জাতীয় সঙ্গীত ও একজন গগন হরকরার অজানা ইতিহাস

জাতীয় সঙ্গীত ও গগন হরকরা

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক – গগন হরকরা। বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত এর সাথে এই নামটির রয়েছে ওতোপ্রোত সম্পর্ক! সেই সম্পর্কের কথা আজকের প্রজন্মের অনেকেরই অজানা।

পরিবারের দেওয়া নাম গগণচন্দ্র দাস হলেও ইতিহাসে যিনি গগন হরকরা নামেই প্রসিদ্ধ। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামে আনুমানিক ১৮৪৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন গগন।

শিলাইদহ পোস্ট অফিসে কাজ করতেন ডাকহরকরা বা ডাকপিয়ন হিসেবে। তবে এই পরিচয় ছাপিয়ে গগন ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন তার রচিত ও সুরারোপিত কালজয়ী গানের জন্য। গগণচন্দ্র দাস মৃত্যুবরন করেন ১৯১০ ইং সালে।

গগন হরকরা ছিলেন বিশিষ্ট বাউল গীতিকার। জন্ম অধুনা বাংলাদেশের শিলাইদহের নিকটস্থ আড়পাড়া গ্রামে। পেশা ছিল শিলাইদহ ডাকঘরে চিঠি বিলি করা।

জাতীয় সঙ্গীত , রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর ও একজন গগন হরকরা 

‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’  বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত মুলত রচিত হয়েছিল শিলাইদহের ডাক-পিয়ন গগন হরকরার  রচিত আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যে রে গানটির সুরের অণুষঙ্গে।

ইতিপূর্বে ১৩০৭ বঙ্গাব্দের বৈশাখ মাসে সরলা দেবী চৌধুরানী তাঁর শতগান সংকলনে গগন হরকরা রচিত গানটির স্বরলিপি প্রকাশ করেছিলেন।

তৎকালীন সময়ে  রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর গগন হরকরার গুণমুগ্ধ ছিলেন।  পূর্ববঙ্গের বাউল ও ভাটিয়ালি সুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের পরিচিতি ইতঃপূর্বেই হয়েছিল বলে জানা যায়। ১৮৮৯-১৯০১ সময়কালে পূর্ববঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে জমিদারির কাজে ভ্রমণ ও বসবাসের সময় বাংলার লোকজ সুরের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তা ঘটে।

তারই অভিপ্রকাশ রবীন্দ্রনাথের স্বদেশী আন্দোলনের সমসাময়িক গানগুলি, বিশেষত আমার সোনার বাংলা। রবীন্দ্রনাথের যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক ও আমার সোনার বাংলা গগন হরকরার যথাক্রমে ও মন অসার মায়ায় ভুলে রবে ও আমি কোথায় পাব তারে গানদুটির সুর ভেঙে রচিত হয়।

ইতিহাসে গগন ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত 

তৎকালীন ভারত উপমহাদেশের নদীয়ার একটি ছোট গ্রামে গগনের বাস। ভূ-খন্ডের এই অংশে তখন প্রতিনিধিত্ব লালন সাঁই, গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃত কাঙাল হরিনাথ, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেনের মতো কালজয়ী প্রতিভাদের। শিলাহদহ এস্টেটে ঠাকুরবাড়ির জমিদারি দেখাশোনার জন্য আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

শিলাইদহ পোস্ট অফিসে ডাকহরকরার কাজের ফাঁকে গান রচনা ও গাইতেন গগন হরকরা । তিনি বাউল সম্রাট ফকির লালনের অনুসারী ছিলেন। রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে এলে চিঠিপত্রাদি দিতে জমিদার কাচারিতে যাওয়া হতো গগনের। তার রচিত ও সুরারোপিত ‘আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যে রে’ গানটি শুনে মুগ্ধ হন রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গগণের নাম ও তার গানের বিষয়ে তার প্রবন্ধ “An Indian Folk Religion” এ উল্লেখ করেন। সেখানে ‘আমি কোথায় পাবো তারে’—গানটির উল্লেখ করে রবীন্দ্রনাথ বলেন, “The first Baul song, which I chanced to hear with any attention, profoundly stirred my mind.”

