• আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ রাজুরকে স্মরণ করে বিভিন্ন মহলের শ্রদ্ধা

◷ ৬:৪০ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২০ চট্টগ্রাম
Chadpur

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি:‘৯০ এর গণ-অভ্যুত্থান ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে চাঁদপুর শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজুর ৩০ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বিভিন্ন মহল তাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছে।

১৯৯০ সালের ৩ ডিসেম্বর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে টানা ৬ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজু মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এরপর থেকেই শহীদ রাজুর মৃত্যুর দিনটিকে শহীদ রাজু দিবস হিসেবে পালন করে সর্বস্তরের জনগন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে শুরু করে দিনব্যাপী চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে শহীদ রাজুর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ, দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।

প্রথমে শিক্ষামন্ত্রী ডা.দীপু মনি এমপির পক্ষে এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র  জিল্লুর রহমান জুয়েল ও কাউন্সিলরবৃন্দ শহীদ রাজুর কবরে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন।

একইসাথে চাঁদপুর সরকারি কলেজ, শহীদ রাজু স্মৃতি সংসদ, জেলা ছাত্রলীগ, কলেজ শাখা ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শহীদ রাজু ফাউন্ডেশন এবং নব্বই’র গণআন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনগন একে একে শহীদ রাজুর কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলী অর্পণ করেন।এসময় শহীদ রাজুর সমাধিতে ফাতেহা পাঠ এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসিত বরণ দাশ বলেন, শহীদ রাজু চাঁদপুর সরকারি কলেজের অহংকার। আমরা রাজু তোরণ নির্মাণ করেছি, রাজু ভবন করেছি এবং ভবিষ্যতেও আমাদের আরও কিছু চিন্তা ভাবনা আছে।

‘আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্বরণ করছি এই গণতন্ত্রকামী বীরসেনানীকে। ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে রাজুর আত্মদানের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজকের এই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। রাজুর এই আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে।’’

উল্ল্যেখ্য, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী গণ-আন্দোলন যখন তুঙ্গে সে সময় চাঁদপুর শহরের সরকারি কলেজ থেকে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলে কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী এবং মেধাবী ছাত্র জিয়াউর রহমান রাজু পাটওয়ারী মিছিলের অগ্রভাগে ছিলেন।

৯০’এর ২৭ নভেম্বর ঢাকায় চিকিৎসক নেতা ডাঃ সামছুল আলম মিলন নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিক্ষোভের দাবানল জ্বলে ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে পরদিন ২৮ নভেম্বর বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয় চাঁদপুর সরকারি কলেজের দ্বাদশ বাণিজ্য বিভাগের ছাত্র ও ছাত্রলীগ নেতা জিয়াউর রহমান রাজু।

মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে চিত্রলেখা সিনেমা হল মোড়ে আসা মাত্র বিনা উস্কানিতে পুলিশ মিছিলের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। ওই সময় মিছিলের সম্মুখভাগে থাকা রাজু শরীরে গুলিবিদ্ধ হয়।পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আহত রাজুকে উদ্ধার করে তখন চাঁদপুর সদর হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে আসা হয়।

তার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হতে থাকে। ওই সময় চিকিৎসকদের পরামর্শে অগণিত ছাত্র রক্ত দিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ৩ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়।রাজুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চাঁদপুরে দাবানলের মতো জেগে উঠেছিল স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন।

শহীদ জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজু’র জানাযা অনুষ্ঠিত হয়েছিলো চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে এবং সর্বদলীয় ছাত্র সংগঠনের সিদ্ধান্তক্রমে শহীদ জিয়াউর রহমান রাজুর পাটওয়ারীকে সম্মানের সাথে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে অবস্থিত শহীদ মিনারের পাশে সমাধিস্থ করা হয়।

শহীদ জিয়াউর রহমান পাটওয়ারী রাজুর বাবার নাম ফজলুল রহমান পাটওয়ারী। মা ঝর্ণা বেগম। ৪ ভাই-বোনের মধ্যে রাজু ছিলো সবার বড়। বিগত ২০১৪ সালে রাজুর বাবা ফজলুল রহমান পাটওয়ারী স্বস্ত্রীক হজ পালন করেন এবং মদিনায় হজ পালন শেষে ইন্তেকাল করেন।

১৯৭৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রাজু জন্মগ্রহণ করে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ১৬ বছর ১০ মাস ২ দিন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও সে সময়কার বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা চাঁদপুরে সফরে আসলে পাটোয়ারী বাড়ির প্রতিটি ঘরে ঘরে সাক্ষাৎ ও দেখা করার পর শহীদ জিয়াউর রহমান পাটোয়ারী রাজুর মা-বাবা ও ভাই-বোনের সাথে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে তাদেরকে সান্তনা দিয়ে যান। ১৯৯৯ সালের ২৮ নভেম্বর ও ২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা সরকারি সফরে এসেও রাজুর পরিবারের খোঁজ-খবর নেন।