীর্ঘদিন ধরে চালনা নামেই পরিচিত হতে থাকে। সমুদ্রগামী জাহাজ চলাচলের উপযোগী এ বন্দরের প্রবেশ মুখ ও পশুর নদীর গভীরতা হারিয়ে ফেলায় পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে ১৯৮০ সাল থেকে বন্দরটি প্রায়ই বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে ছিল।

তবে মোংলা বন্দর এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এ বন্দরে রয়েছে ১১টি জেটি, পণ্য বোঝাই ও খালাসের জন্য ৭টি শেড এবং ৮টি ওয়্যারহাউজ। নদীর গভীরে রয়েছে অসংখ ঝুলন্ত বা ভাসমান নোঙর। বন্দর কর্তৃপক্ষ সাগর থেকে বন্দরে প্রবেশমুখ অর্থাৎ হিরণ পয়েন্ট নামক স্থানে বিদেশী নাবিকদের জন্য একটি রেস্ট হাউজ নির্মাণ করা হয়েছে।

পৃথিবীর প্রায় সব প্রধান বন্দরের সঙ্গেই মোংলা বন্দরের বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। তবে প্রধানত এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার জাহাজগুলো এই বন্দরে নোঙর করে থাকে। সৃষ্টির পর থেকে এ বন্দরটি দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রসারে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছে।

ভারত, ভুটান ও নেপালের সাথে সরকারের চুক্তির ফলে এ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ভারত, নেপাল, ভূটানকে মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে যার ফলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এটি একটি বৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়কে সামনে রেখে বন্দরের আধুনিকায়নের জন্য উন্নয়নের সকল কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পদ্মাসেতুর কাজ শেষ হলে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ সহজ হবে এবং এ বন্দরের কার্যক্রম আরো বেড়ে যাবে। এছাড়া বন্দরকে ঘিরে এর চারপাশে বহু শিল্প ও বাণিজ্যকেন্দ্র স্থাপিত হওয়ায় অনেক নতুন কর্ম উদ্যোগ ও চাকুরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষের।এসময় বন্দরের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।