• আজ ২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

লোকালয়ে আসাই অপরাধ হনুমানটির!

১০:৪৪ অপরাহ্ন | শনিবার, জানুয়ারী ৯, ২০২১ রংপুর

রবিউল ইসলাম, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গত কয়েক দিন যাবৎ লোকালয়ে এসে মানব শরীরধারী হিংস্র প্রানীর আক্রমনে অতিষ্ট একটি বন্যপ্রানী যে কিনা রক্তে মাংসে গড়া মানুষের হিংস্রতায় হারালো অবশেষে নিজের প্রান।

গাইবান্ধায় বেধরক পিটুনীতে মারা গেলো বিরল প্রজাতির একটি হনুমান।

৯ জানুয়ারী শনিবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার মৌজা মালীবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

হনুমানটিকে খাবার খাইয়ে দেওয়া মিজানুর রহমান একজন বলেন,লোক চক্ষুর দেখা দেওয়ার পর নানা ভাবে উৎসকু জনতা হুনুমানটিকে ভয় দেখানোর কারণে সে এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে হাফিয়ে উঠিছিলো। আমার বাসার প্রাচী পেরিয়ে আসে নিরাপদ মনে করে পিছন দিয়ে এসে আমার শরীরে হাত বুলায় আমি তাকে কলা খাবার দেই ও পানি খেতে দেই এরপর সে আমার বাড়ীর প্রাচী পেরিয়ে আমার বাড়ীর পিছনে পুকুর পাড়ে একটি গাছে উঠে বসে থাকে ।

সন্ধ্যার পর তাকে আর সেখানে দেখা যায়নি । সে খুব শান্ত সৃষ্ট ছিলো তবে উৎসক জনতার তাকে দেখে চিল্লাচিল্লি ও তাকে লক্ষ করে ঢিলছোড়ায় সে অনেকটা ভয় ছোটাছোটি করলে উৎসক মানুষ তাকে দেখতে তার পিছে ধাওয়া করায় সে আসলে কোন স্থানেই নিরাপত্তা পাইনি। তিনি আরও বলেন, হনুমানটিকে পিটিয়ে মারা ঘটনাটি দুঃখজনক মানুষ একটি অবলা পশুকে এভাবে মারতে পারলো ,ভাবতে পারি না আমরা কেমন মানুষ যে আমাদের নিকট একটি বন্যপ্রানীও আজ নিরাপদ নয়।

এলাকাবাসী জানান, বিরল প্রজাতির একটি হনুমান গতকাল ৭ জানুয়ারী শুক্রবার প্রথম গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান মাস্টারের বাড়ির পাশে গাছে, কখনও মাটিতে অবস্থান করে। উৎসুক জনতা তার উপর আক্রমণ চালায়।জীবনের ভয়ে গাছের ডালে ডালে ঘোরাঘোরি করে। হনুমানটিকে উদ্ধারে প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও বনবিভাগের কর্মকর্তারা এগিয়ে আসবেন এমনটি মনে করেছিলেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাসহ সচেতন মহল। এসময় হতে সে লোক চক্ষু দৃষ্ট হওয়ার পর হতে শিশু কিশোরদের ধাওয়ায় হনুমানটি সন্ধ্যা পর্যন্ত বারবার স্থান পরিবর্তন করতে থাকে।

এরপর শনিবার দুপুরে পার্শ্ববর্তী লক্ষিপুর ইউনিয়নের মৌজা মালীবাড়ী গ্রামের একটি বেগুন ক্ষেতে হনুমানটি আশ্রয় নেয়। এসময় গ্রামের শিশু কিশোরদের পিটুনীতে মারাত্বক আহত হয় হনুমানটি। পরে গ্রামবাসী পশু চিকিৎসক ডেকে এনে আহত হনুমানটির চিকিৎসা দিলেও বাঁচানো যায়নি বিরল প্রজাতির হনুমানটিকে। ধারনা করা হচ্ছে সীমান্তবর্তী জেলা থেকে হনুমানটি পন্যবাহী ট্রাকে করে এ জেলায় এসেছিল।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনা খুবই দুঃখজনক এবং হতাশার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি আমাদেরকে জানালে হনুমানটি উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া যেত এবং হনুমানটিকে বনবিভাগের মাধ্যমে দিনাজপুরের সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা যেত।

উল্লেখ্য, বিরল প্রজাতির একটি হনুমান গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটী ইউনিয়নের বারুইপাড়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান মাস্টারের বাড়ির পাশে গাছে, কখনও মাটিতে অবস্থান করে। উৎসুক জনতা তার উপর আক্রমণ চালায়।জীবনের ভয়ে গাছের ডালে ডালে ঘোরাঘোরি করে।
এর আগে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থান থেকে বিরল প্রজাতির শকুন উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে দিনাজপুর শকুন লালন পালন উদ্যানে হস্তান্তর করার নজিরও রয়েছে।