রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: ইসি শাহাদাত

◷ ৫:৪২ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, ডিসেম্বর ২০, ২০২০ জাতীয়
ec shahadat 20dec20

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতিকে দেওয়া ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের চিঠিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘এটা হয়তোবা কোনও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এগুলোর কোনোটার ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না। এরকম একটা বিষয় উপস্থাপন করা সুধীজনের জন্য বিবেচনা প্রসূত নয়।’

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) বিকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

কী উদ্দেশ্যে বিশিষ্টজনরা এমন করেছেন তা জানতে চাইলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘কী উদ্দেশ্যে তারা এ কাজ করেছেন, সেটা তারাই বলতে পারবেন।’

অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরে কমিশনার শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘বিশিষ্টজনরা দুয়েকটা পত্রিকা বা টেলিভিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই এ ধরনের অভিযোগ করেছেন। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ ও গাড়ি ব্যবহারের বিষয়টা যে পত্রিকা ছেপেছিল, সেখানে আমরা রিজয়েন্ডার দিয়েছিলাম। আমরা জানি না, সেটা তাদের নজরে এসেছে কি না। দ্বিতীয়ত, গাড়ি ব্যবহারের বিষয়; আমার মনে হয় না আমাদের সেই প্রয়োজন আছে। কারণ আমাদের প্রাধিকারভুক্ত যে গাড়ি, সেটাই আমরা শপথ নেয়ার তিন বছর পর পেয়েছি। যে গাড়িগুলো তারা অত্যন্ত বিলাসবহুল হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আমরা জানি না বিলাসবহুল ছাড়া অন্য গাড়ি কোনগুলো। আমি তো দেখেছি, সেগুলো ইউএনওরাও ব্যবহার করছেন। বাড়তি গাড়ি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা আমার নাই, আমার বিশ্বাস অন্যদেরও নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির কাছে তারা অভিযোগ উত্থাপন করলেন, আবার আমাদেরকেও অভিযুক্ত করে ফেললেন। শুধু সেটা না, আমাদের কী করণীয় বা আমাদের কী দণ্ড সেটাও এক অর্থে তারা দিয়ে দিলেন। সেটা কতখানি বিবেচনাপ্রসূত বা শিষ্টাচারবর্জিত কি না, সেটা বিবেচনার ভার আপনাদের।’

এক প্রশ্নের জবাবে এই কমিশনার বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট চেষ্টা করছে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য। নির্বাচন কমিশনের যতটুকু করণীয় তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’

নির্বাচন কমিশন প্রশ্নের সম্মুখীন হলো কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না। জাতির কাছে আপনাদের মাধ্যমে আমি তুলে ধরেছি যে সেটা কতখানি বিবেচনাপ্রসূত।’

‘যে অভিযোগগুলো বিশিষ্টজনের তুলেছেন, সে বিষয়ে এখন রাষ্ট্রপতি কী করবেন, সেটা তার ব্যাপার,’ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, তাঁরা ১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বরাবর লিখিত আবেদন দিয়েছেন। এতে বলা হয়, বর্তমান ইসি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিভিন্নভাবে গুরুতর অসদাচরণে লিপ্ত। তাঁরা গুরুতর আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, যা অভিশংসনযোগ্য অপরাধ।

বিশিষ্ট নাগরিকদের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আর্থিক অনিয়ম ও নির্বাচনসংক্রান্ত গুরুতর অসদাচরণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনারদের স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা অথবা পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশিষ্টজনেরা ইসির বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন তার মধ্যে আছে বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তৃতা দেওয়ার নামে দুই কোটি টাকার মতো আর্থিক অসদাচরণ ও অনিয়ম; ইসির কর্মচারী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় চার কোটি আট লাখ টাকার অসদাচরণ ও অনিয়ম; নিয়মবহির্ভূতভাবে তিনজন কমিশনারের তিনটি গাড়ি ব্যবহারজনিত আর্থিক অসদাচরণ। এ ছাড়া ইভিএম কেনা ও ব্যবহারে অনিয়ম, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠানে গুরুতর অসদাচরণ ও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এসব অভিযোগ তদন্তে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ অনুসারে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি জানান বিশিষ্ট নাগরিকেরা। সেই সঙ্গে তাঁরা অভিযোগের বিষয়ে সামনাসামনি জানানোর জন্য রাষ্ট্রপতির সুবিধামতো সময়ে একটি সাক্ষাতের আয়োজনেরও অনুরোধ করেছেন। রাষ্ট্রপতির কাছে এই আবেদনে ৪২ বিশিষ্ট ব্যক্তি সই করেন। তাঁদের পক্ষে আইনজীবী শাহদীন মালিক আবেদনটি পাঠান।