• আজ ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভেঙ্গে দেয়া হলো নেপালের পার্লামেন্ট, মধ্যবর্তী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা

◷ ৯:৫৫ অপরাহ্ন ৷ সোমবার, ডিসেম্বর ২১, ২০২০ আন্তর্জাতিক
nepal

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির সুপারিশে নেপালের পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস’ ভেঙে দিয়ে পরবর্তী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেন তিনি।

দেশটির রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন বিদ্যাদেবী। একইসঙ্গে, আগামী বছরের ৩০ এপ্রিল এবং ১০ মে সাধারণ নির্বাচনের তারিখও নির্ধারণ করেন রাষ্ট্রপতি।

এর আগে, শনিবার দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠকের পর গতকাল সকালেও ডাকা হয় মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক। এরপরই পার্লামেন্ট ভেঙে দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। এ সিদ্ধান্তে নেপালের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে মতবিরোধ।

নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোতে বলা হয়, গতকাল সকালে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ওলি। সেখানে তিনি বলেন, তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। তাই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হোক। এর আগের দিন শনিবার দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি।

দ্য কাঠমাণ্ডু পোস্ট, হিমালয়ান টাইমসসহ নেপালের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, সাংবিধানিক পরিষদ আইনের অধ্যাদেশের বিষয়টি নিয়ে চাপ বাড়ছিল কে পি শর্মা ওলির ওপর। গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারিকে দিয়ে সেটি সইও করিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।

এছাড়া তার নিজ দলের দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধিতাও চরমে পৌঁছেছিল। বিবদমান দুটি পক্ষের একটির নেতৃত্বে আছেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান ওলি। অন্য পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রচণ্ড।

নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির (এনসিপি) নেতা বিষ্ণু রিজাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছেন। তাই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তিনি।

সাংবিধানিক পরিষদ আইনটি প্রধানমন্ত্রী ওলিকে বৈঠক ডাকা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় ক্ষমতা দিয়েছিল। কোরাম পূর্ণ হওয়া তো দূরের কথা, মাত্র তিনজন সদস্যের উপস্থিতিতে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী হয়েছিলেন। তাঁর ডাকা গতকালের জরুরি বৈঠকেও মন্ত্রিপরিষদের সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন না।

এনসিপির মুখপাত্র নারায়ণকাজি শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তড়িঘড়ি নেওয়া হয়েছে। কেননা আজকের (গতকাল) বৈঠকে সব মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। এটা গণতান্ত্রিক রেওয়াজের বিরোধী এবং এ ধরনের সিদ্ধান্ত জাতিকে পেছনে ঠেলে দেবে। এটা বাস্তবায়ন হতে পারে না।’

এনসিপির আরেক নেতা মাধব নেপালও বলেন, ‘পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার বিষয়টি অসাংবিধানিক। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।’