সেতু আছে, সড়ক নেই!

১১:১৭ অপরাহ্ন | শুক্রবার, জানুয়ারী ৮, ২০২১ ময়মনসিংহ
SETU

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ থেকেঃ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নে বাকপাড়া ও বল্লবপুর গ্রামের রাস্তায় মক্রমের খালের উপর ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে একটি সেতু। সংযোগ সড়ক না থাকার কারনে বাঁশ সংগ্রহ করে খালের তলদেশ থেকে প্রায় ২০ ফুট উঁচু দিয়ে রাস্তার সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে চলাচল করছে স্থানীয়রা।

সংযোগ সড়কবিহীন সেতুটির কংক্রিটের বিভিন্ন অংশ ইতোমধ্যে খসে পড়তে শুরু করেছে। সীমান্ত অঞ্চলের অনুন্নত এ জনপদে মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে উদ্যোগ নেই সংশ্নিষ্টদের।

এই সেতু দিয়ে পারাপার হচ্ছেন- রামনাথপুর, বাকপারা, বলরামপুর, রায়পুর, কাশিপুর, দক্ষিণ মাইজপাড়া, গিলাগড়া, পূর্ব লাঙ্গলজোড়াসহ অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। নিজের উদ্যোগে নির্মিত বাঁশের সাঁকোটিই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা।

জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই সেতুটি পারাপারে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তবুও সবসময় আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে চলাচল করতে বাধা হচ্ছেন চলাচলকারীরা। সেতুটি দ্রুত সংস্কার আর সংযোগ সড়ক তৈরি করে চলাচল উপযোগী করার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০-১১ অর্থবছরে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম মির্জার তত্ত্বাবধানে সেতুটি নির্মিত হয়। সে সময় সংযোগ সড়ক হলেও বছরখানেকের মাথায় বন্যার পানির স্রোতে ভেঙে যায় সংযোগ সড়ক। সেই থেকে ব্রীজটি পারাপারে দুই পাশে প্রয়োজন হয় বাঁশের সাঁকো। তবে ব্রীজটি কারা করেছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় এলজিইডি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর।

কথা হয় উপজেলার গিলাগড়া গ্রামের আলাল উদ্দিন নামের একজনের সাথে। তিনি বলেন, দুচোহে কত সুন্দর সুন্দর রাস্তা আর ব্রীজ চোহে দেখলাম। আমরা সীমান্ত অঞ্চলের দেইখ্যা ভালা সড়ক আর সেতু পাইতাছিনা। এইডা আমগর কপাল। আমগোর কথা হুনবো কেডা, কবে যে এই সড়ক দিয়া নিশ্চিন্তে চলাচল করবাম আল্লাহ জানেন।

আক্ষেপ জানিয়ে রায়পুর গ্রামের কাদির মিয়া বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকার কারনে সেতুর দু’পাশের মাটি দিন দিন আরো সড়ে যাচ্ছে। এখন যদি সড়ক নির্মাণ করে ভালোভাবে ব্রীজটি সংস্কার করা যায় তাহলে আরো অনেকবছর ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী থাকবে। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন অংশ খসে যাচ্ছে, ফলে একসময় ব্রীজটি ধ্বসে যায়কিনা তাও সন্দেহ রয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা ভোটের সময় মাথায় হাত ভুলিয়ে ভোট চায়। এখন আমরা দুর্ভোগে আছি তারা কি দেখেনা! আর সংশ্লিষ্টরা সড়কটি চলাচলের উদ্যোগ না নেয়ার কারনটাই বা কি! সেতুটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার দাবী জানান তিনি।

গ্রামের মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য ২০১০-১১ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। ওই অবস্থায় সেতুর দুই পাশে বাঁশের সাঁকোতে পার হতে হয়। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুল হক।

এদিকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে ব্রীজটি সরেজমিনে পরিদর্শনে যাওয়ার কথা জানিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন উজ্জ্বল বলেন, আমি সেতুটি সম্পর্কে আগে জানতামনা। এটি আমাদের দপ্তরের নির্মিত সেতু কিনা তা দেখতে হবে। সংযোগ সড়ক না থাকার কারনে সেতুু দিয়ে চলাচলে মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি দুঃখজনক। সেতুটি পরিদর্শন শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহীনূর ফেরদৌস বলেন, শুনেছেন সেতুটি ২০১০-১১ সালে নির্মিত হয়েছে। তবে এটি তাদের দপ্তর, না অন্য কোনো দপ্তর করেছে, সে বিষয়ে কোনো নথি তাদের দপ্তরে নেই। গ্রামীণ সড়কটিতে নির্মিত সেতুটি চলাচল উপযোগী করতে আপাতত তাদের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তর চাইলে মাটির রাস্তা করে দিতে পারে।

এ বিষয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাফিকুজ্জামান বলেন, সেতুটি কীভাবে হয়েছে, কারা করেছে, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সেতুটি চলাচল উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।