• আজ ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

কাটলো বাঁধা, ১০ ডিসেম্বরই হচ্ছে ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাচন

◷ ৫:৪৫ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০ ঢাকা
ফরিদপুর

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত। এর ফলে আগামী ১০ ডিসেম্বর এ পৌরসভার নির্বাচন হতে বাঁধা কাটলো।

আজ মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের চেম্বার জজ আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানে হাইকোর্টের দেয়া স্থগিত আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপরে করা আবেদন শুনানি হয়। আদালতে আজ রিট আবেদনের পে শুনানি করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দস কাজল। রাষ্ট্রপে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।

গত ৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বর এ পৌরসভার নির্বাচনের ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু স্থানীয় এক ভোটার কমিশনের এ তফসিল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন। পরে গত ২৫ নভেম্বর ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাচন ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে আদেশ দেন হাইকোর্ট।

ওই রিটের প্রাথমিক শুনানির পর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সেই সঙ্গে রুলও জারি করেন আদালত। রুলে ফরিদপুর পৌরসভাকে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৬তম সভায় সিটি করপোরেশন করার অনুমোদনের পরও গত ৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল কেন বেআইনি ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট ১০ বিবাদীকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। আদালতে ওই দিন রিট আবেদনের পে শুনানি করেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দস কাজল। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ। রাষ্ট্রপে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ রাসেল চৌধুরী।

২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে নিকারের ১১৬তম সভার আলোচ্যসূচিতে বলা হয়, ইতোমধ্যে ফরিদপুর পৌর এলাকার সীমানা সম্প্রসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠা বিধিমালা, ২০১০ এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী পৌর এলাকাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার জন্য শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে। ওই সভাতেই ফরিদপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন করার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এরপর গত ৩০ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর শাখা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে জানায়, ফরিদপুর পৌরসভার সাধারণ নির্বাচন করতে কোনো আইনগত বাধা নেই। ওই চিঠিতে ফরিদপুর পৌরসভার নির্বাচন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়।

এরপর গত ৩ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন পাঁচটি পৌরসভা, সংশ্লিষ্ট পৌসভার সাধারণ ও সংরতি ওয়ার্ডের নির্বাচনের তারিখ ও সময় ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। ফরিদপুর পৌরসভার এই প্রজ্ঞাপনটিই চ্যালেঞ্জ করে গত ১৫ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন স্থানীয় ভোটার মো. আতিয়ার রহমান। ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারি ও নির্বাচন স্থগিত করেন।