• আজ ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

নাপিতকে বিয়ে করে ‘সুখেই ছিলেন’ গাইনি চিকিৎসক, ২১ মাস পর সন্তানসহ ধরা

◷ ১২:৩৯ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০ আলোচিত বাংলাদেশ
cid photo

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্ক- ৮-৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক তাদের। প্রেমিক পেশায় নাপিত হওয়ায় তাকে পরিবার মেনে নেবে না-এমন ভয় ছিল গাইনি চিকিৎসক মিতুর। তাই প্রেমিকের সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান। বিয়ে করে সংসার পাতেন।

ওই ঘটনায় অপহরণের মামলা দায়ের করেন মিতুর বাবা। ২১ মাস পর ওই মামলায় গত সোমবার মিতুকে সন্তানসহ উদ্ধার ও প্রেমিক বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। উদ্ধারের পর গাইনি চিকিৎসক মিতু জানিয়েছেন, নাপিত স্বামীকে নিয়েই সুখে আছেন তিনি।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার চানমিয়া হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে মিতুকে উদ্ধার করে রংপুর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মিতুর পুরো নাম আয়েশা ছিদ্দিকা মিতুকে (৩৪)।

পেশায় গাইনি চিকিৎসক মিতুর বাড়ি রংপুর নগরীর সেনপাড়া এলাকায়। নগরীর আলমনগর কলোনির নাপিত রফিকুল ইসলাম ওরফে বাপ্পীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

মিতুকে উদ্ধারের পর গতকাল মঙ্গলবার রংপুর নগরীর কেরানী পাড়া এলাকায় সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (এসপি) মিলু মিয়া বিশ্বাস জানান, গত বছরের মার্চ মাসে ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর তার মেয়ে গাইনি চিকিৎসক আয়েশা ছিদ্দিকা মিতু অপহৃত হয়েছেন-মর্মে নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন।

মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, আলমনগর কলোনির নরসুন্দর বাপ্পী তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন পুলিশ চেষ্টা করেও অপহৃত ডা. মিতুকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশের কাছে দেয়া হয়।

সিআইডি পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ইউনুছ দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়ে ডা. মিতুকে সোমবার রাতে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার চানমিয়া হাউজিংয়ের একটি বাসা থেকে উদ্ধার করেন। সেই সঙ্গে অপহরণকারী বাপ্পীকে আটক করেন।

ডা. মিতুু তার আগের স্বামীকে তালাক দিয়ে বাপ্পীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার আগের স্বামীর ঘরে একটি ছেলেসন্তান এবং বাপ্পীর ঘরে একটি সন্তান রয়েছে। তারা অনেক দিন আগেই বিয়ে করে সংসার করে আসছিলেন।

৮-৯ বছর ধরে বাপ্পীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল ডা. মিতুর। তারা আগেও একবার পালিয়ে গিয়েছিলেন জানিয়ে এসপি মিলু মিয়া জানান, ওইসময় অনেক বুঝিয়ে তাকে বাড়িতে আনা হলেও আবার তারা পালিয়ে যান। বাপ্পী পেশায় নরসুন্দর হলেও তিনি মিতুর বাবার ব্যবসায় ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করতেন।

দীর্ঘ ২১ মাস ধরে ডা. মিতু ঢাকার মোহাম্মদপুরে চেম্বার দিয়ে রোগী দেখতেন। তিনি যা রোজগার করতেন তাই দিয়ে বাসাভাড়াসহ তাদের সংসার খরচ চলত বলে জানিয়েছেন।

ডা. মিতু জানান, বাপ্পীর সঙ্গে ২১ মাসের বিবাহিত জীবনে তাদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। তারা সুখেই আছেন। তার বাবা তাদের নামে মিথ্যা মামলা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।