সংবাদ শিরোনাম

ছাত্রীকে বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করলেন অধ্যক্ষউম্মতের প্রতি প্রিয় নবীর অগাধ ভালোবাসাফেব্রুয়ারিতে খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানবঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় ৩০ কিলোমিটারের যানজটগাজীপুর ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৫০১ পিস ফেনসিডিল উদ্ধার, গ্রেফতার-২কক্সবাজার দুই উপজেলায় পানি সংকটে কৃষকদের হাহাকার, বাঁধ নির্মাণে নানা অনিয়মবেলকুচিতে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান সম্পর্কে প্রেস ব্রিফিংদম্পত্তির অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে জেলহাজতে ছাত্রলীগ সম্পাদকপদ্মা নদীতে ভ্রমণতরীর উদ্বোধন করলেন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীসবকিছু ছবি তুলে ফেসবুকে দিতে হয় না : আজহারী

  • আজ ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

খুনেই শেষ দেবরের সঙ্গে নিষিদ্ধ প্রণয়: আদালতে বিথির লোমহর্ষক বর্ণনা

◷ ১২:০১ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, ডিসেম্বর ৭, ২০২০ চট্টগ্রাম
মাদব খুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের টেরিবাজারে আফিম গলির বাসায় পরকীয়া প্রেমিক মাধব দেবনাথকে খুনের ঘটনায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বিথি দেবনাথ (২৪)।

রোববার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম সরোয়ার জাহানের আদালতে তিনি এ জবানবন্দি দেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া বিথি দেবনাথের সেই জবানবন্দিতে বের হয়ে আসে খুনের লোমহর্ষক বর্ণনা।

এর আগে এই ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিথি দেবনাথকে আদালতে হাজির করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। এক পর্যায়ে তিনি জবানবন্দি দিতে রাজি হলে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। আদালত, কোতোয়ালী থানা পুলিশ ও নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) শাহাবুদ্দিন আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জবানবন্দিতে বিথি দেবনাথ বলেন, ‘ঘটনার দিন (২ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক পৌঁনে ১০টার দিকে কারেন্ট চলে গেলে আমার দেবর, শশুর ও শাশুরিসহ সবাই বাসার বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি টেরিবাজারে আগুন লাগছে তাই কারেন্ট চলে গেছে। আমি রুমে বিছানায় শুয়ে ছিলাম। দরজা খোলাই ছিল। একটু পর শশুর-শাশুড়ি বাসায় ফিরে আসে এবং এক পর্যায়ে হঠাৎ আমার রুমে আমি মাধব দেনাথকে দেখতে পায় এবং তাকে জিজ্ঞেস করি যে, তুমি কিভাবে ঘরে ডুকেছ?

জবাবে সে বলে, সে দোকানে ছিল। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এবং বাসার অন্যদের বাসা থেকে বের হতে দেখে সুযোগ বুঝে সে বাসায় ঢুকে। তখন আমার হাত পা কাঁপছিল। আমি মাধবকে জিজ্ঞাসা করি- কেন এসেছো এবং কিভাবে আমার স্বামীর নিকট ভিডিওটা (বিথির খোলামেলা ভিডিও) পাঠিয়েছিল। সে জানায়, আমার এলাকার সিনিয়র ভাই পবিত্র দেব ভৌমিকের আইডি থেকে ছবি নিয়ে ফেক আইডি খুলে ওই আইডি থেকে ভিডিও আমার হাজবেন্ডকে দেয়।’

‘এক পর্যায়ে মাধব আমাকে বলে, ও যেভাবে আমাকে চায় ওভাবে ওকে দিতে হবে। ওর কথা শুনতে হবে, নইলে ওর নিকট আমার যে ভিডিওগুলো আছে সেগুলো আমার ভাই, কাকা আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে আমাকে চরিত্রহীনা বানাবে। আমার হাজবেন্ডকে হাজারী গলিতে কোন দিনও মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা করবে। তখন আমি তাকে বলি, কি করতে হবে, কি করলে আমি ভাল থাকতে পারব? তখন সে বলে, সে যা বলবে আমাকে তাই করতে হবে। ও বারবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে স্পর্শ করতে চাচ্ছিল। তখন আমার মাথায় আসে যে, এখান থেকে বের হয়ে যেতে পারলে সে যে কাউকে আবারও ভিডিওগুলো দেখাতে পারে। তাই আমি মন স্থির করি যে, তাকে মেরে ফেলতে হবে। তাকে মারার কৌশল হিসেবে আমি তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিই এবং বলি, তুমি যেভাবে চাইবে সেভাবে হবে। আমার কোন আপত্তি নাই। তাকে বলি, আমি আজকে আমার মনে যেভাবে চায় সেভাবে তোমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করব। এতে সে রাজি হয়ে যায়। আমি তাকে কৌশলে ফ্লোরে শুয়াই। আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি গামছা দিয়ে ওর মুখ বেধে ফেলি।’ -বলেন বিথি দেবনাথ।

জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘তাকে আমি এই বলে আশ্বস্ত করি যে, শারীরিক সম্পর্ক করার সময় তুমি যদি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে কোন আওয়াজ করো তখন রুমের বাইরে আওয়াজ যাবে। তখন আমরা বিপদে পড়ে যাব। সে আর বাধা দেয় নাই। কথা বলতে বলতে এবং আদর করতে করতে আমি ওর পা আমার সেলাই মেশিনের নিকট থাকা এক টুকরো কামিজের কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলি। হাতও পুরোনো উড়নার টুকরো দিয়ে বেঁধে ফেলি। আমার মাথায় শুধু ওকে মারার জন্য চিন্তা ছিল। এক পর্যায়ে আমি ওর রানের উপরে বসে গলায় গামছা দিয়ে গলা চেপে ধরি। দুই মিনিট পর দেখি ওর চোখ থেকে পানি পড়তেছিল। হাত ও পা ছুড়তেছিল। তখনও আমি গলা চেপে ধরে রাখি। নাক ও মুখ থেকে ফেনা বের হতে লাগলে আমি গলা ছেড়ে দিই এবং ওর পা খাটের নিচে ঢুকাই। পরে পুরো শরীর ঠেলে ঢুকিয়ে দিই।’

জবানবন্দিতে বিথি বলেন, ‘মাধবের মরদেহ খাটের নিচে ঢুকানোর পর আমার শরীর কাঁপছিল। প্রচুর ঘামছিলাম। ও নড়া-চড়া করছিল না। ওর স্মার্ট মোবাইল ফোনটি নিয়ে আমার কাঠের আলমারিতে রাখি। শাশুড়ি ডাকার কারণে আমি রুম থেকে বের হলে শাশুড়ি আমার হাত ধরে দেখে আমি কাঁপতেছি। আমাকে শাশুড়ি বাথরুমে নিয়ে মাথায় জল দেয়। শাশুড়ি রুমে নিয়ে মাথায় তেল দেয়, পরে ভাত খেতে বললে শাশুড়িকে রেখে খাবার রুমে যাই। খাবার খাইনি। না খেয়ে প্রেসারের একটি ঔষধ আর মাথাব্যাথার একটি ঔষধ খাই। আমার হাজবেন্ড আসার আগ পর্যন্ত আমার শাশুড়ির রুমে ছিলাম। পরবর্তীতে আমার রুমে গিয়ে শুয়ে পড়ি। পরের দিন ৩ ডিসেম্বর দুপুরে খাওয়া দাওয়ার পর সবাই ঘুমালে আমি ওর মোবাইল আলমারি থেকে বের করে অন করি। কিন্তু পের্টান লক থাকায় কোন কিছু দেখতে পারি নাই। সেফ্টি পিন দিয়ে ওর মোবাইল থেকে গ্রামীণ সিম বের করি। বিকেল অনুমান সাড়ে ৪ টার দিকে ওর স্মার্ট ফোনটি বাথরুমের দেয়ালে থাকা ছোট জানালা দিয়ে বাহিরে ফেলে দিই। ওর সিমটি আমার বাটন মোবাইলের বাংলালিংক সিম সরিয়ে ওর সিমটি লাগাই।’

