সংবাদ শিরোনাম

সৈয়দপুর-রংপুর মহাসড়ক থেকে অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারনন্দীগ্রামে আন্তজেলা ডাকাত দলের সদস্য গ্রেফতারশাহজাদপুরে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাদের অর্থায়নে পাকা ঘর পাচ্ছে প্রতিবন্ধী দম্পতিবাংলাদেশে পরীক্ষা চালানোর জন্য ২০ লাখ টিকা দিয়েছে ভারত: রিজভীফরিদপুরের ভাঙ্গায় ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ: ২ স্কুলছাত্র নিহতযশোর সীমান্তে ১২ লাখ টাকার ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটকমধ্য প্রাচ্যের সবজি স্কোয়াশ চাষ হচ্ছে এখন নওগাঁর মাটিতেএসএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশচসিক নির্বাচনে সহিংসতার শঙ্কা ও উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে: মাহবুব তালুকদারহিলিতে সড়ক দুর্ঘটনায় চাচা-ভাতিজা নিহত

  • আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

৪৫ বছর বয়সেও আলোর জীবনের অন্ধকার কাটেনি

◷ ৭:৩৫ পূর্বাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০ ফিচার
Monshigonj news

মোঃ রুবেল ইসলাম তাহমিদ, মাওয়া মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধিঃ গাছপালা ধ্বংস হচ্ছে, বন-জঙ্গল হারিয়ে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বদলে যাচ্ছে ছায়াঘেরা দেশের সবুজ প্রাকৃতি। প্রতিনিয়ত বসতির প্রয়োজনে কেটে ফেলা হচ্ছে ঝোপঝাড় ফসলি জমি। পরিবেশ বিপর্যয়ের এই ধারাবাহিকতায় হারিয়ে যাচ্ছে মুন্সীঞ্জের বুনো শাক-সবজি। আর এর প্রভাব পড়ছে শুধু ৬টি উপজেলার ১৫ ভাগ মানুষের জীবিকায়।

বিক্রমপুর আলু উৎপাদনের নাম রয়েছে বিশ্বজুরে বহু, মোগল আমল থেকেই। পাশাপাশি এজেলার  খুবই কাছে ঢাকার শহর হওয়ায় এ অঞ্চলের বুনো শাক সবজি পাইকারী নিতে এখানে আসেন ঢাকা সহ দুর দুরান্তের মানুষ। এ অঞ্চলের তরতাজা শাক সবজির সুনাম রয়েছে বেশ।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই জেলায় বুনো শাক সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহকারীদের অনেকেই ফিরছেন অন্য পেশায়। কেউ কেউ টিকে আছে অতিকষ্টে।

এমনই একজন সংগ্রামী নারী, পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী আলো বেগম প্রায় ৩০ বছর আগে থেকে বুনো শাক -সবজি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। স্বামী বাবুল হোসেন বিয়ের এক বছর পর থেকেই প্যারালাইসিস রোগী হয়ে যাওয়ায় তাকে এই পথে নামতে হয় তখন থেকেই।

শাক কুড়িয়ে ঘরে ঘরে বিক্রি করে চাল-ডাল কিনে বাড়ি ফিরতেন। খুরিয়ে খুরিয়ে কোন রকম কেটে আসছিল তার অভাবের সংসার জীবনের দিন। কিন্তু সেদিন ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে তার কেটেগেছে ৪৫ বছর, আলো নাম হলেও দেখেননি আলোর মুখ।

আলো বেগম বর্তমানে মাওয়া বাজার সুপার মার্কেটের সামনে ফুতপাতে কয়েক বছর ধরে বিক্রি করে আসছেন শাক সবজি। সময়ের কণ্ঠস্বরের সাথে একান্ত আলাপ কালে আলো বেগম বলেন, ছেলে মেয়ে নাই, স্বামী অচল। কামাই নাই কেমনে চলুম, ৪৫ বছর বয়সে এসে ও জীবনের অন্ধকার কাটলোনা আমার এমনওই দুইখ্যা কপাল।

এক নিঃশ্বাসে অনেক শাকের নাম বলে ফেললেন মামাকলা (জংলি পটল) গাছের পাতা, ঢেঁকি শাক, থানকুনি পাতা, কচুর লতি, কুমারী লতা, তিত বেগুন, কলমি শাক, হেলেঞ্চা শাক, ভাউত্তা শাক, চটা শাক, আগ্রা শাক, মুরমুইররা শাক, গোল হেলেঞ্চা শাক, অউদ্দা শাকসহ আরও কত শাকের নাম। আবার এসব শাকের গুণাগুণ সম্পর্কেও আলো বেগম সচেতন।

আলো জানান , উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে প্রচুর পরিমাণ এসব বুনো শাক সবজি পাওয়া যেত। আমার মতো এই কাজে অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন হাতে গনা ২/৪জন এ পেশায় নিয়োজিত আছে। এখন করুন অবস্থায় কাটছে তার দিন। নিজেকে টিকিয়ে রাখতে বুনো শাক সবজির সাথে অন্যান্য তরিতরকারী বিক্রি করছেন এখন।

খোজঁনিয়ে জানাগেছে এক সময় বিক্রমপুরে আদিবাসী রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজনের কাছে বুনো শাক সবজির কদর অনেক বেশি ছিল, ছিল ব্যাপক চাহিদা। কোনো জংলি শাক সবজি বাঙালি সমাজে ততটা গুরুত্ব ছিলনা। কিন্তু এখন বিক্রমপুরে রাখাইন জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কমে গেছে।

শাক সবজি কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহকারী মানুষের সংখ্যাও কমে গেছে। একই সাথে ফুরিয়ে গেছে শাক সবজির উৎসস্থলও। এককালে এলাকায় সম্পদশালী ব্যক্তি বর্তমান লৌহজং উপজেলা চেয়ারম্যান ওসমান গনি তালুকদার ও সাবেক মেদিনী মন্ডল ইউঃ চেয়ারম্যান আবুল বাশার বলেন, বহু আগে এলাকায় বন-জঙ্গল থেকে গ্রামের কৃষক বা এক শ্রেণীর লোকজন শাক সবজি কুড়িয়ে আনতেন তাদের বাড়িতে। তারা কুড়িয়ে আনা শাক সবজির বদলে, তাদের বাড়ির গাছের কয়েকটি নারিকেল দিয়ে দিতেন। তখন অনেক শাক সবজি পাওয়া যেত। এখন সে সময়ের শাক সবজি দেখা যায় না। কালেরর বিবর্তনে আজ হারাতে বসেছে গ্রামবাংলা এসকল বুনো শাক সবজি।