ভারতে লাভ-জিহাদ বিরোধী আইনে অন্তত ৩৫ জন মুসলিম আটক

১১:০৯ অপরাহ্ন | সোমবার, ডিসেম্বর ২৮, ২০২০ আন্তর্জাতিক
jihad

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ লাভ জিহাদ বা ধর্মান্তরিত বিয়ে বন্ধের লক্ষে নভেম্বরে ভারতের উত্তর প্রদেশ সরকার একটি আইন পাস করে। এ আইনের আওতায় এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জন মুসলমানকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই)।

পিটিআই জানায়, বেরেলি থেকে উয়াইশ আহমাদ, মুজাফফরনগর থেকে নাদিম এবং তার বন্ধুকে, মুরাদাবাদ থেকে রাশিদ এবং সালিম দুই ভাইকে, মাও থেকে শাদাব খান, সিতাপুর থেকে ৫ মুসলিম যুবককে, বিজনর থেকে আফজাল এবং হারডোই থেকে মোহাম্মদ আজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওই রাজ্যে সাবিক নামে ১৭ বছর বয়সী এক মুসলিম কিশোরকেও গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশ।

বিয়ের মাধ্যমে হিন্দু নারীদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ বন্ধে আইন কার্যকরের পরদিনই বেরেলিতে প্রথম অভিযোগ দায়ের করা হয়।

প্রথম অভিযোগ দায়ের তিনদিন পর উওয়াইশ আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০ বছর বয়সী ওই নারীর বাবার অভিযোগ, উওয়াইশ তার মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে। তার মেয়েকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য নানাভাবে উৎসাহী করে, লোভ দেখায় এবং জবরদস্তি করে।

মুজাফফরনগর থেকে ৩২ বছর বয়সী নাদিম এবং তার এক বন্ধুকে ৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয়।

নাদিমের বিরুদ্ধে অক্ষয় কুমার ত্যাগী অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অক্ষয় জানান, তার স্ত্রী পারুলকে বিয়ের জন্য ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে নাদিম। নাদিম তাদের পূর্ব পরিচিত এবং অক্ষয়দের বাড়িতে মাঝে মাঝে তার যাতায়াত ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ অভিযোগ চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে যায় নাদিমের পরিবার। এক সপ্তাহ পর এলাহাবাদের উচ্চ আদালত জানান, নাদিমের বিরুদ্ধে দমনপীড়নমূলক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ হবে না।

‘ভুক্তভোগী (অভিযোগকারী স্ত্রী) স্বীকৃতভাবে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক। সে তার ভালো মন্দ নিজে বোঝে। ভুক্তভোগী এবং আবেদনকারী (নাদিম) প্রাপ্ত বয়স্ক হিসেবে নিজেদের গোপনীয়তা এবং সম্পর্ক বজায় রাখার মৌলিক অধিকার রাখে। কারণ তারা তাদের সম্পর্কের বিষয়ে সচেতন।’ বলা হয়, আদালতের পর্যবেক্ষণে।

পর্যবেক্ষণে বিচারকরা দেশটির সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের তৃতীয় ধারার তৃতীয় উপধারা তুলে বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাধীনভাবে ধর্ম গ্রহণ, বিশ্বাসের চর্চা এবং ধর্মের প্রচারের সমান অধিকার রয়েছে।

মোদারাবাদ থেকে সালিম আলি এবং তার ভাই রাশিদ আলিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের নির্দেশে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিজনগরে দলিত গোত্রের বান্ধবীর সঙ্গে হাঁটার সময় এক মুসলিম কিশোরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ১৪ ডিসেম্বর তাকে গ্রেফতার করা হয়। দলিত ওই কিশোরী মুসলিম কিশোরের সহপাঠী। আরেক বন্ধুর জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে একদল উগ্রবাদী তাদের ঘিরে ধরে।

উগ্রবাদীরা তখন ওই কিশোরকে মারধর করে। তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় দেওয়ার পর যখন উগ্রবাদীরা দেখলো তারা, দু’জন আলাদা ধর্মের, তখন তাদের স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মুসলিম কিশোরের বিরুদ্ধে ধর্মান্তরবিরোধী আইন এবং অপহরণের অভিযোগে মামলা দেয় পুলিশ।