একটি কুঁড়ো ঘর চেয়ে গৃহহীন অসহায় এক বৃদ্ধা মায়ের করুন আকুতি! (ভিডিওসহ)


❏ শনিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০২০ দেশের খবর

ফয়সাল শামীম, স্টাফ রিপোর্টার: মমতা বেগমের জন্য কারই বিন্দুমাত্র মমতা হয়নি! জীবনের শেষ কটা দিন নিজের একটা ঘরে থাকার জন্য এমপি,উপজেলা চেয়ারম্যান,ইউ,পি চেয়ারম্যান,ইউ,পি মেম্বারসহ সকলের কাছে ঘুরেছেন বছরের পর বছর। অবশেষে ’সময়ের কন্ঠস্বরের এ প্রতিবেদকের কাছে এসে পত্রিকার মাধ্যমে সমাজের হৃদয়বান বিত্তবানদের কাছে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে একটি ঘরের আবেদন জানিয়েছেন বিধবা মমতা বেগম।

তিনি বলেন, বিধবা হইচং প্রায় ২৫ বছর। আজ প্রায় ১০ বছর থাকি মুই খুব কষ্ট করি থাকোং! ঘরের টিন নষ্ট হয়েছে অনেক বছর আগে! স্থানীয় মানুষদের কাছে সাহায্য নিয়ে প্লাষ্টিক কিনি ঘরের উপরে দিয়ে আছং। পাঠখড়ি দিয়ে তৈরি বেড়াগুলো পোকায় খেয়েছে। দরজাও নাই! এলা জুটছে, এলা মুই কোডাই থাকিম? কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলি বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের মন্ডলেভিটা গ্রামের স্বামীহারা গৃহহীন বয়:বৃদ্ধ মমতা বেগম (৬০)।

জীবনের শেষ কটা দিন নিজের ছোট্ট কুড়েঘুরে কাটানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বয়:বৃদ্ধ মমতা বেগম! ঘরের আশায় মানুষের দ্বারে ঘুরতে ঘুরতে আজ তিনি কান্ত। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় মমতা বেগম জানান তার জীবনের কষ্টের নানান কথা। ২৫ বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছে মমতা। তারপর একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়ে একেবারে একা হয়ে পড়েন তিনি।

মানুষের বাড়ীতে কাজ করে সারাদিন মিলে ১ বেলা সামান্য খেতো। এদিকে ধিরে ধিরে নষ্ট হতে থাকে মমতা বেগমের ঘরের সবকিছু। মমতা শুরু করে ঘরের টাকা যোগাড়ের সংগ্রাম। ঘরের টাকা যোগাড় করার সেই সংগ্রামে আজ বৃদ্ধা মমতা পরাজিত। একটি কুঁড়ো ঘরে জীবনের শেষকটাদিন নামায আদায় করে কাটাতে চান তিনি। তিনি অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, দয়া করি কেউ যদি মোক একটা ছোট্ট ঘর তুলি দেইল হয় তাহলে ওই ঘরত ৫ ওয়াক্ত নামায আদায় করি সারাজীবন মুই তার জন্য আঁচল বিচি দোয়া করনু হয়।

প্রতিবেদকের বক্তব্যঃ সম্মানীত পাঠক, মমতা বেগম আমার গ্রামের মানুষ। এই ঘরের বিষয়ে লিখার জন্য তিনি আমার কাছে বহুবার এসেছেন। উনি যতবারই আমার কাছে এসেছেন আমি ততবারই তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগে যোগাযোগ করতে বলেছি। তিনি যোগাযোগও করেছিলেন কিন্তু কোন কাজ হয়নি। তাই আমি মমতা বেগমের ঘরের আকুতির কান্না শুনে তার ঘর তৈরি করে দেবার উদ্দ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু আমি তখনই ঘর তুলে দিতে পারব যখন আপনারা সবাই তাকে সাহায্য,সহযোগিতা করবেন। আমি স্থানীয় মিস্ত্রিদের সাথে কথা বলেছি। ১০ হাত ছোট ১টি ঘর তৈরিতে কংক্রিটের সিড়ি,টিন,কাঠ,বাঁশ,লোহা লস্কর ও মিস্ত্রি খরচ এবং ১টি চৌকি, তোষক বালিশ,একটি টিউবয়েল ও ১ টি লেট্রিন মিলে মোট ৩৯ হাজার টাকার মত প্রয়োজন। আপনারা দয়া করে সরেজমিনে এসে নিজে দাড়িয়ে থেকে হোক আর অথবা অস্য যে কোনভাবে হোক বয়:বৃদ্ধ গৃহহীন এই মানুষটাকে একটা ছোট থাকার মতো ঘরের ব্যাবস্থা করে দিন। আমি বিশ্বাস করি জেগে উঠবে মানবতাবোধ। মিথ্যা হবেনা ভুপেন হাজারিকার সেই গান ’বলো কি তোমার ক্ষতি জীবনের অথৈ নদী,পাড় হয় তোমাকে ধরে দুর্বল মানুষ যদি….

মমতা বেগমের ঘর বানাতে সহযোগিতা পাঠাতে বিকাশ পারসোনাল নম্বর-০১৭১৭১৬৪৫৭৪।

আরও তথ্য ও মমতা বেগমের সাথে অডিও ও ভিডিও কলে সরাসরি কথা বলতে আমাদের স্টাফ রিপোর্টার ফয়সাল শামীম-০১৭১৩২০০০৯১।

 

আরও পড়ুন :

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন