🕓 সংবাদ শিরোনাম

বিএনপি বাড়াবাড়ি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: তথ্যমন্ত্রী * ফরিদপুরে হাজিরা দিতে এসে আদালত প্রাঙ্গণে আসামীর মৃত্যু * ধান উৎপাদন বাড়াতে নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ করেছে সরকার * ২৬ শর্তে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি * ১০ টাকার টিকিট কেটে চোখ দেখালেন প্রধানমন্ত্রী * রসিক নির্বাচনে বিএনপির পর এবার সরে দাঁড়াল জামায়াত * নারায়ণগঞ্জে স্বপন হত্যায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড, আরেকজনের যাবজ্জীবন * শরীয়তপু‌রে এল‌জিই‌ডি প্রকৌশলীর বিরু‌দ্ধে দুদ‌কে অ‌ভি‌যোগ * ৬৭ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন শেরপুরের কালাম! * মিয়ানমার ভবিষ্যতে আকাশসীমা লঙ্ঘন না করার আশ্বাস দিয়েছে: বিজিবি প্রধান *

  • আজ মঙ্গলবার, ১৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ ৷ ২৯ নভেম্বর, ২০২২ ৷

কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন মারা গেছেন

rabeya
❏ রবিবার, জানুয়ারি ৩, ২০২১ নারী

সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন আর নেই। রোববার বিকালে তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

মহিয়সী এই নারীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাবেয়া খাতুনের মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও শিল্প সংস্কৃতি অঙ্গনে শোক নেমে এসেছে।

রাবেয়া খাতুন ২৭ ডিসেম্বর ১৯৩৫ ঢাকার বিক্রমপুরে তার মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলায় অবস্থিত ষোলঘর গ্রামে৷

১৯৫২ সালের ২৩ জুলাই সম্পাদক ও চিত্র পরিচালক এটিএম ফজলুল হকের সাথে রাবেয়া খাতুনের বিয়ে হয়। তাদের চার সন্তানের মধ্যেে রয়েছে, ফরিদুর রেজা সাগর, কেকা ফেরদৌসী, ফরহাদুর রেজা প্রবাল ও ফারহানা কাকলী।

কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত হলেও রাবেয়া খাতুন এক সময় শিক্ষকতা করেছেন। সাংবাদিকতার সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। ইত্তেফাক, সিনেমা পত্রিকা ছাড়াও তার নিজস্ব সম্পাদনায় পঞ্চাশ দশকে বের হতো ‘অঙ্গনা’ নামের একটি মহিলা মাসিক পত্রিকা।

তার প্রকাশিত পুস্তকের সংখ্যা একশ’রও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে উপন্যাস, গবেষণাধর্মী রচনা, ছোটগল্প, ধর্মীয় কাহিনী, ভ্রমণকাহিনী, কিশোর উপন্যাস, স্মৃতিকথা ইত্যাদি। রেডিও, টিভিতে প্রচারিত হয়েছে অসংখ্য নাটক, জীবন্তিকা ও সিরিজ নাটক। তার গল্পে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে কয়েকটি।

রাবেয়া খাতুন উপন্যাস লিখেছেন পঞ্চাশটিরও বেশি। এ পর্যন্ত চার খণ্ডে সংকলিত ছোটগল্প সংখ্যায় চারশ’র বেশি। ছোটদের জন্য লেখা গল্প-উপন্যাসও সংখ্যায় কম নয়। রাবেয়া খাতুন বাংলাদেশের ভ্রমণ সাহিত্যের প্রধানতম লেখক। প্রথম উপন্যাস মধুমতী (১৯৬৩) প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই শক্তিমান কথাসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি পান। ক্ষয়িষ্ণু তাঁতি সম্প্রদায়ের জীবন সংকট ও উঠতি মধ্যবিত্ত জীবনের অস্তিত্ব জিজ্ঞাসার মধ্যে ব্যক্তিকে আবিষ্কার করেছিলেন রাবেয়া খাতুন এই উপন্যাসে।

রাবেয়া খাতুন ভ্রমণ সাহিত্য রচনাকে গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম হিসেবে বিবেচনা করেছেন বলে তার ভ্রমণ সাহিত্যের বইও অনেক। বেশকিছু আত্মজৈবনিক স্মৃতিমূলক রচনা লিখেছেন। একাত্তরের নয় মাস (১৯৯০) বইয়ে লিখেছেন একাত্তরের শ্বাসরূদ্ধকর দিনগুলোর কথা।

সাহিত্যচর্চার জন্য স্বাধীনতা পুরস্কার, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমিসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন তিনি।