সংবাদ শিরোনাম

বিয়ে পাগল স্বামীর গোপনাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দিলেন স্ত্রী!সিরাজগঞ্জে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ী ও শিশু নিহতটিকা সবাইকে দিয়ে নিই, তারপর আমি নেবো: প্রধানমন্ত্রীসুনামগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী ২ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, ১ জন আটকসংঘর্ষ, গোলাগুলি অতঃপর দুই লাশে শেষ হলো চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনরংপুরে ইটভাটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, ১৯ লাখ টাকা জরিমানানির্বাচন বর্জন করলেন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র প্রার্থী জান্নাতুল ইসলামদেশের প্রথম করোনা টিকা নিলেন নার্স রুনুমুন্সিগঞ্জে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবনদেশে করোনা টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

  • আজ ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চোর বাহিনী করে ২০ কোটির মালিক ‘পাগলা মিজান’

◷ ৪:০৫ অপরাহ্ন ৷ বুধবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০ ফিচার
mizan photo 8776643

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- বাহিনী গঠন করে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি; এরপর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন মাদক কারবারীদের গডফাদার। ১৯৯৪ সালে তিনি কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়ে যান।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান ওরফে পাগলা মিজানের সর্ম্পকে এমন তথ্য উঠে এসেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে।

সিআইডি বলছে, অবৈধভাবে ২০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন মিজান। এ ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার নামে রয়েছে অন্তত ১৫টি ফ্ল্যাট। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার আইনের মামলার চার্জশিটে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি সিআইডি আদালতে ওই চার্জশিট জমা দেয়।

গত বছর আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করলে হাবিবুর রহমান মিজান বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন। এরপর ১১ অক্টোবর র‌্যাব তাকে মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গলের একটি বাসা থেকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। পরে তার বিরুদ্ধে সেখানে অস্ত্র আইনে মামলা হয়।

র‌্যাব তার ঢাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয় কোটি ৭৭ লাখ টাকার চেক ও এক কোটি টাকার এফডিআর উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানায় অর্থ পাচার আইনে (মানিলন্ডারিং আইন) মামলা হয়। এ মামলায় তদন্ত শেষে সিআইডি আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে কাগজপত্রের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অর্থপাচার মামলায় হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। হাবিবুর রহমান অবৈধভাবে ২০ কোটি টাকার মালিক হন।

সম্পদের পাহাড় গড়েন হাবিবুর
সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, হাবিবুরের বাবা আবদুল মালেক মিয়া ঢাকায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় ঝাড়ুসহ খাবার সরবরাহ করতেন। হাবিবুর দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় ঝালকাঠি থেকে ঢাকায় এসে বাবার ব্যবসায় যোগ দেন। সে সময় তিনি জড়িয়ে পড়েন নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। ছিনতাই করার সময় ধরা পড়ার পর বস্ত্রহীন অবস্থায় পাগলের মতো আচরণ করেছিলেন।

পুলিশ ‘পাগল’ ভেবে তাঁকে ছেড়ে দেয়। তখন থেকে হাবিবুরের নাম পড়ে ‘পাগলা মিজান’। হাবিবুর একসময় গড়ে তোলেন ‘মিজান বাহিনী’। এই বাহিনীর লোকজন সিটি করপোরেশনের ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি করতেন। পরে আবার সেই ঢাকনা সিটি করপোরেশনের কাছে বেশি দামে বিক্রি করতেন। তখন এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন হাবিবুর। মোহাম্মদপুরে দখল করেন আটকে পড়া পাকিস্তানিদের (বিহারি) পরিত্যক্ত বাড়ি। সেখানে তিনি বসবাস শুরু করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৯৭৫ সালের শেষ দিকে হাবিবুর মিরপুর–১০ নম্বরের এ–ব্লকে একটি মিষ্টির দোকান দেন। নাম দেন হাবিব সুইটমিট। এর পাঁচ বছরের মাথায় ১৯৮০ সালে হাবিবুর গণপূর্তের ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। টানা ১৪ বছর তিনি ঠিকাদারির ব্যবসা করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে বছিলায় একটি ইটভাটা দেন। নাম দেন এইচআরএম। বছিলায় হাবিব প্লাজা নামে একটি মার্কেট আছে তাঁর।

লালমাটিয়ার স্বপ্নপুরি হাউজিংয়ে আছে তাঁর সাতটি ফ্ল্যাট। মোহাম্মাদপুরের আওরঙ্গজেব সড়কে আছে আরেকটি ফ্ল্যাট। রাজধানীর পল্টন এলাকার একটি পাঁচতলা ভবনের মালিক হাবিবুর। সেখানে আছে তাঁর ১০টি ফ্ল্যাট। হাবিবুর রহমান মিশুক অ্যান্ড কোম্পানির মালিক। এ ছাড়া তিনি ঢাকার হজ কাফেলা অ্যান্ড ট্রাভেলসের মালিক।

জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস এম মিরাজ আল মাহমুদ বলেন, হাবিবুরের স্ত্রী মনি রহমানের নামে তিনটি গাড়ি ও তিনটি ফ্ল্যাট পাওয়া গেছে। চারটি ব্যাংক হিসাবে তাঁর নামে ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৩৫৪ টাকা পাওয়া গেছে। করোনায় হাবিবুর রহমানের স্ত্রী মারা গেছেন। যে কারণে তাঁকে এই মামলার আসামি করা হয়নি।