সংবাদ শিরোনাম

জমি সংক্রান্ত বিরোধে ভাইয়ের হাতে বোন খুন!টাঙ্গাইলে রাতের অন্ধকারে অতর্কিত হামলায় কলেজ ছাত্র নিহতফেনীর সোনাগাজী পৌর মেয়রের জমির শ্রেনী পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি‘ভারতে যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই মুসলমানদেরকে শিক্ষা থেকে দূরে রেখেছে’দাপুটে জয়ে সিরিজ শুরু বাংলাদেশেরসাজার বদলে আদালত থেকে দেয়া হলো বই, ১০ শর্তে মুক্তি পেলো ৪৯ শিশুকুয়াকাটায় সৈকতে ডিগবাজি দিতে গিয়ে পর্যটকের মৃত্যুঠাকুরগাঁওয়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ডশাহজাদপুরে বসতবাড়িতে চোরাই তেলের অবৈধ গোডাউনে ভয়াবহ আগুন, ৩ জন দগ্ধটাঙ্গাইলে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

  • আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১৪৯ জন হিন্দুকে হত্যা ও ৭০৩৭ জনকে জখম করা হয়েছে: হিন্দু মহাজোট

◷ ৩:৪০ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০ ঢাকা
hindu

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, ২০২০ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৪৯ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।

‘এ ছাড়া ২০১ জনকে হত্যার হুমকি, ১৪৬ জনকে হত্যা চেষ্টা, ৭০৩৭ জনকে জখম ও আহত করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬১ জন নিখোঁজ ও ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজি ও ২৪৪টি পরিবার ও মন্দির লুটের অভিযোগ করেন তিনি।’

বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব এসব তথ্য জানান। এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা বন্ধে আলাদা সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ জাতীয় সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে ৬০টি সংরক্ষিত আসনসহ পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট।

এ সময় আরও জানানো হয়, এবছর বসতবাড়ি হামলা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৪৫৪টি। অগ্নিসংযোগ ১১৬টি ও ১০১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভূমি দখল হয়েছে ১০ হাজার ২৩৬ দশমিক ৭৩ একর। যার মধ্যে চাক, ম্রো এবং ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ৮ হাজার ২০০ একর এবং এবং হিন্দুদের দুই হাজার ২৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ জমি রয়েছে। ঘরবাড়ি দখলের ঘটনা ঘটেছে ৭০টি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ২৯টি, মন্দিরের ভূমি দখল ৩৭টি, দখলের তৎপরতা ৩৭৫ একর ২৬ শতাংশ। বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ ২ হাজার ১২৫ টি পরিবার, উচ্ছেদের চেষ্টা এক হাজার ৭১৩ টি পরিবার, উচ্ছেদের হুমকি ২ হাজার ৯৩ পরিবার এবং ৮টি ম্রো আদিবাসী গ্রাম।

আরও বলা হয়, চলতি বছর ৬২৯টি পরিবারকে দেশত্যাগের বাধ্য করা হয়েছে। দেশত্যাগের হুমকির শিকার হয়েছ ৮৯৩ পরিবার। নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে আরও ৬ হাজার ৬১৩ টি পরিবার। মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১৬৩টিতে। ৩৭০টি প্রতিমা ভাংচুর, ৩৩টি প্রতিমা চুরি, বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৫০৫টিতে। সংঘবদ্ধ হামলা হয়েছে ৫২০টি, ৯৪ জনকে অপহরণ করা হয়েছে, অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে ২১ জনকে।

হিন্দু মহাজোটের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৩৭ হিন্দু নারীকে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ১১ জনকে গণধর্ষণ করা হয়েছে, ২৪ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৫ জনকে। ২ হাজার ৬২৩ জনকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে। ধর্মান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে ২৯১টি পরিবারকে। ৪৩টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এর ঘটনা ঘটেছে এবং সরস্বতী পূজা উপলক্ষে ৭ লাখ হিন্দু শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় আসামি, গ্রেফতার বরখাস্ত করা হয়েছে ১৭৭ জনকে, ৪১৫ টি পরিবারকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু মহাজোটের সভাপতি আইনজীবী বিধান বিহারী গোস্বামী, নির্বাহী সভাপতি আইনজীবী দীনবন্ধু রায়, সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রদীপ কুমার পাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।