• আজ ১১ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

বগুড়ায় হুমকির মুখে ৩০৬ কোটি টাকার বাঁধ

◷ ৪:১৫ অপরাহ্ন ৷ শনিবার, জানুয়ারী ২, ২০২১ রাজশাহী
Bogura pic

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংলগ্ন যমুনা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি। প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে বালু উত্তোলন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসন কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল মিয়া।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা ইউনিয়নে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দুলালের বাড়ির সামনে বাঁধ সংলগ্ন যমুনা নদীতে তিনটি ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, বালু উত্তোলনের সাথে ইউপি চেয়ারম্যান দুলাল উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতা আনছার মাস্টার, যুবলীগ নেতা আশিক ছাড়াও সরকার দলীয় স্থানীয় নেতা কর্মীরা জড়িত রয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

এলাকার জনগণ বলেন, শুষ্ক মৌসুমে বাঁধ সংলগ্ন যমুনা নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় নদীর তলদেশে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে সৃষ্ট গর্তে পানির ঘুর্নিপাক তৈরি হবে এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তলদেশ থেকে মাটি সরে গিয়ে বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, সারিয়াকান্দি উপজেলার কামালপুর থেকে কর্নিবাড়ি পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রকল্পের আওতায় ৩০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়। বালু উত্তোলনের কারণে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্থ হলে কামালপুর, চন্দনবাইশা, কুতুবপুর, কর্নিবাড়ি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ও ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হবে। বাঁধ রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

এদিকে গত বছর বালু উত্তোলনের অভিযোগ পেয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলায় দুদক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বালু জব্দ করে বালু উত্তোলনকারীদের নামের তালিকা তৈরি করেছিল। সেই তালিকায় আনছার আলী মাস্টার, যুবলীগ নেতা আশিক ও ইউপি চেয়ারম্যান দুলালের নাম থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে তাদের নামে থানায় মামলা দেয়া হলেও বন্ধ হয়নি বালু উত্তোলন।

বালু উত্তোলনের বিষয়ে যুবলীগ নেতা আশিক সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘ঠিকাদারি কাজের প্রযোজনে বালু উত্তোলন করা হয় তবে আমি সরাসরি বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত নাই।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বালু উত্তোলন বিষয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজ প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে জানানো। তিনি বলেন, আমরা এবিষয়ে অভিযোগ আকারে চিঠি দিয়ে থাকি। এর বেশি আমাদের কোন ক্ষমতা নাই।’