• আজ ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মার্কিন পার্লামেন্টে ট্রাম্প-সমর্থকদের তাণ্ডব, নিহত ৪

◷ ১২:১৮ অপরাহ্ন ৷ বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ৭, ২০২১ আন্তর্জাতিক
trump

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী জো বাইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটলে যৌথ অধিবেশনে বসেন আইনপ্রণেতারা। এসময় ক্যাপিটলে ঢুকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সশস্ত্র সমর্থকরা বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু করেন।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীরা ভবনের জানালা ভাঙচুর করে। আর সেই সঙ্গে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ উগ্র জনতাকে হটাতে পুরো ভবন অবরুদ্ধ করে ফেলে। এ সময় গুলিতে এক নারী নিহত হন। পরে ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় আহত আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র মিজ বাউজার বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টার পর ক্যপিটল হিলের বিক্ষোভ সম্পর্কে একটি সংবাদ সম্মেলন করেন।

তিনি জানান, হাউজ রুমে অধিবেশন চলাকালে কয়েজন জোরপূর্বক প্রবেশ করে। ওই দলটির সদস্য ছিলেন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া নারী। ওই দলটিকে সাদা পোশাকের কয়েকজন কর্মকর্তা বাধা দেন এবং অফিসারদের একজনের গুলিতে ওই নারী মারা যান।

মিজ বাউজার জানান, নিহত হওয়া বাকি তিনজনের একজন নারী ও দুই জন পুরুষ। এছাড়া মেট্রো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের অন্তত ১৪ জন সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে গত ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন জো বাইডেন। অধিবেশনের কয়েক ঘন্টা আগে থেকেই এর বিরোধিতা করে ওয়াশিংটনে জড়ো হতে থাকেন কয়েক হাজার ট্রাম্প সমর্থক। সমাবেশে বক্তব্য দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তিনি নভেম্বরের নির্বাচনে পরাজয় মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সমাবেশের অল্প একটু দূরেই ক্যাপিটল ভবন। ট্রাম্পের কয়েকশ উগ্র সমর্থক সেখানে গিয়ে ভবনের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভেঙে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। কংগ্রেসের অধিবেশন চলাকালেই পুলিশের বাধা ভেঙে ভবনে ঢুকে পড়েন তারা। ভবনে ভাঙচুরও চালান। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদুনে গ্যাস ও পেপার স্প্রে ব্যবহার করে পুলিশ। গোলাগুলি এবং প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটে।

ট্রাম্প সমর্থকদের আগ্রাসী তাণ্ডবের মুখে ক্যাপিটল ভবন অবরুদ্ধ করতে বাধ্য হয় পুলিশ। ওয়াশিংটনে জারি করা হয় কারফিউ।

সংঘর্ষের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সদস্যদের পাহারা দিয়ে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে সিনেট অধিবেশনও মুলতবি করা হয়।

পরে ক্যাপিটল ভবন থেকে ট্রাম্প সমর্থকদের হটাতে তিনঘণ্টা সময় লাগে পুলিশের। শেষ পর্যন্ত বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ক্যাপিটল ভবনকে নিরাপদ ঘোষণা করে পুলিশ। পরে আইনপ্রণেতারা ফের অধিবেশনকক্ষে ফিরে আসেন। আবার শুরু হয় যৌথ অধিবেশন।

উল্লেখ্য, গত ২০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে ক্যাপিটল হিলে এই প্রথম এত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হলো। সবশেষ ১৮১৪ সালে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী ক্যাপিটল হিলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।