ক্রাইম পেট্রোল দেখে ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা, ৪ ডাকাত আটক

১১:৩০ অপরাহ্ন | মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০২০ খুলনা
atok

শামসু‌জ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিন‌িধিঃ চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী বাজারে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক শাখায় ফিল্মি স্টাইলে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় চার ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় সনি টিভির সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে এই চারজন ব্যাংক লুট করায় উদ্বুদ্ধ হন এবং এজন্য প্রশিক্ষণ নেন। গত ১৫ নভেম্বর দুপুর সোয়া ১টার দিকে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

এর এক মাস পরে জীবননগর থানা পুলিশ সোমবার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে যশোরের চৌগাছা উপজেলা শহর থেকে ডাকাতির মূলহোতা জীবননগর উপজেলার দেহাটি গ্রামের সাফাতুজ্জামান রাসেলকে (৩০) গ্রেফতার করে।

পরে একই রাতে ডাকাত দলের অন্য সদস্য জীবননগর উপজেলার দেহাটি গ্রাম থেকে জাহাঙ্গীর শাহের ছেলে রফি (২৩), মফিজুল শাহের ছেলে মাহফুজ আহম্মেদ আকাশ (১৯) এবং আখতারুজ্জামান বাচ্চুর ছেলে হৃদয়কে (২২) গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ডাকাত দলের সদস্যদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে লুট হওয়া নগদ পাঁচ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি খেলনা পিস্তল, দুটি হেলমেট, দুটি চাপাতি, দুটি মোটরসাইকেল এবং পিপিই উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে প্রেস বিফিংয়ে ডাকাত সদস্য গ্রেফতারসহ লুট হওয়া টাকা উদ্ধারের বিষয়ে জানান চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. জাহিদুল ইসলাম।

পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী বাজারে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত উথলী সোনালী ব্যাংক শাখায় দুপুর সোয়া ১টার সময় ফিল্মি স্টাইলে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়। এ সময় ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে ব্যাংকের নিরাপত্তাপ্রহরীসহ সবাইকে জিম্মি করে নগদ ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডাকাতদের গ্রেফতারসহ লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযানে নামে। ওই সময় থেকে পুলিশ সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনের ওপর কড়া নজরদারি শুরু করে। এছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান নিশ্চিতকসহ কথোপকথন রেকর্ড করা হয়। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট এক জায়গায় অবস্থান না করায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছিল না। সোমবার রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ভারতীয় সনি টিভির সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রোল দেখে এই চারজন ব্যাংক লুট করায় উদ্বুদ্ধ হন। সে অনুযায়ী তারা প্রশিক্ষণ নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী অনলাইন মার্কেট প্লেস দারাজ থেকে খেলনা পিস্তল সংগ্রহ করেন।

উ‌ল্লেখ‌্য, গত ১৫ নভেম্বর দিনের বেলায় চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী বাজারে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত উথলী সোনালী ব্যাংক শাখায় দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওইদিন দুপুর সোয়া ১টায় প্রথমে একজন পিপিই ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় উথলী বাজারে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের ভেতর প্রবেশ করেন।

এর এক মিনিট পর আরও দুজন হেলমেট পরিহিত অবস্থায় ব্যাংকে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তিনজন পিস্তল উঁচিয়ে ব্যাংকের দরজা বন্ধ করে দেন এবং ব্যাংকের নিরাপত্তাপ্রহরীসহ সবার ফোন নিয়ে নেন। এরপর তারা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তাকর্মীসহ ওই ব্যাংকে কর্মরত মোট আটজনকে একটি কক্ষের সামনে বসিয়ে রাখেন।

টাকা লুটের পর ডাকাত দলের সদস্যরা দ্বিতীয় তলা থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামার সময় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জরুরি সতর্ক সংকেত (ইমারজেন্সি হুইসেল) বাজান। সতর্ক সংকেত শুনে ব্যাংকের পার্শ্ববর্তী দোকানদাররা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং ডাকাত দলকে ধাওয়া করেন। এ সময় ডাকাত দল পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দিলে দোকানদাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন এবং চিৎকার শুরু করেন। এ সুযোগে ডাকাত দল মোটরসাইকেলযোগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্ট করে।

পালিয়ে যাওয়ার সময় ডাকাত দল উথলী সূর্যতোরণ ক্লাবের সামনে গেলে আবার বাধার মুখে পড়ে। ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুর রহমান মন্টুসহ ৫-৬ জন মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে একটা ইট ডাকাত দলের হেলমেটে লাগে। খবর পেয়ে উথলী বিশেষ ক্যাম্পের বিজিবি ও জীবননগর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ডাকাত দলের ফেলে যাওয়া পিস্তলের অংশ বিশেষ উদ্ধার করে।