🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

২০১৩ সালে তাণ্ডব: ৭ বছর পর হেফাজতের মামলার তদন্ত শুরু

হেফাজত
❏ রবিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২০ ফিচার

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কয়েক হাজার সদস্য ২০১৩ সালে ৫ মে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জায়গায় অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালায়। এ ঘটনায় দায়ের করা ৬২টি মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা সারা দেশের সব ভাস্কর্য নামিয়ে ফেলার হুমকি দেওয়ার পর এই ব্যবস্থা নেওয়া হলো। খবর- দ্য ডেইলি স্টারের

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘মামলাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন ছিল। সেগুলো শেষ করতে হবে। তবে এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া এবং এর জন্য বিশেষ কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’

তিনি জানান, মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে হবে এবং এর জন্য চূড়ান্ত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিতে হবে।

রাজধানীর ধোলাইখালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাস্কর্য স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী সম্প্রতি বলেছেন, স্থাপন করা হলে ভাস্কর্যটি টেনে নামানো হবে। গত বৃহস্পতিবার হেফাজত নেতাদের একটি অংশ ‘ফতোয়া’ দেন যে কোনো ব্যক্তি বা প্রাণীর মূর্তি বা ভাস্কর্য ইসলামে নিষিদ্ধ।

জাতির পিতার ভাস্কর্য সম্পর্কে একাধিক হেফাজত নেতার বক্তব্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং ব্যক্তি পর্যায়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কয়েক হাজার সদস্য ২০১৩ সালে ৫ মে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে মতিঝিল ও পল্টন এলাকাকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করে। তারা কয়েকশ দোকান, গাড়ি ও পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন বইয়ের দোকানে লুটপাট করে। পরের কয়েকদিন বিভিন্ন জেলাতেও এই সংঘর্ষ হয়।

এসব ঘটনায় ঢাকাসহ সাত জেলায় মোট ৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে তিন হাজার ৪১৬ জনের নামে এবং ৮৪ হাজার ৭৯৬ জনকে অজ্ঞাত নামা আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন হেফাজতে ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম ও বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এসব মামলার মধ্যে শুধুমাত্র বাগেরহাটে দায়ের হওয়া মামলাটি নিষ্পত্তি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুলিশ বা প্রসিকিউটররা হত্যা চেষ্টা, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগে আসামিদের দোষী প্রমাণ করতে না পারায় সবাইকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বাকী মামলার মধ্যে ১৮টির তদন্ত চলছে এবং দুটির অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও স্থবির অবস্থায় রয়েছে ৬২টি মামলা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মামলাগুলো নিয়ে সরকারের যথেষ্ট আগ্রহের অভাবে এসব মামলার তদন্ত থমকে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘পুলিশের হাতে অনেক বিচারাধীন মামলা ছিল যেগুলোকে শেষ করতে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে। এখন তারা ধীরে ধীরে এই মামলাগুলোর তদন্ত শেষ করবে।’

মোট ৮৩টি মামলার মধ্যে সাতটি হত্যা মামলাসহ ৫৩টি মামলা হয়েছে রাজধানীতে। এতে আসামি করা হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, যে কোনো মামলার তদন্তের গতি যেকোনো সময় বাড়তে পারে। ‘আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছুই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।’

ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহবুব আলম জানান, আসামিদের মধ্যে ‘বিভিন্ন আন্দোলনে’ জড়িত ছিলেন এমন কেউ রয়েছেন কি না তা খতিয়ে দেখছেন তারা।

পুলিশের উপপরিদর্শক শাহজাহান হত্যা মামলার প্রধান আসামি হেফাজত নেতা জুনায়েদ বাবুনগরীকে ২০১৩ সালের ৬ মে গ্রেপ্তার করা হয়। স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি ২৯ মে জামিন পান। এরপর থেকে তিনি জামিনেই রয়েছেন।

মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সদস্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষ চলাকালে নিহত হন শাহজাহান। হেফাজতের দাবি, শাপলা চত্বরের ঘটনায় তাদের দুই হাজার নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন। কিন্তু, তিন পুলিশ সদস্যসহ মোট ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে সরকার।

তবে, যাদের হত্যার দাবি করা হয়েছে তাদের নাম ও ঠিকানা দিতে পারেনি হেফাজত।