সংবাদ শিরোনাম

ফেনীতে ধানের শীষের প্রচারণায় অংশ নেয়ায় পুড়িয়ে হত্যার ‍হুমকি১১ ঘণ্টা পর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিকপাবনায় চিংড়ি মাছের শরীরে আল্লাহপাকের নাম!স্কুল-কলেজ খোলার সিদ্ধান্ত ৪ ফেব্রুয়ারির পর: শিক্ষামন্ত্রীবিচারকের সঙ্গে অশোভন আচরণ: নিঃশর্ত ক্ষমার আবেদন কুষ্টিয়ার এসপি’রফরিদপুরের সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার পাশে উপজেলা চেয়ারম্যানপ্রধানমন্ত্রী আপনি প্রথম টিকাটি নিন: মির্জা ফখরুললতিফ সিদ্দিকীর দখলে থাকা ৫০ কোটি টাকার সরকারি জমি উদ্ধারউত্তরবঙ্গে চা উৎপাদনে সর্বোচ্চ রেকর্ড অর্জনআশুলিয়ায় পুকুরে বিষ প্রয়োগ, মরে ভেসে উঠল ২ লক্ষাধিক টাকার মাছ

  • আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুরে ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র

◷ ৪:৩৬ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৩১, ২০২০ চট্টগ্রাম
cadpur

মাহফুজুর রহমান, চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ ইলিশের বাড়ি খ্যাত ব্রান্ডিং জেলা চাঁদপুর এবার রুপ পেতে যাচ্ছে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র এবং বৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে। পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়ার কোলঘেষা জেলাটি সাঁজতে চলছে এ অঞ্চলের মানুষের কল্পিত নান্দনিক স্বপ্নে। তবে সেই স্বপ্নই সত্যি হতে চলেছে। আর এমন আশা জাগানিয়া কথাই শুনিয়েছেন জাপান-বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু রিভার আইল্যান্ড রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ক্লাব লিমিটেড’।

চাঁদপুরের মেঘনার চরে নান্দনিক ও শৈল্পিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বেসরকারি এই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রকল্পের জন্যে জায়গা লাগবে ৬শ’ একর। ব্যয় করা হবে ৬ হাজার কোটি টাকা। আর এর জন্যে উপযোগী জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন মৌজার দাসাদী সংলগ্ন মেঘনা নদীর তিনটি বিচ্ছিন্ন বিশাল চরকে।

চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন মোলহেড থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে হবে স্বপ্নের এই পর্যটন কেন্দ্রটির অবস্থান। এ উপলক্ষ্যে দাসাদী সংলগ্ন মেঘনার তীরে প্রায় ২৮০ একর জায়গা নিয়ে জেগে ওঠা চরে প্রকল্পটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় প্রকল্প প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ছাড়াও জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প পরিচিতি তুলে ধরেন ব্লু রিভার আইল্যান্ড রিসোর্ট অ্যান্ড ট্যুরিজম ক্লাবের পরিচালক রাজিব আহমেদ। সভায় এই পর্যটন কেন্দ্রের আদ্যোপান্ত মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি।

এখানে থাকছে— ৭ মার্চের স্মৃতি সম্বলিত ভাস্কর্য, জাতীয় চার নেতার ভাস্কর্য, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের জাদুঘর, পানির ওপর ভাসমান কটেজ, ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল কার, ট্রেডিশনাল কটেজ, স্টুডিও এপার্টমেন্ট, পাঁচ তারকা হোটেল, থিম পার্ক, রিভার ক্রুজ, স্পিড বোট, হেলিকপ্টার, কনভেনশন হল, থিয়েটার, মিউজিয়াম, ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো সেন্টার, মার্কেট, ফুড কোট, জিমনেসিয়াম, ইনডোর এবং আউটডোর গেমস, ক্রিকেট অ্যারোনা, সুইমিং ক্লাব, ওয়াটার রাইড, হসপিটাল, পার্টি সেন্টার, হলি কর্নার, রিসার্চ ইনস্টিটিউট, স্টাফ রেসিডেন্সিয়াল এরিয়া, এগ্রি ট্যুরিজম, গ্রীন এনার্জি, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ প্রধান প্রধান শহরের সাথে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা এবং পর্যটন ডিপ্লোমা কোর্স স্কুল; যেখান থেকে প্রতি বছর ২ হাজার ছাত্র-ছাত্রী বের হবে, যা পর্যটন শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

ব্লু রিভার আইল্যান্ড রিসোর্ট এন্ড ট্যুরিজম ক্লাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সাগর মাহমুদ জানান, ‘এই পর্যটন কেন্দ্রে প্রতিদিন লক্ষাধিক লোকের ভ্রমণের ব্যবস্থা ও ২০ হাজার পর্যটকের রাত্রিযাপনের সুবিধা থাকবে। প্রায় ৫ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে তিনটি ধাপে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২৬৫ একর, দ্বিতীয় ধাপে ২১০ একর ও শেষ ধাপে ১২৫ একর জমি। প্রয়োজন হবে।’প্রতি বছর বাংলাদেশ সরকার এই প্রকল্প থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পাবে। এছাড়াও ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে পর্যটন শিল্প একটি মাইলফলক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল, ব্লু রিভার আইল্যান্ড রিসোর্ট এন্ড ট্যুরিজম ক্লাব লিমিটেড এবং জাপান ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটাল-এর চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসাইন, অধ্যক্ষ অধ্যাপক অসিত বরণ দাশ, অধ্যক্ষ রতন কুমার মজুমদার, সাংবাদিক কাজী শাহাদাত, গোলাম কিবরিয়া জীবন, এএইচএম আহসান উল্লাহ প্রমুখ।