পিকে হালদারের ৭০-৮০ জন গার্লফ্রেন্ডের সন্ধান!

◷ ৪:৩৭ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, ডিসেম্বর ২০, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
pk haldar photo 8555

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বিদেশে পলিয়ে থাকা পিকে হালদারের ৭০ থকে ৮০ জন গার্লফ্রেন্ডের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন দুদক আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। পিকে হালদারের এসব গার্লফ্রেন্ডদের অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য মিলেছে বলেও জানান তিনি।

তাই বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) কাছে পাঠানো হবে। আর পরবর্তীতে হাইকোর্টের নির্ধারিত তারিখে বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

রোববার (২০ ডিসেম্বর) এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান দুদক আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। তিনি বলেন, তদন্তে প্রমাণিত হলে তাদেরও (গার্লফ্রেন্ডদের) আসামি করা হবে।

এসব নারীদের তালিকায় কারা আছেন জানতে চাইলে দুদক আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান বলেন, এই মুহূর্তে কারও নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না আমি। কারণ এদের বিষয়ে অনুসন্ধান করা হবে।

তিনি বলেন, ‘পিকে হালদারের গ্রেফতারি পরোয়ানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অর্থপাচারের বিষয়ে আমরা আরও কিছু তথ্য পেয়েছি। দুদকের অনুসন্ধানে জানতে পেরেছি, তিনি অবিবাহিত এবং অবিবাহিত থাকার সুবাদে পাচারের কোটি কোটি টাকা সত্তর-আশি গার্লফ্রেন্ডের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছেন। আমরা সেসব অ্যাকাউন্টের বিষয়েও অনুসন্ধান করছি।’

প্রসঙ্গত, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকেই ১৫শ’ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে। এছাড়াও সব মিলিয়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একের পর এক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সময় গোপনে কানাডায় পাড়ি জমান তিনি।

এদিকে আদালতের পূর্ব নির্দেশনা অনুসারে পিকে হালদারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার অগ্রগতি প্রতিবেদন, মামলার এফআইআর ও সম্পত্তি-অর্থ জব্দের আদেশ হাইকোর্টে উপস্থাপন করা হয়। পিকে হালদারের আত্মীয় পিপলস লিজিংয়ের সাবেক পরিচালক অমিতাভ অধিকারী এবং পিকে হালদারের সাবেক সহকর্মী ও পিপলস লিজিংয়ের সাবেক চেয়ারম্যান উজ্জ্বল কুমার নন্দীকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় পক্ষভুক্ত করা হয়।

এরপর আদালত মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৩ জানুয়ারি শুনানির দিন নির্ধারণ করেন।

গত ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এরও আগে ৭ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের একই বেঞ্চে দেশে ফেরত এলে পিকে হালদারকে কোনোরকম গ্রেফতার না করার নির্দেশনা চেয়ে একটি আবেদন করে তার প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল। সে আবেদনের শুনানি নিয়ে আদালত জানিয়েছিলেন, পিকে হালদার কবে, কখন, কীভাবে দেশে ফিরতে চান, তা আইএলএফএসএল লিখিতভাবে জানালে সে বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে।

পরবর্তী সময়ে পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে গত ২০ অক্টোবর হাইকোর্টকে জানায়। পিকে হালদারের প্রতিষ্ঠান আইএলএফএসএল’র পক্ষ থেকে হাইকোর্টকে জানানো হয়, ২৫ অক্টোবর দুবাই থেকে অ্যামিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা আসার জন্য টিকিট কেটেছেন তিনি। বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টায় ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে।

সার্বিকদিক বিবেচনার পর প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারকে দেশে ফেরার অনুমতি দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পিকে হালদার দেশে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের আইজি এবং ইমিগ্রেশন পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। পাশাপাশি কারাগারে থাকাবস্থায় পিকে হালদার যেন অর্থ পরিশোধের সুযোগ পান সে বিষয়ে সুযোগ দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

পিকে হালদারের দেশে ফেরার বিষয়ে আইএলএফএসএলের করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। তবে পরে তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশে ফেরেননি।