‘আমরা এ বছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই’- পররাষ্ট্রমন্ত্রী

◷ ৭:০৫ অপরাহ্ন ৷ রবিবার, জানুয়ারী ৩, ২০২১ জাতীয়
momen

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এ বছর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে চাই। রোববার (০৩ জানুয়ারি) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ১৩২টি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। ভারত, চীন, রাশিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশ ভোটাভুটি থেকে বিরত থেকেছে। তবে বাংলাদেশের পক্ষে-বিপক্ষে থাকা সব দেশকে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিপক্ষে থাকা দেশগুলোও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে আসতে শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাপানের অনেক বড় বিনিয়োগ আছে মিয়ানমারে। তাদের অনুরোধ করেছিলাম এবং তারা বলেছিল যে নিশ্চয় তারা আমাদের সাহায্য করবে। কারণ, মিয়ানমারের ওপরে জাপানের প্রভাব আছে। এটি চীনের উদ্যোগের বাইরে। তবে জাপানের উদ্যোগের কাঠামো এখনও তৈরি হয়নি। আমরা বলেছি এবং তারা পছন্দ করেছে।’

আব্দুল মোমেন বলেন, ভারত আমাদের বলেছে, তারা মিয়ানমারের সঙ্গে আলাপ করবে এবং সহায়তা করবে। তারাও চায় রোহিঙ্গারা ফেরত যাক। ভারত, জাপান, চীন-সবাই আমাদের সঙ্গে একমত যে মিয়ানমারেই সমস্যার সমাধান নিহিত আছে বলে তিনি জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বছরের প্রথমদিন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর দফতরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়েকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে এ বছর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার অনুরোধ করা হয়েছে। মিয়ানমারের ব্যবহারে পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা আশাবাদী। দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক ও বহু-পক্ষীয় আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। এমনকি আইনি কাঠামোর মধ্যেও কাজ করছি। যত ব্যবস্থা আছে সব নিয়ে কাজ করছি’

মিয়ারমারকে যাচাই-বাছাই করার জন্য ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এরমধ্যে তারা ২৮ হাজার যাচাই-বাছাই করেছে। তারা অত্যন্ত ধীরগতিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। ত্রি-পক্ষীয় বৈঠক মিয়ানমারই পেছাচ্ছিল। বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমার ত্রি-পক্ষীয় ব্যবস্থার উদ্যোক্তা হচ্ছে চীন। তারা এটি নিয়ে কাজ করছে। আমরা সব সময় তৈরি। তারা যখন তারিখ দেবে আমরা বসবো।’

এদিকে ভাসানচর নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, রোহিঙ্গাদের টাকা দিয়ে ভাসানচর পাঠানো হচ্ছে, এটা মিথ্যা। ভাসানচরের প্রকৃত অবস্থা দেখাতে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিকদের অচিরেই সেখানে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।