আমাকে জাতীয়ভাবে পাগল বলা হয়: ওবায়দুল কাদেরের ভাই

১০:৩৩ অপরাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ৯, ২০২১ আলোচিত বাংলাদেশ
kader mirza

সময়ের কণ্ঠস্বর, নোয়াখালী- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোটভাই ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে জাতীয়ভাবে ‘পাগল’ মনে করা হয় বলে নিজেই মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে যখন প্রতিবাদ করি, তখন জাতীয়ভাবে আমাকে বলা হয় আমি নাকি পাগল, উন্মাদ।’

আজ শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার নির্বাচনী পথসভায় আবদুল কাদের মির্জা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এ বিচারটা আপনাদের কাছে দিলাম। ১৬ তারিখ (বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচন) আমি পাগল নাকি, তা প্রমাণ করে দেব।’

আবদুল কাদের মির্জা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা দিয়েছেন, শেখ হাসিনা মানুষের ভাতের অধিকার দিয়েছেন। এখন শেখ হাসিনাকে মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য কাজ করতে হবে। আমরা তাকে সহযোগিতা করব। রাতারাতি এটা করা সম্ভব নয়। পয়সা দিয়ে যারা এমপি মনোনয়ন নেন, তারা জীবনে নিজ এলাকায় গিয়ে গরিব মানুষের পাশে দাঁড়ান না। তারা ভোট এলে প্রার্থী হয়ে ভোট চুরি করার জন্য দৈহিক শক্তি ব্যবহার করে মস্তান পালেন। শেখ হাসিনা কখন এদের পাহারা দেবেন। এর মধ্যেও অনেক জায়গায় ভালো ভোট হয়। যেমন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের এলাকায় ভালো ভোট হয়। তিনি বারবার নির্বাচিত হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমি আমেরিকায় চিকিৎসা শেষে বাংলাদেশে এসে কিছুদিন আগে ঘোষণা দিয়েছি- আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবো, আমি সাহস করে সত্য কথা বলবো। সে প্রতিশ্রুতি নিয়েই আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। দল আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখানকার দল আমাকে সহযোগিতা করছে। আমি অন্যদের এবং প্রশাসন থেকেও কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। এ নির্বাচনকে আমি অনিয়মের বিরুদ্ধে জনপ্রতিরোধ সৃষ্টি ও জনপ্রতিরোধ গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নির্বাচন করছি। ’

‘আমি অন্যায়, অপরাজনীতির বিরুদ্ধে, নোয়াখালীর ত্যাগী নেতা ও কবিরহাটে আমাদের নিরীহ নেতাকর্মীদের কথা বলি; কোম্পানীগঞ্জের অসহায় ছেলেমেয়েদের চাকরি, এই এলাকার গ্যাসের কথা বলি। যে আমাকে পাগল বলেছেন, গোপালগঞ্জের ৯৯ ভাগ আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এলাকা থেকে এমপি হয়েছেন। আগে মন্ত্রী ছিলেন, এখন নেই। উনার সম্পর্কে সবাই জানেন কী কী অনিয়ম করেছেন। অনিয়ম না করলে তাকে মন্ত্রী বানানো হয়নি কেন? তিনি আবার আমাকে বলেন পাগল-উন্মাদ’, যোগ করেন তিনি।

আবদুল কাদের মির্জা আওয়ামী লীগের নেতাদের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আরেকজন নেতা বলেন, দায়িত্বশীলতার যথেষ্ট ঘাটতি আছে। আপনিতো দায়িত্বশীল ব্যক্তি, আপনার বাড়ি কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যারা ভেঙেছে- আপনি কি দায়িত্বশীল লোক? এগুলো বন্ধ করেন। কি করবেন? বহিষ্কার করবেন? জেলে দেবেন? মেরে ফেলবেন? আমি সারা দেশের কথা বলিনি, আমি আপনাদের কথা বলিনি, আমি বলেছি নোয়াখালী ফেনীর অপরাজনীতির কথা। আপনারা কোনো নিজেদের গায়ের ওপর নিচ্ছেন?

তিনি বলেন, আজকে আমি মনে করি, শেখ হাসিনা অসহায়, কেন অসহায়? শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আজকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে। দেশের মৌলবাদী অপশক্তি, সাম্প্রদায়িক শক্তি আজকে শেখ হাসিনাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আজকে দলের অভ্যন্তরে চাটুকারেরা রাতদিন শেখ হাসিনাকে উত্ত্যক্ত করছে। দল দেখতে হয়, দেশ দেখতে হয়, আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হয়। তার কি সময় আছে আমার এই কোম্পানীগঞ্জ দেখার, নোয়াখালী দেখার, ফেনী দেখার ?

মির্জা কাদের বলেন, দেশের মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সব ব্যবস্থা করতে হবে শেখ হাসিনার। তাহলে আপনাদের কাজ কি? আপনারা কী কী করেছেন? আমি সবার কথা বলি না। ভালো লোক মন্ত্রীদের ভেতরে আছে না হলে দেশ চলে কীভাবে। আমলাদের ভেতরে, সাংবাদিকদের ভেতরে ভালো লোক আছে।

কিন্তু অধিকাংশ আজ শেখ হাসিনাকে অসহযোগিতা করছে। এই চোর নেতাদের যে বিচার হয়েছে, এটা কেউ কি অতীতে করতে পেরেছে? পিন্টুর বিচার কি খালেদা জিয়া করতে পেরেছে? শেখ হাসিনা করেছে। মিথ্যা কথা বলছি? আমি বলেছি ,সাহস করে সত্য কথা বলবো। বিএনপি ওয়ালারা মনে কষ্ট নিলে আমাদের কিছু যায় আসে না, না হয় ভোট দেবেন না, এই তো। পিন্টুর বিচার তারা করেনি কিন্তু শেখ হাসিনা সাহসী, সে পেরেছে। সে বিচার করছে।