• আজ ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মধুদার ভাস্কর্যের কান ভাঙল দুর্বৃত্তরা

◷ ৫:৫০ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২০ ফিচার
ভাস্কর্য

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- দেশে চলমান ভাস্কর্যবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে থাকা ‘মধুসূদন দে স্মৃতি ভাস্কর্য’র একটি কান ভেঙে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (০২ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি জানতে পেরে ভাস্কর্যের ভেঙে ফেলা অংশটি পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতদের নাম পরিচয় এখনো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও মধুর ক্যানটিনের কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, মধুদার ভাস্কর্যের অংশবিশেষ ভাঙার বিষয়টি নজরে আসার পর প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানীকে জানানো হয়। পরে প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য এসে ভাস্কর্যে নতুন কান স্থাপন করেন। তবে প্রক্টরের ভাষ্য, মধুর ক্যানটিনের কর্মচারীরাই নতুন কান প্রতিস্থাপন করেছেন।

মধুসূদন দে, যিনি ‘মধুদা’ নামেই বহুল পরিচিত, ছিলেন মধুর ক্যানটিনের প্রতিষ্ঠাতা। মধুদা সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সোচ্চার ছিলেন। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁকে হত্যা করে। মধুদার স্মৃতির স্মরণে তাঁর নামেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের সামনে অবস্থিত রেস্তোরাঁটির নামকরণ করা হয় ‘মধুর ক্যানটিন’।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, “এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাকি অসাবধানতাবশত ভেঙেছে আমরা নিশ্চিত নই। প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে যদি কারো কাছে কোনো তথ্য থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়ার অনুরোধ করছি।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত ভাস্কর্যটিকে সম্মান জানানো এবং সংরক্ষণ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী।

মধুর ক্যানটিনের একজন কর্মচারী জানিয়েছেন, বুধবার রাত ৮টার দিকে তারা মধুদার ভাস্কর্যের কান ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে প্রক্টরকে বিষয়টি জানান তারা। রাত নয়টার পর প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে আসে। এ সময় ভাস্কর্যের ভেঙে ফেলা অংশ লাগানো হয়।