‘সিম লাগানোর পর ওর সিমে থাকা সকল সেইভ নাম্বার আমার মোবাইলে চলে আসে। আমি ওর বন্ধু সুজিতের নাম্বারে বিকাল আনুমানিক পাঁচটার দিকে ওর হয়ে একটি ম্যাসেজ দিই লিখি যে, আগে যা যা বলেছি সব মিথ্যে কথা। বৌদির কোন দোষ ছিল না। তারপর ননদের জামাই দিপুকে একটা মেসেজ দিই। তখন দোকান থেকে মাধবের ভাতিজা মেসেজ দেয় কাকা তুমি কোথায়, কল দাও। ওর সকল আত্মীয় বন্ধু সবাই একের পর এক ওই সিমে কল দিতে থাকে আমি কেটে দিই। আমি এক পর্যায়ে শম্পাকেও একটা মেসেজ দিয়ে ফোনটা অফ করে দিই। সন্ধ্যার পরে আবার মোবাইল অন করে আকাশকে একটা মেসেজ দিই। আকাশ কোথায় আছে মেসেজ দিয়ে জিজ্ঞাসা করলে আমি মেসেজে লিখি- আমি যেখানে আছি ভাল আছি।’ – বলেন বিথি দেবনাথ।

‘পরদিন ৪ ডিসেম্বর ভোর আনুমানিক সাড়ে চারটার দিকে আমার ননদের জামাই দিপু তার এলাকার গিয়াস নামক একজন লোকসহ আমাদের বাসায় আসে। দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে মাধবের বড় ভাই ও মাধবের বড় বোনের জামাই বাসায় আসে। তারপর দুপুরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমার শ্বাশুড়ি প্রথমে আমার রুমে এসে আমাকে বলে ঘরের ভিতরে একটা পঁচা গন্ধ বের হচ্ছে। আমাকে বলে- একটু পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য। সন্ধ্যা ৫টা থেকে সাড়ে পাঁচটার মধ্যে আমার মা বাসায় আসে। এসে খাওয়া দাওয়া করে আমার শ্বাশুড়ির সাথে কথা বলছিল।’

বিথি আরও বলেন, ‘রাত ১১টার দিকে আমার হাজবেন্ড বাথরুমে স্নান করতে গিয়েছিল। স্নান করে রুমের ঢুকে কোথায় থেকে গন্ধ আসছিল তা পুরো ঘর দেখছিল। তারপর খাটের নিচে চেক করতে গিয়ে ও প্রথম খাটের নিচে কিছু একটা দেখতে পায়। মোবাইলের ফ্লাশ দিয়ে আবার দেখে সাথে সাথে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। তারপর আমার হাজবেন্ড আমার ননদ শম্পার জামাই দিপুকে ডাক দিয়ে দেখায়। আমার হাজবেন্ড পিন্টুর বন্ধু পুলিশ কনস্টেবল আইয়ুবকেও আমার হাজবেন্ড বিষয়টি জানায়। আইয়ুবের মাধ্যমে পুলিশকে সংবাদ দিলে কিছুক্ষণ পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। পরদিন ৫ ডিসেম্বর পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমাকে থানায় নিয়া যায় এবং আমার দেয়া তথ্য মতে বাসার পিছনের নালা থেকে মাধবের ফেলে দেওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করেন।’

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বিথি আরও বলেন, ‘২০১৮ সালের মার্চের ১ তারিখে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের আনুমানিক দশ দিন পর চট্টগ্রাম আসি। লালদীঘির পাড় জামাল কমপ্লেক্সের উপরে চার তলায় আমরা ভাড়া ছিলাম। আমার হাজবেন্ডসহ ছিলাম। মাধব আমার স্বামীর পিসাত (ফুফাত) ভাই। সে আমাদের বাসায় সাড়ে তিন হাজার টাকার বিনিময়ে দু’বেলা খোরাকি ভাত খেত। মাঝে ও কয়েক দিন অসুস্থ ছিল। মাঝে মাঝে আমি কিছু সেবা যত্নের কাজে শাশুড়ির সাথে সহযোগিতা করতাম। সুস্থ হওয়ার পর থেকে মাধবের সাথে আমার ফোনে কথা হতো এবং ম্যাসেজে চ্যাটিং হতো। এভাবে তার সাথে আমার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে আমার বাসায় মাধবের সাথে আমার শারীরিক সম্পর্কও হয়।’

‘লকডাউন শুরু হলে মার্চের ২৭ কিংবা ২৮ তারিখ মাধব দেশের বাড়িতে চলে যায়। আমার সাথে মাধব আমার স্বামীর মোবাইলে ইমোতে ভিডিও কলে কথা বলতে থাকে। এক পর্যায়ে সে আবদার করলে আমার স্বামীর মোবাইল দিয়ে আমার খোলা অবস্থায় বুকের ভিডিও করে তার ইমোতে পাঠাই। পরে আমার স্বামীর মোবাইল থেকে তা ডিলেট করে দিই। লকডাউনের তিন মাস মাধব বাড়িতে ছিল। ভিডিও কলে আমাদের কথা বার্তা প্রায়ই চলতে থাকে।’

