সংবাদ শিরোনাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইয়ের হাতে বোন খুন!টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলায় কলেজ ছাত্র নিহতফেনীর সোনাগাজী পৌর মেয়রের জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি‘ভারতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই মুসলমানদেরকে শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছে’দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশেরসাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশুকুয়াকাটায় সৈকতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যুঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডশাহজাদপুরে বসতবাড়িতে চোরাই তেলের অবৈধ গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৩ জন দগ্ধটাঙ্গাইলে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

  • আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

গাজীপুরে পৈত্রিক সস্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে মিথ্যা মামলায় হয়রানীর অভিযোগ

◷ ৫:০৯ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০ ঢাকা
Gazipur news

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সময়ের কণ্ঠস্বর: গাজীপুর মহানগরীর হাতিয়াব এলাকায় পৈত্রিক সম্পত্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী নিরাঞ্জণ বর্মণের (৫২) পরিবার। ভুক্তভোগীর সৎ ভাই ও ভাইয়ের ছেলেরা তাকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে পুলিশের সহায়তায় মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২৪ডিসেম্বর) দুপুরে গাজীপুর শহরের হাবিবুল্লাহ সরণির ইকবাল কুটিরে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন নিরাঞ্জন বর্মণ।

নিরাঞ্জন বর্মণ জানান, পিতা মনমোহন বর্মণের দ্বিতীয় স্ত্রী বামনী বর্মণের একমাত্র ছেলে তিনি।  নিরঞ্জন বলেন, তার বাবা মনমোহন বর্মন প্রথম স্ত্রী থাকতেই সামাজিক ভাবে গত ৫৫ বছর আগে আমার মাকে ২য় বিয়ে করেন। বিয়ের ৩ বছর পর ১০ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৫ সালে মনমোহনের ওরষে বামনী বর্মনের গর্ভে আমার পৈত্রিক ভিটায় আমি জন্ম গ্রহণ করি। বিয়ের পর দীর্ঘদিন আমার বাবা মনমোহনের বাড়িতেই আমার মা বসবাস করে আসছিল। পরবর্তীতে আমার বাবার ১ম পক্ষের স্ত্রীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় এবং পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি করার কারণে আমার বাবা অন্যত্র তার নিজের পৈত্রিক জমিতে আমার মাকে বসত ঘর করে দেন। সেখানেই আমার এবং আমার মায়ের ভরণ পোষণসহ যাবতীয় খরচাদি দিয়ে জীবদ্দসায় সংসার করে এসেছে। অপরদিকে মনমোহনের প্রথম স্ত্রীর ৩ ছেলে, এরা হচ্ছে মৃত সচীন্দ্র বর্মণ, নরেন্দ্র বর্মণ ও দীজেন্দ্র বর্মণ। মনমোহনের ৩৬ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। বিধান অনুযায়ী নিরাঞ্জন বর্মণ ৯ বিঘা সম্পত্তির মালিক। কিন্তু তার সৎ ভাইয়েরা একত্র হয়ে তাকে পিতার ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করেছে।

তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ওয়ারিশকৃত তার প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেবার সিদ্ধান্তও সৎ ভাইয়েরা মান্য করেনি। সম্পত্তি ভোগদখল করতে গেলে তাদেরকে মারধর করে আহত করা হয়। সৎ ভাই ও তার ভাতিজার লাঠির আঘাতে নিরাঞ্জন বর্মণের স্ত্রীর মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়। এ ঘটনায় মামলা নিতেও পুলিশ গড়িমশি করে। অন্যদিকে ভাইয়ের ছেলে পলাশ চন্দ্র বর্মনের মামলা আমলে নিয়ে আমার পরিবারের সদস্যকে গ্রেফতার করে।

নিরঞ্জন বলেন, আমার বাবা মনমোহন মারা যাওয়ার পর তার প্রথম পক্ষের সন্তান আমার সৎ ভাই সচিন চন্দ্র বর্মন, দীজেন্দ্র চন্দ্র বর্মন, নরেন্দ্র চন্দ্র বর্মন ষড়যন্ত্র করে আমাকে অন্য ব্যক্তির (কানাই চন্দ্রবর্মন) সন্তান দেখিয়ে ২৬ শতাংশ জমি লিখে দেন। যাতে করে আমি মনমোহনের সন্তান দাবি করতে না পারি এবং আমি আমার বাবার ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত হই। এরই ধারাবাহিকতায় তারা আমাকে আমার প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করতে নানা ধরণের কৌশল অবলম্বন করে আসছে। অথচ ওয়ারিসান সনদসহ ভোটার আইডি কার্ডে আমার বাবার নাম মনমোহন বর্মন যার নম্বর-৮৬৬-৯৯৫-৩৩৩৬।  তাছারা স্থানীয় গ্রামবাসী সকলেই জানে আমি মনমোহনের সন্তান।

বর্তমানে আমার সৎ ভাই দীজেন্দ্র চন্দ্র বর্মনের ছেলে পলাশ বর্মন (৩৫) আমাকে নানারকম হুমকিসহ একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। যা আমার স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাছারা বিভিন্ন সময় আমাকে এবং আমার সন্তান নিবাস চন্দ্র বর্মনকে হত্যা গুম করে দেয়ার হুমকি প্রদান করছে। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল থাকার কারণে অর্থের দাপটে তারা প্রতিনিয়ত হয়রানি করছে আমাকে এবং আমার পরিবারের লোকজনকে।

ভুক্তভোগী নিরাঞ্জন বর্মণের পরিবার সংবাদ সম্মেলনে পৈত্রিক ওয়ারিশ সম্পত্তি ভোগদখল ও মিথ্যা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভুক্তভোগী নিরঞ্জন চন্দ্র বর্মন, তার স্ত্রী কমলা রানী বর্মন এবং ছেলে নিবাস চন্দ্র বর্মন ।