‘স্বাধীনতার পর থেকে ১৫১০ বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে বিএসএফ’

◷ ৭:৩৭ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২০ ফিচার
fokrul

সময়ের কণ্ঠস্বর, ঢাকা- ঢাকা- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এ জন্য আমরা আস্বস্ত হই। কিন্তু ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব প্রমাণ করব কীভাবে? প্রমাণ কি এভাবে করতে হবে যে ভারতের সব চাহিদা, সেগুলো মেটাব আর আমাদের যে সমস্যা, তার একটাও মিটবে না?

সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফখরুল।

বিএনপি নেতা ফখরুলের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে বিনা বিচারে বাংলাদেশিরা নিহত হচ্ছেন। ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৫১০ জন এবং ২০০৮ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪৩৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এভাবে প্রতিবেশী দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করাটা জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদের চরম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনীর (বিএসএফ) হাতে বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্বিচার হত্যার প্রতিবাদে আজকে আমরা কালো ব্যাজ ধারন করেছি। এটা আমাদের একটা প্রতিবাদ। সেই অনুযায়ী আমিও আজকে এই সংবাদ সম্মেলন আপনাদের সামনে কালো পোশাক পরিধান ও কালো ব্যাজ ধারণ করেছি। আমরা এর অবসান চাই। সরকার অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটা আমাদের দাবি।

‘আমাদের বক্তব্যটা ভারতের কোনো সরকার বা জনগণের বিরুদ্ধে নয়। আমার দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়ে বক্তব্য, তাদের জীবনের প্রশ্নে আমাদের বক্তব্য। এটা সবাই করছেন, দীর্ঘকাল ধরে করছেন। বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সময় সেগুলো তুলেছে। আমাদের কথা হচ্ছে যদি কেউ অপরাধ করে আইন আছে। ভারতেও আইন আছে। যদি কেউ ই-লিগ্যাল ডেসপাস করে তাহলে তার ফরেন অ্যাক্টে বিচার হবে। যেটার মাধ্যমে এখনো তারা আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ সাহেবকে ওইভাবে আটকিয়ে রেখেছে। এখনও উনি মুক্ত নন কারণ পুরোপুরি আটকানো আছেন।

এখন পর্যন্ত তারা ওই মামলারও নিষ্পত্তি করেননি। সেই আইনে তো সীমান্তে যে বেআইনিভাবে প্রবেশ করছে তাদের বিরুদ্ধে আপনারা ব্যবস্থা নিতে পারেন, আমাদের সরকার তাদের বিচার করতে পারেন। এই বিষয়গুলো সমাধান হওয়া দরকার। ’

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেনি। সেখানে বলা হচ্ছে যে, এই সমস্যার ব্যাপারে আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদেরকেই সমর্থন করছে। ভারতের কথা বলা হয়েছে।

গতকাল দেখলাম তাদের (ভারত) হাইকমিশনার বলছেন যে, এটা (রোহিঙ্গা প্রশ্নে) আমরা বাংলাদেশকে সমর্থন করছি, নীরবে থেকে করছি এজন্য যে, তাতে আমাদের বিভিন্ন রকম ম্যান্যুপুলেশন করতে সুবিধা হয় বাংলাদেশের স্বার্থেই। জানি না আমরা। আজকে বাংলাদেশ তার সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে কোনো কথা বলবে না।

ভারত নীবর থাকবে, চীন উল্টো ভেটো দেবে। আর বলা হবে যে, আমরা চমৎকার পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করছি, অত্যন্ত সুন্দর পররাষ্ট্র নীতি। সব কিছুর মূলে একটাই, সেটা হচ্ছে- তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের সমস্ত স্বার্থগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়ে আজকে এই ধরনের নতজানু পররাষ্ট্র নীতি গ্রহণ করেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ভারতের দিক থেকে বলা হয় যে, যারা চোরাকারবারী তারা ভারতে প্রবেশ করলে তাদের বারণ করার পরও যখন হয় না, তখন গুলি করতে হয়। আমাদের বিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ১৭ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভার্চ্যুয়ালি কথা বললেন তখনকার বৈঠকের পর বললেন যে, তিনি হতাশ হয়েছেন।

আজকে ডেইলি স্টারে তার একটা বড় ইন্টারভিউ প্রকাশ হয়েছে। এটা পড়ে আমার সন্দেহ লেগেছে- তিনি আসলে কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি কী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাকী ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পুরো ইন্টারভিউর মধ্যে তিনি ভারতকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করেছেন।