‘আল্লামা শফীকে ২ দিন আটকে রেখে গায়ে হাত দেয়া হয়েছিল’

১১:১৮ অপরাহ্ন | রবিবার, ডিসেম্বর ২৭, ২০২০ ঢাকা
osman

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, আল্লামা শফী সাহেবের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলেমকে ২ দিন আটকে রেখে তার গায়ে হাত দেয়া হয়েছিল। শফী সাহেবের পরিবার ও অন্যান্য আলেমদের কাছেই আমরা শুনেছি।

‘সেই অপমান আর আক্রমণ সহ্য করতে পারেনি বলেই শফী সাহেব মারা গেছেন। সেই শফী সাহেবের মৃত্যুর পর যারা হেফাজত নিয়ে মাঠে নেমেছে তারাই ভাস্কর্য ইস্যু নিয়ে দেশ ধ্বংসের পরিকল্পনায় অংশ নিচ্ছে।’

রোববার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার ফতুল্লায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল অ্যামিউজমেন্ট পার্কে (নম পার্কে) ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

শামীম ওসমান বলেন, স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগকে নয়, ওরা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ শেষ করতে চায়। দেশকে একটা ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে খেলায় নেমেছে। এটা সরকার পরিবর্তনের খেলা নয়, রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার খেলা খেলছে। যে কারণে শুরু থেকেই দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, র‌্যাব আর বিজিবি নিয়ে কথা বলছে। গোয়েন্দা প্রধানদের নিয়ে বিরোধিতা করে কথা বলেছে।

শামীম ওসমান দাবি করেন, এই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ ব্যক্তি হেফাজতের আমীর আল্লামা আহাম্মদ শফী সাহেবও। যাকে সারা দেশের মানুষ সম্মান করে তার মতো আলেমকে দুইদিন আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। যার কারণে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তার মৃত্যু হয়েছে। তার পরিবার ও বিভিন্ন ইসলামি সংগঠন এই অভিযোগ করছেন বলে শামীম ওসমান জানান।

আওয়ামী লীগের এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, নব্বই হাজার পাকসেনাকে যেভাবে নাকে খত দেয়ানো হয়েছিল একইভাবে এবার বাংলার মানুষ দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের মাটিতে মিশিয়ে দেবে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে প্রতিটি ওয়ার্ডে পঞ্চায়েত কমিটি গঠন করে দেশ রক্ষায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি। একই সাথে আগামী ৯ জানুয়ারি নগরীর চাষাঢ়ায় জনসমাবেশকে লাখো মানুষের সমাবেশে পরিণত করার ঘোষণা দেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদলের সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি ও মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাসহ দলীয় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।