বুড়িচংয়ে প্রেমিক যুগলকে ধরতে গিয়ে গণপিটুনিতে ৩ পুলিশ আহত

◷ ৪:০২ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০ চট্টগ্রাম
burichog

আল মাহমুদ হৃদয়, বুড়িচং প্রতিনিধিঃ কুমিল্লায় পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করতে গেলে গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনিতে তিন পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়েছে। এরপর তাদেরকে আটক করা হয়।

সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পোস্ট অফিস রাম্পুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯-এ ফোন করলে বুড়িচং ও দেবিদ্বার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় প্রেমিক যুগলকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বিহারমন্ডল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের মেয়ে মোহনপুর পাবলিক কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী আখী আক্তারের সঙ্গে প্রতিবেশী সামসুল হকের ছেলে মো. ইউছুফের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক। এক মাস আগে তারা পালিয়ে বিয়ে করে।

পরিবারের আশ্বাসে বিয়ের ১০ দিন পর তারা ফিরে আসে। কিন্তু সেটি ছিল মিথ্যা আশ্বাস। (২৩ ডিসেম্বর) পুনরায় আখীকে তার পরিবার পাশ্ববর্তী এলাহাবাদ ইউনিয়নের সিঙ্গারী খোলা গ্রামে বিয়ে দেয়।

বিয়ের দুই দিন পর রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নতুন স্বামীকে নিয়ে কনের বাড়িতে আসলে তাকে ঘরে রেখেই আখী প্রেমিক স্বামী ইউছুফকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ওই ঘটনায় সোমবার আখীর মা নূরজাহান বেগম বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় অপহরণের অভিযোগ দাখিল করেন।

পুলিশ বাড়িতে গিয়ে ইউছুফকে না পেয়ে তার বড় ভাই ইব্রাহিমকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ ইউছুফকে জানায় ফিরে না আসলে আটক ভাইকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেবে। ইউছুফ তার প্রেমিকাকে নিয়ে বুড়িচং উপজেলার পোস্ট অফিস রাম্পুর এলাকা থেকে বাসযোগে থানায় আসতে চাইলে প্রেমিকা অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তারা স্থানীয়দের হাতে আটক হয়।

খবর পেয়ে দেবিদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইকরামুল হক দুই সিপাহি নিয়ে সিভিল পোশাকে হাজির হয়ে ইউছুফকে আটক করে। পুলিশ ইউছুফকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তার তলপেটে সজোরে লাথি মারলে ব্যথায় সে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে পুলিশের উপর মারমুখি হয়ে বেধরক মারধর করতে থাকলে স্থানীয়দের নিকট পুলিশ সদস্যরা বাঁচতে প্রাণ ভিক্ষা চান। এ সময় আব্দুল গফুর নামে এক যুবক তিন পুলিশকে উদ্ধার করে একটি ঘরে নিয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেন।

খবর পেয়ে দেবিদ্বার ও বুড়িচং থানার দুই ওসিসহ অতিরিক্ত পুলিশ এসে আহত তিন পুলিশসহ ও প্রেমিক যুগলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

দেবীদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক ইকরামুল হক জানান, ঘটনাস্থলে দুটি গ্রুপ সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে।

তবে আহত ইউছুফ জানিয়েছে পুলিশের লাথি নয়, তার মৃগী রোগ থাকায় সে অচেতন হয়ে পড়েছিল।

বুড়িচং থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানান, আমাদের অবহিত না করে আমাদের থানা থেকে আসামি ধরতে আসলেও, যেহেতু অভিযোগটি দেবিদ্বার থানার সেহেতু ওই থানায় মামলা হতে বাধা নেই।

দেবীদ্বার ও ব্রাক্ষণপাড়া থানার সার্কেল এএসপি আমিরুল্লাহ জানান, কিছু পুলিশ মানুষের সঙ্গে আচরণের শিক্ষাটাও নেয়নি। তাদের কারণে গোটা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনে শৃঙ্খলা বিরোধী কাজ করার অপরাধে দেবিদ্বার থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক ইকরামুল হকসহ ৩ পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।