তৎকালীন সময়ে পত্রিকায় গগন হরকরার গানের বাণী

এই গান তাকে এতোটাই প্রভাবিত করে রবীন্দ্রনাথ যার সুরে রচনা করেন ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরই প্রথম ব্যক্তি, যিনি তৎকালীন সময়ে সাময়িক পত্রিকায় ও বাউল পত্রিকায় গগন হরকরার সেই গানের বাণী প্রকাশ করেছিলেন।

এবং তিনি জানিয়েছিলেন, এই গানের সুর বাউলগান থেকে নেওয়া। কেননা গগন হরকরার সুর মৌলিক কোনো সুর ছিল না। এর পুরোটাই ছিল বাউল সুর।

কুষ্টিয়ায় ডাকহরকরার ভাস্কর্য

সময়ের সেই স্মৃতি ধরে রাখতে, দেশের নতুন প্রজন্মকে সেই ঐতিহ্য সম্পর্কে জানাতে কুষ্টিয়ায় ডাকহরকরার ভাস্কর্য নির্মিত হয়েছে।

ভাস্কর্যটির বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাঙালী সংস্কৃতির সৃষ্টি ও সমৃদ্ধি এইসব মানুষদের হাত দিয়েই হয়েছে। এই প্রজন্মের সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ।

—-বাউল কবি গগন হরকরা [শ্রী গগনচন্দ্র ধাম]

আমি কোথায় পাব তারে, আমার মনের মানুষ যেরে॥
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে দেশ বিদেশে, আমি দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে।
কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে।
লাগি সেই হৃদয়শশী সদা প্রাণ হয় উদাসী,

পেলে মন হত খুশী, দিবা নিশি দেখিতাম নয়ন ভরে।
আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে,
মরি হায়, হায় রে-

আমি প্রেমানলে মরছি জ্বলে, নিভাই কেমন করে,
ও তার বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে, বিচ্ছেদে প্রাণ কেমন করে
দেখ না তোরা হৃদয়ে সে, দেখ না তোরা হৃদয় চিরে।
কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে।

দিব তার তুলনা কি যার প্রেমে জগত্‍ সুখী,
হেরিলে জুড়ায় আঁখি, সামান্যে কি দেখিতে পারে তারে।
তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে,
মরি হায়, হায় রে-

তারে যে দেখেছে সেই মজেছে ছাই দিয়ে সংসারে,
ও সে না জানি কি কুহক জানে, না জানি কি কুহক জানে
অলক্ষে মন চুরি করে, কটাক্ষে মন চুরি করে।
কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে।

কুল মান সব গেল রে তবু না পেলাম তারে
প্রেমের লেশ নাই অন্তরে-
তাইতে মোরে দেয় না দেখা সে রে।

ও তার বসত কোথায় না জেনে তায় গগন ভেবে মরে
মরি হায়, হায় রে-
ও তার বসত কোথায় না জেনে তায় গগন ভেবে মরে।
ও সে মানুষের উদ্দিশ যদি জানিস, মানুষের উদ্দিশ যদি জানিস
কৃপা করি বলে দে রে, আমার সুহৃদ হয়ে বলে দে রে,
ব্যথার ব্যথিত হয়ে বলে দে রে,

কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে।
হারায়ে সেই মানুষে তার উদ্দেশে দেশ বিদেশে, আমি দেশ বিদেশে বেড়াই ঘুরে।
কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে
আমি কোথায় পাব তারে আমার মনের মানুষ যেরে।

◷ ৩:৩০ পূর্বাহ্ন ৷ শনিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২০ ইতিহাস-ঐতিহ্য, শিল্প-সাহিত্য
শুরু হলো ভাষার মাস

⊡ সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২১

বাংলাদেশের ৬৪ জেলা bangladesh ৬৪ জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

⊡ শনিবার, ডিসেম্বর ১৯, ২০২০

boimela ভার্চুয়ালি নয়, আগের মতোই হবে বইমেলা

⊡ রবিবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

nur শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

⊡ মঙ্গলবার, নভেম্বর ১০, ২০২০

kotalipara কোটালীপাড়ায় শেষ হলো ৩ দিনব্যাপী নৌকা বাইচ

⊡ বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২০