পঞ্চগড়ে ইউপি সদস্যের মামলায় চেয়ারম্যান কারাগারে

◷ ৭:৪৪ অপরাহ্ন ৷ মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২২, ২০২০ রংপুর
atok

নাজমুস সাকিব মুন, পঞ্চগড় প্রতিনিধি- পঞ্চগড়ে ইউপি সদস্যকে মারধরের ঘটনায় চেয়ারম্যান, তার ছেলে ও সহকারীকে ‌কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত মঙ্গলবার জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং চেংঠী হাজারডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায় ও তার ছেলে মানিক চন্দ্র রায় ও সহকারী কানাই চন্দ্র সেনকে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলামকে মারধরের মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান অনিল চন্দ্র রায় ইউপি সদস্যদের না জানিয়ে তাদের নামে বরাদ্দকৃত বিভিন্ন প্রকল্প নিজেই বাস্তবায়ন করেন। প্রকল্পের ব্যাপারে ইউপি সদস্যদের অবগত না করলেও চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময়ে জোরপূর্বক ইউপি সদস্যদের নিকট থেকে স্বাক্ষর নিয়ে আসছিলেন। এই বিষয়ে ইউপি সদস্যরা বিভিন্ন সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ প্রদান করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।

গত ২৫ জুলাই অনিল চন্দ্র রায় হরনারায়নী নতুন হাট এলাকায় নিজস্ব বৈঠকখানায় ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শহিদুল ইসলামের সাথে আলোচনার এক পর্যায়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এই সময় ঘটনাস্থলেই অনিল চন্দ্র রায়, তার ছেলে মানিক চন্দ্র রায় ও সহকারী কানাই চন্দ্র সেন শহিদুল ইসলামের উপর চড়াও হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অন্য ইউপি সদস্যরা শহিদুল ইসলামকে উদ্ধার করে দেবীগন্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

এই ঘটনায় শহিদুল ইসলাম দেবীগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করলেও তদন্তে কোন অগ্রগতি না হওয়ায় ১৮ আগস্ট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেন পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন)। পিবিআইয় ০৯ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আমলী আদালত-২ দেবীগঞ্জ এর অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মতিউর রহমান এই তিনজনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।