• আজ ১২ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত এরদোয়ানের

erdogan-vs-netanyahu-1

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে আরও ভালো সম্পর্ক চায় তুরস্ক। এ লক্ষে দু’পক্ষের গোয়েন্দা পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি নীতি অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে সমালোচনাও করেন তিনি।

এরদোয়ান বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে কখনোই আমরা সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক ছিন্ন করিনি। বর্তমানে দেশটির শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের প্রধান সমস্যা।

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) ইস্তাম্বুলে জুমার নামাজ আদায়ের পর তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনি নীতি থেকে প্রত্যাবর্তনের কোনো সুযোগ আমাদের নেই। ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরাইলের নীতি মেনে নেওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব। তাদের নির্দয় কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

‘ইসরাইলের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতানৈক্য বা সমস্যা না থাকলে আমাদের সম্পর্ক ভিন্ন হতে পারতো।’ বলেন এরদোয়ান।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। আজারবাইজান সম্প্রতি আর্মেনিয়ার কাছ থেকে নাগারনো-কারাবাখ অঞ্চলে যুদ্ধে জয় পেয়েছে। তুরস্ক ও ইসরাইলের ড্রোন ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে তাদের বিশেষ সহায়তা করেছে।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানিয়েছে, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ গত সপ্তাহে এরদোগানকে ফোন করে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেন। আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহান বেইরামুভ ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেনাজির সঙ্গে একই বিষয়ে কথা বলেন। আজারবাইজান চায়, ইসরাইল ও তুরস্ক তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করুক।

উল্লেখ্য ২০১০ সালে ইসরাইল এবং তুরস্কের মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়। ওই সময় ইসরাইলি নৌবাহিনী তুর্কি ত্রাণবাহী জাহাজে হামলা চালায়। ত্রাণ নিয়ে অবরুদ্ধ গাজায় যাচ্ছিল তুর্কি জাহাজ। এমভি মাভি মারমারা জাহাজে ইসরাইলি হামলায় তুরস্কের ১০ মানবাধিকারকর্মী নিহত হন।

এ ঘটনা তুরস্ক-ইসরাইলের কয়েক দশক পুরনো শান্তিপূর্ণ সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ গণহত্যার জেরে পাল্টাপাল্টি নিজেদের রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে আঙ্কারা-তেল আবিব।

২০১৩ সালে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু ওই নৃশংসতার জন্য ক্ষমতা চান। মাভি মারমারার ক্ষতিগ্রস্তদের ২ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দেন। এরপরই তুরস্ক-ইসরাইল সম্পর্কে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।

২০১৬ সালে উভয় দেশ পুনর্মিলনের অংশ হিসেবে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করে। বিভিন্ন সময়ে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তুরস্ক-ইসরাইল।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরাইলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ফিলিস্তিনিরা। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভরত ৬২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরাইলি বাহিনী। ওই হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত ইতান নাভেহকে বহিষ্কার করে তুরস্ক। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরাইলও তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়।

সম্প্রতি তুরস্কের সরকার ইসরাইলে নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেছে।

◷ ১০:৩৮ অপরাহ্ন ৷ শুক্রবার, ডিসেম্বর ২৫, ২০২০ আন্তর্জাতিক