• আজ ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী নয় বাংলাদেশ: রয়টার্স

isrieell

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গত কয়েক মাসে হোয়াইট হাউসের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করেছে চার মুসলিম দেশ- সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান ও মরক্কো।

আগামী জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে আরও দু’টি মুসলিম দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন হবে বলে দাবি করেছেন এক ইসরায়েলি মন্ত্রী। তবে ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশ এধরনের সম্পর্ক গড়তে মোটেও আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প ক্ষমতা ছাড়ার আগে পঞ্চম মুসলিম দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে কি না জানতে চাইলে ইসরায়েলের আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক মন্ত্রী অফির আকুনিস স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে বলেন, ‘আমরা সেই দিকেই কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি… শান্তিচুক্তির ভিত্তিতে আরেকটি দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে প্রকাশ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে, এ ধরনের একটি মার্কিন ঘোষণা আসবে।’

ইসরায়েলি এ মন্ত্রী জানান, তাদের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পরবর্তী দু’টি দেশ বাছাই করা হয়েছে। এসময় সরাসরি দেশ দু’টির নাম উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, এর একটি হবে উপসাগরীয় দেশ, তবে সেটি সৌদি আরব নয়, বরং ওমান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আকুনিস বলেন, ‘আরেকটি হবে আরও পূর্বাঞ্চলীয় দেশ। সেটি এমন কোনও মুসলিম দেশ হবে, যা খুব একটা ছোট নয়। তবে সেই দেশটি পাকিস্তান নয়।’

সর্ববৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া। গেল সপ্তাহে তারা জানায়, ইসরাইলকে তারা স্বীকৃতি দেবে না। ফিলিস্তিনি ভাইদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষে তাদের অবস্থান অটল বলেও জানানো হয়।

মালয়েশিয়াও একই ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে আমাদের অবস্থান অপরিবর্তনীয়। বুধবার সিনেট অধিবেশনে তিনি আরও বলেন, ইসরাইলের বিষয়ে অন্য কোনো দেশ কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তাতে মালয়েশিয়া হস্তক্ষেপ করবে না।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স বলছে, বাংলাদেশেরও ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের আগ্রহ নেই। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অবস্থান একই রয়েছে।’

রয়টার্সের গত বুধবারের প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে গত সেপ্টেম্বরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বিবিসি বাংলা’কে বলেছিলেন, তাদের সরকার নৈতিকতার জায়গা থেকে ফিলিস্তিনি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের পক্ষে রয়েছে এবং থাকবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিষ্কারভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বলেছেন, আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে রয়েছি। আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কবিহীন পথচলা অব্যাহত থাকবে।’

◷ ৯:৫৪ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ২৪, ২০২০ ফিচার