সংবাদ শিরোনাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইয়ের হাতে বোন খুন!টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলায় কলেজ ছাত্র নিহতফেনীর সোনাগাজী পৌর মেয়রের জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি‘ভারতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই মুসলমানদেরকে শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছে’দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশেরসাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশুকুয়াকাটায় সৈকতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যুঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডশাহজাদপুরে বসতবাড়িতে চোরাই তেলের অবৈধ গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৩ জন দগ্ধটাঙ্গাইলে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

  • আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

প্রতি শুক্রবার উইঘুর মুসলিমদের শূকর খেতে বাধ্য করে চীন

◷ ৯:৪৪ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২০ আন্তর্জাতিক
uighur

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর মুসলিমদের মধ্যে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ মনোভাব তৈরী করতে বিশেষ শিবিরে নিয়ে জোর করে শুকরের মাংস খাওয়ানোর অভিযোগ উঠেছে।

মুসলমানদের পবিত্র জুমার দিনে ওই প্রদেশের বন্দিশিবিরগুলোতে উইঘুরদের শুকরের মাংস খেতে বাধ্য করা হতো। আর এই মাংসের সরবরাহ নিশ্চিত করতে সেই অঞ্চলে শুকরের খামারও স্থাপন করা হয়।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সায়রাতুল সৌতবায় নামের একজন পেশাদার চিকিৎসক ও শিক্ষক এই অভিযোগ তোলেন। বর্তমানে সুইডেনে বসবাস করছেন তিনি।

সম্প্রতি তার একটি বই প্রকাশ হয়েছে। যাতে তার অগ্নিপরীক্ষার বিস্তারিত উঠে এসেছে। তুলে ধরা হয়েছে, কাছ থেকে দেখা নির্যাতন, যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক বন্ধ্যাকরণসহ নানাধরনের নৃশংসতার বর্ণনা।

সম্প্রতি আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাতকারে উইঘুর মুসলমানদের বিরুদ্ধে চালানো চীনা সরকারের নির্মমতা বিশেষভাবে উত্থাপন করেন তিনি। উঠে আসে ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ শুয়োরের মাংস খেতে বাধ্য করা হয় উইঘুর মুসলমানদের।

সৌতবায় বলেন, প্রতি শুক্রবার আমাদের জোরপূর্বক শুয়োরের মাংস খেতে বাধ্য করা হতো। তারা সচেতনভাবে মুসলমানদের কাছে অতি এ পবিত্র দিনটিকে বেছে নিয়েছে শুয়োরের মাংস খাওয়ানোর জন্য। যদি আপনি শুয়োরের মাংস প্রত্যাখ্যান করেন, আপনাকে কঠোর শাস্তি পেতে হবে।

‘এই কাজটি করা হতো আটক উইঘুররা যাতে মুসলমান হওয়ার কারণে অপমানবোধ করে, নিজেকে অপরাধী মনে করে। শুয়োরের মাংস খাওয়ার সময় আমাদের কতটা খারাপ লাগতো, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’ বলেন তিনি।

‘নিজেকে আমার কাছে অপরিচিত একজন মানুষ মনে হতো। চারপাশে ঘুটঘটে অন্ধকার থাকতো সবসময়। সত্যি বলছি, ভয়াবহ এ পরিস্থিতি আমি কখনো মেনে নিতে পারিনি।’

সৌতবায় এবং অন্য সাক্ষাতকার প্রদানকারীদের বর্ণনায় উঠে আসে জিনজিয়ানে ২০১৭ সাল থেকে আটক কেন্দ্র তৈরি, নজরদারিসহ নানারকম নির্মমতার মাধ্যমে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে কিভাবে চীনা সরকার মুছে ফেলছে। যদিও এ নৃশংসতাকে উগ্রবাদবিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে চীন।

তবে আল জাজিজার কাছে যেসব তথ্য প্রমাণ এসেছে এবং জার্মানি অ্যানথ্রোপোলজিস্ট এবং উইঘুর স্কলার অ্যাড্রিয়ান জেন্সের বক্তব্য অনুযায়ী বেইজিংয়ের কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনাও উইঘুরদেরকে তাদের ধর্মবিশ্বাস থেকে দূরে সরানোর পদক্ষেপের অংশ।

জেন্সের বক্তব্য, নথিপত্র এবং চীনের রাষ্ট্রীয় অনুমোদিত নিবন্ধে উইঘুর মুসলমাদের অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ মেলে। উইঘুরদের অভিযোগ, জিনজিয়ানে শুয়োরের খামার স্থাপন এবং বিস্তৃতকরণে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে বেইজিং।

২০১৯ সালের নভেম্বরে জিনজিয়ানের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সোহরাত জাকির বলেন, স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলটি শুয়োর উৎপাদনের বৃহত্তর কেন্দ্র হতে যাচ্ছে। উইঘুররা বলছেন, এটি তাদের জীবনযাপনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মে মাসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধনের বরাতে জেন্স জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় কাশগরে একটি নতুন খামার করার ঘোষণা দেওয়া হয়। যেখান থেকে প্রতিবছর ৪০ হাজার শুয়োর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা তাদের।

চীনা ভাষার ওয়েবসাইট সিনা জানিয়েছে, কাশগরের কোনাক্সাহার কাউন্টি, বর্তমানে ওই কাউন্টির পরিবর্তিত নাম শুফু, সেখানে ওই প্রকল্পের জন্য ২৫ হাজার বর্গমিটার এলাকা গ্রহণ করা হচ্ছে।

২৩ এপিল রমজানের প্রথমদিন শুয়োর উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়। রমজান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ মাস। সে সময় কর্তৃপক্ষ জোর দিয়ে জানায়, রফতানির জন্য শুয়োরের খামার তৈরি করা হচ্ছে না। কাশগরে শুয়োর সরবরাহ নিশ্চিত করতেই খামার স্থাপন করা হচ্ছে।

কাশগর এবং এর আশপাশের বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই মুসলমান। আল জাজিরাকে জেন্স বলেন, জিনজিয়ানের মানুষের সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় বিশ্বাস চিরতরে মুছে ফেলার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে সরকার। উইঘুরদের ধর্মনিরপেক্ষ বানানো, তাদেরকে কমিউনিস্ট পার্টির শিক্ষা দেওয়া, তাদেরকে নাস্তিক বা অবিশ্বাসী বানাতে এ পরিকল্পানা, যোগ করেন জেন্স।