আজ ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মুক্ত দিবস

Gazipur news
❏ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২০ ফিচার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর:  আজ ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে গাজীপুর মহানগরীর ছয়দানা এলাকায় জেলার সবশেষ সন্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি  হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করা হয়। সেই সাথে এতে পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ভারী অস্ত্র ও যানবাহন ধ্বংস এবং বহু সেনা নিহত হয়। মুক্ত হয় গাজীপুর।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চূড়ান্ত মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পূর্বেই ১৯ মার্চ এই গাজীপুরের মাটিতে সর্বপ্রথম হয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। আর তাই সে সময় সারা দেশে স্লোগান উঠেছিল ‘জয়দেবপুরের পথ ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। ‍ আবার বিজয় লাভের পূর্ব ক্ষণে ১৫ ডিসেম্বর এই গাজীপুরের মাটিতেই সংঘটিত হয়েছিল হানাদার পাক বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তি ও মিত্র বাহিনীর সর্বশেষ বড় ধরনের সম্মুখ যুদ্ধ।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি ছিল গাজীপুরে।  জয়দেবপুর সেনানিবাস, সমরাস্ত্র কারখানা, রাজেন্দ্রপুর অর্ডন্যান্স ডিপোসহ বিভিন্ন জেলার সাথে যোগাযোগের জন্য গুরত্বপূর্ণ ছিল গাজীপুর। তাই পাকিস্তানিদের বড় ধরণের আঘাত হানতে এই জেলা দখল নেয়াটা ছিল সেই সময়ের দাবি। সে কারণেই নভেম্বরের শেষের দিকে মুক্তিযোদ্ধারা চতুর্মুখী গেরিলা অভিযান জয়দেবপুর সেনানিবাস, সমরাস্ত্র কারখানা, রাজেন্দ্রপুর অর্ডন্যান্স ডিপোসহ পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন অবস্থানে পরিকল্পিত আক্রমণ শুরু করে। এতে ভীতসন্ত্রস্ত ও বিপর্যস্ত পাকিস্তানি বাহিনী তাদের অবস্থান গুটিয়ে নিয়ে সেনাঘাঁটিতে একরকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।

মুক্তিযোদ্ধারা ১৩-১৪ ডিসেম্বর গাজীপুরে সেনানিবাসে সম্মিলিতভাবে আক্রমণ চালায়। টিকতে না পেরে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা ফিরে যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে। তারা জয়দেবপুর সেনানিবাস, সমরাস্ত্র কারখানা এবং অর্ডন্যান্স ডিপো থেকে বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে চান্দনা চৌরাস্তায় জড়ো হতে থাকে। ১৫ ডিসেম্বর চান্দনা চৌরাস্তায় জড়ো হওয়া পাকিস্তানি বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য ঢাকার পথে রওনা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা ছয়দানা ও টঙ্গীতে অবস্থান নেয়।

পাকিস্তানি বাহিনীর বহর মহানগরীর ছয়দানা এলাকায় পৌঁছলে শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ। অন্যদিকে কাশিমপুরে অবস্থান নেওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বড় একটি দল ও মিত্রবাহিনী কামান ও মর্টারের  গোলা বর্ষণ করতে থাকে। গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ চলে। কিন্তু মিত্র ও মুক্তিবাহিনীর গোলাবর্ষণে পাকিস্তানি বাহিনী একেবারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বহু সেনা নিহত হয়। বিধ্বস্ত হয় ট্যাংক, কামান, মর্টারসহ তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন। শত্রুমুক্ত হয় গাজীপুর।

আপনার জেলার সর্বশেষ সংবাদ জানুন