• আজ ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘ধনী দেশগুলো প্রায় সব ভ্যাকসিন নিজেদের দখলে নিয়েছে’- ড. ইউনূস

◷ ১১:৩৬ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, ডিসেম্বর ১১, ২০২০ ফিচার
Yunus

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‌‘ইউরোপ ও আমেরিকার ধনী দেশগুলো এরই মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় সবটাই তাদের জনগণের স্বার্থে নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে এবং এর ফলে নিম্নআয়ের দেশগুলো ভ্যাকসিন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছে।’

শুক্রবার (১১ ডিসেম্বর) ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছেন নোবেল জয়ী ইউনূস।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনকে একটি বৈশ্বিক সর্বসাধারণের সামগ্রী হিসেবে ঘোষণা করতে জুন মাস থেকে প্রফেসর ইউনূস বিশ্বব্যাপী এক প্রচারাভিযান শুরু করেছেন। এরই মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ২৪ জন নোবেল বিজয়ী এবং ১২৫ জন সাবেক প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও খ্যাতনামা ব্যক্তিরা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

আসন্ন ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধানদের ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সম্মেলন, দ্যা ট্রিপস সম্মেলন, ডাব্লিউটিও সম্মেলন ও আফ্রিকান ইউনিয়ন সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রফেসর ইউনূসের শুরু করা এবং আভাজ সমর্থিত এই পিটিশনে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ জন স্বাক্ষর করেছেন।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘ইউরোপ ও আমেরিকার ধনী দেশগুলো এরইমধ্যে এই ভ্যাকসিনের বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় সবটাই তাদের স্বার্থে নিজেদের দখলে নিয়ে গেছে এবং এর ফলে নিম্ন আয়ের দেশগুলো ভ্যাকসিন পাবার ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এর ফলে কোভ্যাক্স-এর মতো প্রশংসনীয় বর্তমান পদ্ধতিতেও ২০২১ সালের শেষে পৃথিবীর সর্বত্র এই ভ্যাকসিন পৌঁছানো যাবে না।’

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘উত্তর গোলার্ধকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোসের জরুরি সতর্কবার্তা বোঝানো যাচ্ছে না। সকলকে নিরাপদ না করা পর্যন্ত কেউই নিরাপদ নয়।’

প্রফেসর ইউনূস আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে সকল দেশকে জরুরিভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সামগ্রীসমূহ সংগ্রহ করতে হবে। সর্বনিম্ন খরচে সকলের জন্য কার্যকর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণদের- যেমন স্বাস্থ্যকর্মী ও বয়স্ক মানুষদের যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাকসিন দিতে হবে। এজন্য প্রায় ১০০টি দেশ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ও এর চিকিৎসা প্রযুক্তির প্যাটেন্ট ও বুদ্ধিবৃত্তিক মালিকানার ওপর একটি ব্যাপকভিত্তিক সাধারণ স্বত্বত্যাগ জারি করতে এ মাসে ডাব্লিউটিওতে একটি প্রস্তাবে সমর্থন দিতে যাচ্ছে। এইচআইভি-এইডস মহামারিতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা এই প্রস্তাবের কো-স্পন্সর। কোভিড ভ্যাকসিনকে প্যাটেন্টমুক্ত করতে এটি পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে দিতে পারে।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আভাজ কর্তৃক বিশ্বব্যাপী প্রচারিত এই পিটিশনে ওষুধ কোম্পানিগুলোকে স্বেচ্ছামূলকভাবে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক মালিকানা ও প্রযুক্তি হস্তান্তর করার মাধ্যমে এই ভ্যাকসিনকে পৃথিবীর সর্বত্র, কম খরচে ও কম সময়ে মানুষের জন্য সহজলভ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে।