বিশ্বের অন্যান্য দেশে এইডস রোগী বাড়ছে, আমাদের কমছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

◷ ৯:০৫ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১, ২০২০ জাতীয়
zahid

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশ থেকে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এইডস নির্মূল করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশে এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও আমাদের দেশে এই সংখ্যা ক্রমশ হ্রাসমান রয়েছে।

বিশ্ব এইডস দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি। বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, করোনার সময়েও এইডস রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে এবং সরকার এইডস রোগীদের সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষা ব্যবস্থা বিনামূল্যে চালু রেখেছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘সারা বিশ্বের ঐক্য, এইডস প্রতিরোধে সবাই নিব দায়িত্ব।’

রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে এইডস দিবস উপলক্ষে আজ একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তফা কামাল, লাইন ডিরেক্টর টিবিএল অ্যান্ড এএসপি অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম প্রমুখ।

বিবৃতিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের দেশে এইডসের সংক্রমণ এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

দেশের স্বাস্থ্য খাতের টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কথা তুলে ধরে জাহিদ মালেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে যত পুরস্কার পেয়ে দেশকে বিশ্ববাসীর কাছে সম্মানিত করেছেন, তার অধিকাংশই তিনি পেয়েছেন স্বাস্থ্য খাতের সফলতার জন্য। স্বাস্থ্য খাত ইতোমধ্যেই পোলিও, টিটেনাস, যক্ষ্মা রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচির সাফল্যের কারণে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের মর্যাদাসম্পন্ন পুরস্কার ভ্যাকসিন হিরো হয়েছেন। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্যোগপূর্ণ সময় এই কোভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন প্রয়োগেও আগামীতে স্বাস্থ্য খাত সফল হবে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনার প্রথম ঢেউ আমরা সামলাতে সক্ষম হয়েছি এবং দ্বিতীয় ঢেউ এলেও এখন আর তেমন সমস্যা হবে না। সরকারি-বেসরকারি উভয় শক্তি মিলেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করা হবে। কেননা, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাতের এখন সব ধরনের প্রস্তুতি হাতে রয়েছে। হাসপাতাল প্রস্তুতকরণ, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা, প্রশিক্ষণ, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সবই এখন প্রস্তুত। তাই দ্বিতীয় ঢেউ চলে এলেও তাকে সামলানো কঠিন হবে না।

তবে, দেশের মানুষকেও একইসঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মুখে মাস্ক পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। মাস্ক পরার গুরুত্ব অনুধাবন করেই সরকার ধীরে ধীরে কঠোর থেকে কঠোরতর পদক্ষেপ নিতে শুরু করবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে মুখে মাস্ক ব্যবহার করে করোনা মোকাবিলার কাজকে সহজ করতে এগিয়ে আসতে হবে।’