টানা শৈত্যপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত

৬:১৩ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২০ রংপুর
uttor

মোঃ ফরহাদ আকন্দ, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ টানা কয়েক দিনের শৈত্যপ্রবাহে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে উত্তরাঞ্চলের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের মধ্যে। গত কয়েক দিন থেকে অব্যাহত রয়েছে শৈত্যপ্রবাহ। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা এই শীতে দুর্বিষহ দিনাপাতিত করছে।

শুধু মানুষই নয় গৃহপালিত পশু-পাখিসহ প্রাণীকুলও পড়েছে বিপর্যস্ত অবস্থায়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দেখা পাওয়া যায় না সূর্যের। কোন কোন দিন আবার দেখায় মেলে না। ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। প্রচন্ড শীতের কারণে খড়কুটা জ্বালিয়ে শীত নিবারন করেছেন অসহায় শীতার্থরা।

শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শীতার্ত মানুষ ছুটছে কাপড়ের দোকান গুলোতে। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার পাশের ফুটপাত থেকে শুরু করে মার্কেটের দোকান গুলোতে ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে সব সময়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ কাপড়ের দাম বেড়ে গেছে অনেকটাই।

আর বিক্রেতারা বলছে দাম স্বাভাবিক রয়েছে। তবে কয়েক দিনের শৈত্য প্রবাহ শুরু হওয়ায় ক্রেতাদের ভীড়ে বাজারে কাপড়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারাও সুযোগ নিয়ে একটু বেশি দামে বিক্রি করছেন।

সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) গাইবান্ধার ইসলামপ্লাজা, সালিমার সুপার মার্কেট, পৌর মার্কেট, চৌধুরী মার্কেটসহ ব্রিজ রোড এবং স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে পুরাতন কাপড়ের মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা গেছে পাইকারি ও খুচরা কাপরের দোকান গুলোতে ক্রেতারেদ প্রচুর ভিড়। শিশু থেকে শুরু করে যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ ও বয়স্কদের বিভিন্ন ধরণে শীতের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে।

শুধু মার্কেট গুলোতেই নয় গাইবান্ধার ১নং রেলগেট, রেলষ্টেশন, দাস বেকারীর মোড় এবং পৌরপার্কের আশেপাশে রাস্তার ফুটপাতেও বেশকিছু দোকান রয়েছে। সেখানে নানা বয়সের নারী-পুরুষ দোকান গুলোতে ভিড় জমিয়েছে শীতের পোষাক কেনার জন্য।

অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারুক আকন্দ নামের একজন ক্রেতা বলেন, কয়েকদিন আগেই এরকম শীত ছিল না, সন্ধ্যার পরেও আমি শুধু শার্ট গায়ে দিয়ে ছিলাম তাই শীতের পোশাক কেনা হয়নি। কিন্তু তিন-চারদিন থেকে হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়া খুব সমস্যা হচ্ছে তিনচারটা শীতের পোশাক গায়ে দিয়ে শীত নিবারন করতে হচ্ছে তাই নতুন শীতের পোশাক কিনতে এসেছি। কিন্তু শীতের সাথে সাথে কাপড়ের দামও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্রীজ রোডের পুরাতন কাপড়ের এক ব্যবসায়ী বলেন, শীতের তীব্রতা বাড়ার কারণে কয়েক দিন থেকে বিক্রি ভালো চলছে। তবে ক্রেতা বেশি হওয়ার কারণে মালের সংকট দেখা দিয়েছে। তাই যে মাল আছে তা বেশি দামে বিক্রি করছি।

আরেক দোকানে শীতের কাপড় কিনতে আসা কলেজ ছাত্রী ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, বেশ কয়েক দিন থেকে শীত খুব বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই গরম কাপড় কিনতে এসেছি কিন্তু এসে দেখি শীতের সাথে সাথে কাপড়ের দামও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে যে কাপড় ২’শ থেকে ৩’শ টাকায় কিনেছি এখন সেগুলোই ৪’শ থেকে ৫’শ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। শীত বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বেশি দাম দিয়ে কিনতেই বাধ্য হচ্ছি।

পৌর মার্কেটের সামনেই রাস্তার মধ্যে শীতের কাপড় বিক্রি করছেন বাদশা মিয়া নামের একজন ব্যবসায়ী তার কাছে কেমন বিক্রি হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন শীত বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যাও বাড়ছে তাই বিক্রি মোটামুটি ভালোই হচ্ছে। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত সবসময় বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এখানে কাপড় কিনতে আসছেন।

পুরাতন কাপড়ের দোকান গুলো ঘুরে দেখতে দেখা হলো রাসেল মিয়া নামের এক ভদ্রলোকের সাথে তার কাছে কি কিনতে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শৈত্য প্রবাহ চলছে, আবহাওয়া পূর্ভাবাস জানিয়েছে এই মাসে আরো একটি বা দুটি শৈত্য প্রবাহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই শীতের কাপড় কিনতে এসেছি। বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখলাম। আরো কয়েকটা দোকান ঘুরে দেখেশুনে কিনব।

শীতের পোশাকের বেচাকেনা বেড়েছে বলে গাইবান্ধার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, প্রতি বছর অক্টোবরের শুরু থেকেই তাদের শীতের কাপড়ের বেচাকেনা শুরু হয়ে তা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। এবছর প্রথম দিকে কিছুটা বেচাকেনা কম হলেও এখন ক্রেতার সংখ্যা অনেক বাড়ছে।

গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে তাদের কথার সত্যতা পাওয়া যায়। দোকান ভর্তি শীতের কাপড়, ক্রেতার ভিড়ও প্রচুর। একজন ক্রেতা বলেন, দাম খুব বেশি না, সীমাবদ্ধতার মধ্যেই আছে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ায় দাম একটু বেড়েছে।