সংবাদ শিরোনাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইয়ের হাতে বোন খুন!টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলায় কলেজ ছাত্র নিহতফেনীর সোনাগাজী পৌর মেয়রের জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি‘ভারতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই মুসলমানদেরকে শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছে’দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশেরসাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশুকুয়াকাটায় সৈকতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যুঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডশাহজাদপুরে বসতবাড়িতে চোরাই তেলের অবৈধ গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৩ জন দগ্ধটাঙ্গাইলে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

  • আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দিনে বাড়ির আঙ্গিনায়, রাতে গোয়াল ঘরে শিকলে বন্দি জামালপুরের সোহেল

◷ ১১:১১ পূর্বাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৮, ২০২০ ময়মনসিংহ
সোহেল

জামালপুর প্রতিনিধি- ধুলোবালি মাখা শরীর, পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে বাড়ির আঙ্গিনায় একটি পিলারের সাথে। শুধু মায়াভরা দু’টি চোখ দিয়ে ফ্যাল-ফ্যাল করে এদিক-ওদিক তাকিয়ে থাকে। এই তীব্র শীতে পরনে পাতলা কাপড়ের একটি শার্ট ও লুঙ্গি। শীতে শরীর কাটা কাটা হয়ে উঠেছে।

জামালপুরে মেলান্দহ উপজেলার ঘোষেরপাড়া ইউনিয়নের খাঁয়ের পাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর ছেলে মানসিক ভারসাম্যহীন সোহেল (২৩) এভাবেই কাটছে তার জীবন।

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির আঙ্গিনায় একটি পিলারের সাথে শিকল পায়ে মাটিতে বসে আছে সোহেল।

জানা গেছে, দিনে পিলারের সঙ্গে শিকলে বেঁধে আর রাতে গোয়াল ঘরের চৌকির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় সোহেলকে। প্রায় ১৩ বছর ধরে শিকলবন্দি জীবন কাটছে সোহেল।

সোহেলের মা বলেন, সোহেলের যখন সাত বছর বয়স হঠাৎ করেই তার খুব জ্বর আসে। চিকিৎসার পরে জ্বর ভালো হয়, তারপর থেকেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে থাকে সোহেল। এরপর জামালপুর হাসপাতলে চিকিৎসা করা হয়, তারপর থেকে আরো বেশি হতে থাকে। পারিবারিক অস্বচ্ছতার কারণে আর চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি সোহেলের। তার ১ বছর পর সোহেলকে আবার জামালপুর হাসপাতলে নিয়ে চিকিৎসা করা হয় কিছুদিন, টাকা পয়সা না থাকার কারণে সোহেলকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরো বলেন, তার বাবা মারা যাওয়ার পর পুরোপুরি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। তার বয়স বর্তমানে ২৩ বছর। সম্পদ বলতে ভিটে-মাটি ছাড়া আর কিছুই নেই। কেউ যদি আমার ছেলের চিকিৎসায় এগিয়ে আসতেন, তবে হয়তো সে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতো।

ঘোষেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুর রহমান বলেন, সোহেলের পরিবারের এখন চিকিৎসা করার মত সামর্থ্য নাই। সোহেল উন্নত চিকিৎসা করা হলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।