চাঁদপুরে টাকা ছাড়া পরবর্তী ক্লাসে ভর্তি হতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা

◷ ১২:৪০ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২০ চট্টগ্রাম
chadpur

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধি- সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। পুরো জেলাজুড়ে প্রায় সবকয়টি উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে-ই জোড়-জুলুমের মাধ্যমে বাধ্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বকেয়া বেতন সহ অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবাদ বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এমনকি টাকা দিতে না পারলে পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হবেনা বলেও শিক্ষার্থীদের হুমকি দিয়েছেন শিক্ষকরা। এতে মানসিক চাপে পড়েছেন বিদ্যালয় পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থী সহ অভিভাবকগণ।

মতলব দক্ষিণ উপজেলার লাকশিবপুর ফিরোজা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে জোড়-জুলুমের মাধ্যমে বাধ্য করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বকেয়া বেতন সহ অ্যাসাইনমেন্ট ফি বাবাদ টোকেনের মাধ্যমে বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

একই চিত্র মতলব উত্তর উপজেলার ইমামপুর পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়, পাঠান বাজার উচ্চ বিদ্যালয়,চরকাশিম উচ্চ বিদ্যালয়, দূর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়, হাজী সিদ্দিকুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়, শিকারী কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়, মাথাভাঙ্গা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়ে।

কচুয়ার হযরত শাহ নেয়ামত শাহ উচ্চ বিদ্যালয়,কচুয়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, সাচার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, রহিমানগর বিএবি উচ্চ বিদ্যালয়, নন্দনপুর স্কুল এন্ড কলেজে। ফরিদগঞ্জে পাইকপাড়া ইউজি উচ্চ বিদ্যালয়, কড়ৈতলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে।

করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল করে ৩০ কর্মদিবসের একটি সিলেবাসের ভিত্তিতে সাপ্তাহিক অ্যাসাইনমেন্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে শিক্ষা অধিদপ্তর। এই অ্যাসাইনমেন্টের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মনগড়া এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।

এদিকে একসঙ্গে ৮-৯ মাসের বেতন এবং ফি দিতে হিমশিম খাচ্ছেন করোনায় কর্মহীন এবং দরিদ্র অভিভাবকরা। এ অবস্থায় বেতন মওকুফের জন্য অনেক অভিভাবক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত। কিন্তু অর্থ আদাকারী ওইসব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্তে অটল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, যারা অ্যাসাইনমেন্ট ও বকেয়া বেতনের টাকা দিবে না তাদের পরবর্তী শ্রেণিতে উন্নীত করা হবেনা বলে হুমকি দিয়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। টাকার জন্য আমাদের অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেয়া হয়না। টাকা না দিতে পারলে বলে, পরে আসো’।

জনৈক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের কাছে অ্যাসাইনমেন্ট ও বকেয়া বেতন বাবদ ২৫শ টাকা দাবি করা হয়েছে। আমি মাতাব্বর ধরে কিছু টাকা কমিয়ে তা পরিশোধ করেছি।

উপজেলাগুলোতে এমন কার্যক্রমে শিক্ষা অফিসের নিরব ভূমিকায় হতাশ অভিভাবক মহল সহ অনেকেই। তবে দায় এড়াতে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররা। তারা বলছেন- নির্দেশনা অমান্য করে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যদিও জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটওয়ারী জানান, নির্দেশনা অমান্য করে টাকা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। যদি এমনটি হয়ে থাকে তাহলে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

করোনায় সরকার যেখানে সবাইকে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সেখানে মানুষ গড়ার কারিগরদের এমন আচরণে বিরুপ প্রভাব পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে।