• আজ ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

জাতীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া হল খোলা সম্ভব নয়: ঢাবি ভিসি

৯:৩৩ অপরাহ্ন | বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০ শিক্ষাঙ্গন
dhaka

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ আবাসিক হল বন্ধ রেখেই আগামী ২৬ ডিসেম্বর থেকে অনার্স শেষ বর্ষ ও মাস্টার্সের আটকে থাকা পরীক্ষা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা হল খোলার দাবি জানালেও হল খুলতে জাতীয় সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা হল খোলার দাবি জানালেও বিচ্ছিন্নভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। এ পরিস্থিতিতে জাতীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া হল খোলা সম্ভব নয়।

হল খুলে দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে উপাচার্য কার্যালয়ে বৈঠকে ঢাবি উপাচার্য এ কথা জানান।

আবাসিক হল খুলে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিতসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করে স্মারকলিপি দিয়েছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। এর আগে টিএসসি থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে উপাচার্য কার্যালয় ঘেরাও করে তারা। পরে উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করে স্মারকলিপি দেন জোটের নেতারা। এসময় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি মাসুদ রানা ও সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন প্রিন্স উপস্থিত ছিলেন।

প্রগতিশীল ছাত্রজোটের অন্যান্য দাবিগুলো হলো- বেতন ফি মওকুফসহ অতিরিক্ত হারে সেশন-অন্যান্য ফি ও জরিমানা না নেওয়া এবং পরিবেশ পরিষদের সভা আহ্বান করে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার রোডম্যাপ ঘোষণা করা।

শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে পরীক্ষা নিতে গত ১৩ ডিসেম্বর উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বৃহস্পতিবার প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী উপাচার্যের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসময় তারা শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা তুলে ধরে শুধু পরীক্ষার্থীদের জন্য হলেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হল খোলার দাবি জানান।

তাদের দাবি পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য আখতারুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অসুবিধা ও সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে হলে থেকে পড়ালেখা করে। তাদের জন্য এখন এই পরিস্থিতিতে ঢাকায় থাকাটা ‘একটু’ কষ্ট হবে। তবে এই মহামারিতে শিক্ষার্থীদের এই কষ্টের চেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তার বিষয়টা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সহমত জানিয়ে তিনি বলেন, ছাত্র সংগঠনসহ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে আামি দ্বিমত পোষণ করছি না। তবে এটি স্বাভাবিক বন্ধ হলে প্রশাসন সিদ্ধান্তে যেতে পারতো। এই বন্ধটি হলো প্যানডেমিক উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য। এখানে হঠকারী সিদ্ধান্ত নিলে বড় আকারে ঝুঁকি সম্ভাবনা আছে। কেউ কেউ মামলাও করতে পারে। আন্তর্জাতিভাবেও কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে যে, জাতীয় সিদ্ধান্ত একরকম, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত আরেক রকম।

তিনি বলেন, পুরো জাতিকে আমরা অন্যদিকে নিয়ে যেতে পারি না। কেউ এটাকে বলবে ‘ট্রাম্পের মতো আচরণ’। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে হল খুলতে জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্ত লাগবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত লাগবে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল খোলার দাবিতে গত বুধবার সকাল ১১টা থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।