বিথি তার জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘গত মে মাসের ২৪ তারিখ আমরা আফিমের গলিতে নতুন বাসা নিই। নতুন বাসায় আসার এক থেকে দেড় মাস পর মাধব শহরে আসে। ১০ থেকে ১২ দিন আমাদের বাসায় খোরাকি খায়। আমার হাজবেন্ড মাধবের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। ধারের টাকাটা সুদসহ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমার হাজবেন্ডের সাথে মাধবের ঝামেলা হয়। এতে মাধবের সাথে আমার শশুরের পরিবারের সম্পর্ক খারাপ হয়। আমার হাজবেন্ড মাধবের পাওনা টাকা ফিরিয়ে দিয়ে মাধবকে আমাদের বাসায় আসতে নিষেধ করে। তারপরও মাধব আমার সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করে।’

‘এ বছরের আগস্ট মাসে আমি বাপের বাড়িতে যাই। সে আমার ভাই লিটনের স্ত্রীর নম্বরে ফোন দিয়ে আমার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করে। দুই-তিনদিন মাধব ফোন দেয়ার পর আমার বৌদি বিউটি আমাকে মাধবের সাথে কথা বলার জন্য ফোন দেয়। আমি ওর সাথে কথা বললে সে বলে আমার নিকট তোমার ব্যক্তিগত ভিডিও রয়েছে। আমার সাথে কথা না বললে আমি ভিডিওটি তোমার স্বামীসহ আত্মীয়-স্বজনের কাছে পাঠিয়ে দিব মর্মে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে আমি ওকে বলি আমি শহরে এসে তোমার সাথে কথা বলব, তুমি ভিডিওর ব্যাপারে কাউকে কিছু বলিও না। তবে বিভিন্ন কারণে আমি তার সাথে দেখা করতে পারিনি। এতে সে আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত নভেম্বর মাসে কালি পূঁজার দুইদিন পর পবিত্র দেব ভৌমিক নামে একটি ফেক আইডি থেকে আমার স্বামীর মেসেঞ্জারে মাধবের নিকট থাকা আমার বুকের উপরের অংশের একটি ভিডিও পাঠায়। তখন আমার স্বামী ভিডিওটি আমাকে দেখায়। আমি কোন জবাব দিতে পারিনি। আমার স্বামী আমার সাথে কথা কম বলতে থাকে। মানসিক চাপের মধ্যে থাকে। ভিডিও পাঠানোর একদিন পর আমার শাশুড়ির নাম্বার থেকে আমি মাধবকে ফোন দিই। ওকে বলি, আমার ভিডিও তো তোমার মোবাইলে থাকার কথা, অন্যের নিকট কিভাবে গেল। সে আমাকে বলে আমি এ ব্যাপারে কিছু জানি না। তখন আমি তার সাথে দেখা করার কথা বলি। আমার সাথে দেখা করার আগে কাউকে আর ভিডিও দেয়ার জন্য নিষেধ করি। এরপর ২১ নভেম্বর ফোন দিয়ে আমি তাকে আমার সাথে দেখা করার জন্য বলি। সে বলে সুযোগ মতো আমাদের বাসায় আসবে।’

উল্লেখ্য, গত ৪ ডিসেম্বর রাত ১২টার দিকে নগরীর টেরীবাজারের আফিম গলির একটি চার তলা ভবনের নিচ তলা থেকে স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী মাধব দেবনাথের লাশ উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। তখন পুলিশ জানিয়েছিল- মামাতো ভাই পিন্টুর বউ বিথির সাথে পরকীয়া প্রেমের জেরে মাধব দেবনাথকে তিনদিন আগেই খুন করা হয়েছিল।

পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে ঘটনা জানাজানি হয়। খুনের শিকার মাধব দেবনাথ, খুনি বিথি দেবনাথ ও বিথি দেবনাথের স্বামী পিন্টু তিনজনই কুমিল্লা জেলার মুরাদ নগর এলাকার বাসিন্দা। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মাধব দেবনাথের পরিবারের অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে বিথি দেবনাথকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।