যৌনকর্মী বানানোর অভিযোগে ওসি-এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

◷ ৬:৪২ পূর্বাহ্ন ৷ সোমবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২০ রাজশাহী
Bagura news

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি:বগুড়ার শিবগঞ্জে এক গৃহবধূর ধর্ষণচেষ্টার মামলা না নিয়ে পাল্টা যৌনকর্মী হিসেবে আদালতে চালান দেয়ায় শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর রোববার বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি করেন শিবগঞ্জ উপজেলার জানগ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী ছাবিনা বেগম। মামলায় আসামি করা হয়েছে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম বদিউজ্জামান ও এসআই রতন কুমারকে।

বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে একজন প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে তদন্তের জন্য বগুড়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সিহালী ফকিরপাড়া গ্রামের আবদুর রশিদের ছেলে কলেজছাত্র রামিম হাসান রিমনের সঙ্গে বাদীর মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রিমনের পরিবার রাজি না থাকায় বাদী তার মেয়েকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। বিয়ের পরও রিমন বাদীর মেয়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। এদিকে স্বামী বাড়িতে না থাকায় রিমন গত ২৪ নভেম্বর দুপুরে বাদীর মেয়ের বাড়িতে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় পিরব ইউপি সদস্য আবুল কাশেম বাড়িতে ঢুকে রিমন ও বাদীর মেয়েকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

পরে শিবগঞ্জ থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান ও এসআই রতন কুমার রায় দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। থানায় রিমনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করতে চাইলে পুলিশ তা নেয়নি। পরে দুজনকে দ-বিধির ২৯০ ধারায় মামলা দিয়ে (পতিতাবৃত্তি) আদালতে চালান দেয়া হয়। পরে আদালত দুজনকে জামিনে ছেড়ে দেন।

বাদীর অভিযোগ ‘এসআই রতন কুমার রায় ১০ হাজার টাকা নেয়ার পরও ধর্ষণচেষ্টার মামলা না নিয়ে তার মেয়েকে পতিতা হিসেবে চালান দিয়ে সম্মান নষ্ট করেছেন। এ কারণে মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনও গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।’

বাদীর আইনজীবী আব্দুল বাছেদ জানান, ২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজত মৃত্যু নিবারণ আইনের ১৩ ও ১৫ ধারা অনুযায়ী নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।