🕓 সংবাদ শিরোনাম
  • আজ রবিবার, ২০ অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ ৷ ৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ৷

শেষকৃত্যের টাকা না থাকায় মাটি চাপা হলো ৬জনের

Tangail 1 family 6 death
❏ রবিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২০ ঢাকা

মোল্লা তোফাজ্জল, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের দৌলুতপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত একই পরিবারের ৬ জনের মরদেহ শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুরে।

তবে টাকার অভাবে শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামের নিহতদের শেষকৃত্য না করে নিজ বাড়ির আঙিনায় মাটি চাপা দেওয়া হয়। তবে সকালে মরদেহগুলো মাটিচাপা দেওয়ার ঘন্টাখানেক পর জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করে আর্থিক সহযোগিতা দেন।

নিহতরা হলেন, নাগরপুর উপজেলার চাষাভাদ্রা গ্রামের বাদ্যকরপাড়ার প্রয়াত নিতাই বাদ্যকরের ছেলে হরেকৃষ্ণ বাদ্যকর (৫০), তার ছেলে গোবিন্দ বাদ্যকার (২৮), গোবিন্দের স্ত্রী ববিতা বাদ্যকর (২৫), মেয়ে রাধে বাদ্যকর (৪), গোবিন্দের দাদি খুকি বাদ্যকর (৭০), গোবিন্দের ধর্ম শ্বশুর একই এলাকার প্রয়াত জুড়ান বাদ্যকরের ছেলে রামপ্রসাদ বাদ্যকার (৩৫)। এছাড়াও এ ঘটনায় নিহত হন সিএনজি অটোরিক্সা চালক দৌলতপুর উপজেলার সমেতপুর গ্রামের সদর আলীর ছেলে সিএনজি চালক জামাল শেখ (৩০)।

ভাদ্রা গ্রামের ইউপি সদস্য মো. বেল্লাল সর্দার জানান, নিহতের পরিবারে হরেকৃষ্ণ বাদ্যকারের স্ত্রী ঝর্না বাদ্যকার এবং নিহত দুভাইয়ের স্ত্রী ছাড়া আর কেউ বেঁচে নেই। তারা খুবই দরিদ্র ও অসহায়। একসঙ্গে ছয়জনের মরদেহ দাহ করতে ৭০-৮০ হাজার টাকার মতো প্রয়োজন। এতো টাকা ওই পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই সবার সিদ্ধান্তে মরদেহগুলো সকালে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা যদি দাহ করার দাবি জানাতেন তাহলে আমাদের সহযোগিতায় মরদেহগুলো দাহ করা হতো।

ছয়জনের মরদেহ শেষকৃত্য না করে মাটি চাপা দেয়ার কথা স্বীকার করে ভাদ্রা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান জানান, সকালে মরদেহগুলো মাটিচাপা দেওয়ার ঘন্টাখানেক পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরেকৃষ্ণ বাদ্যকারের পরিবারসহ ছয়টি পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

নাগরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে হরেকৃষ্ণের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা, চাচাতো ভাই রাম প্রসাদ বাদ্যকারের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা ও একইদিন সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত সিএনজি চালিত অটোরিকশার চালক জামাল শেখের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। তবে একই পরিবারের ছয়জনকে টাকার অভাবে শেষকৃত্যের পরিবর্তে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছে কি না তা তিনি জানেন না। এ বিষয়ে তাকে কেউ অবগত করেননি। এছাড়াও যদি নিহতের স্বজনরা কেউ তাকে বিষয়টি অবগত করতেন তাহলে অবশ্যই প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হতো বলেও জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান জানান, দূর্ঘটনায় ছয়জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর থেকেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রাখা হচ্ছিল। এছাড়াও ওই গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যানের সাথেও দফায় দফায় কথা হয়। তবে টাকার অভাবে তাদের পরিবার শেষকৃত্য করতে পারছেনা এ বিষয়টি তাদের জানানো হয়নি। এরপরও সকালে তারা সহযোগিতা করতে এগিয়ে যান ও সহযোগিতা করেছেন। তবে এর আগেই নিহতদের মাটি চাপা দেয়া হয়।

অনুদান প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত-ই-জাহান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুর প্রমুখ।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে নাগরপুর থেকে নাতনি রাধেকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের ডাক্তার দেখানোর জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রওনা দেন দাদা হরেকৃষ্ণসহ ওই পরিবারের ছয়জন। দুপুর আড়াইটার দিকে ঘিওর-দৌলতপুর আঞ্চলিক সড়কের মূলকান্দি এলাকায় বাস ও অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন ওই পরিবারের দুই নারীসহ ছয়জন।