ঠাকুরগাঁয়ে লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকে আবারো প্রসূতি মায়ের মৃত্যু

◷ ১:৫৮ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০২০ রংপুর
thakurgaon

কামরুল হাসান, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে লাইসেন্স বিহীন শিরোমনি ক্লিনিকে চার মাসের মাথায় আবারো দ্বিতীয় প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে শিরোমনি ক্লিনিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় ডাক্তার কমলা কান্ত বর্ম্মন (অবসর প্রাপ্ত) এই ক্লিনিকের সত্ত্বাধিকারী। দীর্ঘদিন যাবত সরকারী কোন নিয়ম নীতি না মেনে চালিয়ে যাচ্ছেন শিরোমণি নামে ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক সেন্টার।

এখানে অদক্ষ টেকনিশিয়ান নার্স ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে চলছে রুগীর যাবতীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা সহ সিজারিয়ানের মত সকল কাজ। গ্রামগঞ্জের সহজ সরল মানুষদের কাছে অবৈধভাবে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

মৃত্যু প্রসূতির অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে শনিবার রাতে উপজেলার করিয়া কলন্দা গ্রামের লক্ষীর স্ত্রী আদরীর (৩ সন্তানের জননী) প্রসব ব্যথা হলে তাকে শিরোমনি ক্লিনিকে নিয়ে ভর্তি করানো হয়।

এসময় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আদরীকে ওটি রুমে নিয়ে যায়। প্রসূতি মাকে নরমালে বাচ্চা ইস্যুর চেষ্টা করার পর ব্যর্থ হলে ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার কমলা কান্ত বর্ম্মন সিজারিয়ানের মাধ্যমে বের করেন জমজ সন্তান।

শিরোমণি ক্লিনিকের ম্যানেজার অভি চন্দ্র জানান সিজারের পর প্রসূতি মায়ের একলেমসিয়া দেখা দেয়। তখন উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই দিনাজপুর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথিমধ্যে প্রসূতি মা আদুরী মারা যায়। তবে জমজ শিশু দুটি এখনো সুস্থ রয়েছে।

উল্লেখ্য গত ২৫ আগষ্ট শিরোমনি ক্লিনিকে একই ঘটনায় উপজেলার কালুগাঁও গ্রামের সুরেনের স্ত্রী মালারাণীর সিজারের ১৫ মিনিট পর শিশু মারা যায়।
ইতিপূর্বে এই ক্লিনিকে আরো ৩ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এ প্রসঙ্গে ক্লিনিকের সত্ত্বাধিকারী ডাঃ কমলা কান্ত বর্ম্মন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন প্রসূতি মা আদুরীকে সিজারিয়ান অপারেশনের আধা ঘন্টা পর হাইপ্রেসার হওয়ার কারণে ব্রেনস্টক করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। হাসপাতাল যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তিনি মারা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী বলেন, আমি কিছুই জানিনা, তবে শুনেছি কি যেন শিরোমনিতে হয়েছে। আগে বিস্তারিত জানি তারপরে না হয় বলবো।